স্পোর্টস ডেস্ক :
ফজলহক ফারুকি বা আফগানিস্তান দল কি তাহলে সমীকরণটা জানতেন না! ৩৮তম ওভারের প্রথম বলে মুজিব উর রহমান আউট হওয়ার পরও সুপার ফোরে যাওয়ার সুযোগ ছিল আফগানিস্তানের। সেক্ষেত্রে ২৯২ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিং করা আফগানদের ৩৭.৪ ওভারের মধ্যে করতে হতো ২৯৫ রান।
এমনকি ম্যাচ টাই হওয়ার পর, মানে ২৯১ রান করার পর ছক্কা মারলে সুযোগটি ছিল ৩৮.১ ওভার পর্যন্ত। কিন্তু নিজে বড় শট খেলা বা সিঙ্গেল নিয়ে রশিদ খানকে স্ট্রাইকে দেওয়ার কোনো চেষ্টাই করলেন না ফারুকি। উল্টো চতুর্থ বলে এলবিডব্লিউ হয়ে যাওয়াতে ২ রানে হেরেই গেল আফগানিস্তান। ফলে তাদেরকে টপকে সুপার ফোরে বাংলাদেশের সঙ্গী হচ্ছে শ্রীলঙ্কাই।
২৯২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ইনিংসের শুরুতেই চাপে পড়ে আফগানিস্তান। ওপেনার রহমানুল্লাহ তৃতীয় ওভারেই ফিরেন সাজঘরে। কাশুন রাজিথার বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে মাত্র ৪ রান করে ফিরেন গুরবাজ। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে ক্রিজে নামেন গুল্বাদিন নায়েব।
এই অলরাউন্ডার রান রেটের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে শুরু থেকেই ব্যাট চালিয়ে যান। তবে ইনিংসের পঞ্চম ওভারে আরেক ওপেনার ইব্রাহিম জাদরান রাজিথার শিকার হয়ে সাজঘরে ফিরেন। পাওয়ার প্লেতে ক্যামিও ইনিংস খেলে প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন নায়েবও।
দলীয় ৫০ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে এক প্রকার ছিটকে যায় আফগানিস্তান। কিন্তু চতুর্থ উইকেট জুটিতে ম্যাচের হাল ধরেন রহমত শাহ ও অধিনায়ক হাশমতউল্লাহ শহীদি। দলীয় ১২১ রানে রহমত শাহ ফিরে গেলেও আফগানদের ম্যাচে ফেরায় মোহাম্মদ নবী।
এই ডানহাতি ব্যাটারের ৩২ বলে ৬৫ রানের ঝড়ো ইনিংসে ইতিহাস গড়ার দ্বারপ্রান্তে চলে যায় রশিদ খানরা। ২৭তম ওভারে শেষ দিকে মাহেশ থিকসানার স্পিনে নবী কাটা পড়লেও আফগানরা খেই হারায় নি। করিম জানাত, নাজিবুল্লাহ জাদরান ও রশিদ খানের ছোট ক্যামিও ইনিংসে ইতিহাস গড়ার হাতছানি দিয়েও ব্যর্থ হয় আফগানিস্তান।
শেষ ৭ বলে ১৬ রানের সমীকরণ দাঁড়ায় আফগানিস্তানের সামনে। রশিদ সে সময় দুনিত ভেল্লালাগের ওভারের প্রথম দুই বলই মিস করেন। এরপরের ৪ বলে ৩ চার মেরে আশা বাঁচিয়ে রাখেন রশিদ। তবে পরের বলে জয়ের জন্য দরকার ৩ রান, সে বলেই আউট মুজিব। নন-স্ট্রাইক প্রান্তে থাকা রশিদের হতাশাই বলছিল, তখনো যে সুযোগ আছে সেটি তারা জানতেন না। শেষ পর্যন্ত ৩৮তম ওভারে ২৮৯ রানে পুরো দল গুটিয়ে যায়। ফলে ২ রানের জয়ে সুপার ফোর নিশ্চিত হয় শ্রীলঙ্কা।
এর আগে লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে টস জিতে ব্যাটিং বেছে নেয় শ্রীলঙ্কা। দুই ওপেনার পাথুম নিশাঙ্কা আর দিমুথ করুনারত্নে শুরুটা ভালোই করেন। ৬২ বলের উদ্বোধনী জুটিতে তারা তোলেন ৬৩ রান।
এরপর হঠাৎ ঝড় আফগান পেসার গুলবাদিন নাইবের। ৩৫ বলে ৩২ করা করুনারত্নেকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন। ৪০ বলে ৪১ রানে ফেরেন নিশাঙ্কাও। এরপর সাদিরা সামারাবিক্রমাকে (৩) সাজঘরে ফিরিয়ে লঙ্কানদের বড় ধাক্কা দেন গুলবাদিন। ২৩ রানের ব্যবধানে ৩টি উইকেট হারায় লঙ্কানরা।
৮৬ রানে ৩ উইকেট হারিয়েছিল শ্রীলঙ্কা। সেখান থেকে চারিথ আসালাঙ্কাকে নিয়ে চতুর্থ উইকেটে ১০২ রান যোগ করেন কুশল মেন্ডিস। এই জুটিতেই বড় সংগ্রহের ভিত পেয়ে গেছে লঙ্কানরা।
আসালাঙ্কাকে (৩৬) ফিরতি ক্যাচ বানিয়ে জুটিটি ভাঙেন রশিদ খান। ধনঞ্জয়া ডি সিলভাকে (১৪) বোল্ড করেন মুজিব উর রহমান। কুশল মেন্ডিস মারকুটে ব্যাটিংয়ে সেঞ্চুরির দোরগোড়ায় পৌঁছে গিয়েছিলেন। কিন্তু দুর্ভাগ্য তার।
রানআউটে সেঞ্চুরির স্বপ্ন কাটা পড়ে মেন্ডিসের। ৮৪ বলে ৬ চার আর ৩ ছক্কায় উইকেটরক্ষক এই ব্যাটার আউট হন ৯২ করে। এরপর অধিনায়ক দাসুন শানাকাকে (৫) বোল্ড করেন রশিদ খান। ৬ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ফের চাপে পড়ে লঙ্কানরা।
২২৭ রানে ৭ উইকেট হারানো দলকে এরপর টেনে নিয়েছেন লোয়ার অর্ডারের দুনিথ ওয়াল্লালাগে আর মাহিশ থিকসানা। অষ্টম উইকেটে ৬৩ বলে ৬৪ যোগ করে দেন তারা। ইনিংসের শেষ বলে আউট হন থিকসানা (২৮)। ৩৩ রানে অপরাজিত থাকেন ওয়াল্লালাগে। আফগানিস্তানের হয়ে ১০ ওভারে ৬০ রান দিয়ে ৪ উইকেট শিকার করেছেন গুলবাদিন নাইব। দুটি উইকেট শিকার করতে রশিদ খান খরচ করেছেন ৬৩ রান। এছাড়াও মুজিবউর রহমান নিয়েছেন একটি উইকেট।