Dhaka বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আলবাসেতেকে থামিয়ে সেমিতে বার্সেলোনা

  • স্পোর্টস ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : ১২:৩৬:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১৭৭ জন দেখেছেন

স্পোর্টস ডেস্ক :

সেল্তা ভিগো ও রিয়াল মাদ্রিদকে বিদায় করে দেওয়া আলবাসেতের স্বপ্ন যাত্রা থামাল বার্সেলোনা। অনেক সুযোগ নষ্ট হওয়ার ম্যাচে কোনোমতে জিতে কোপা দেল রের সেমি-ফাইনালে উঠল হান্সি ফ্লিকের দল।

প্রতিপক্ষের মাঠে মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে কোয়ার্টার-ফাইনালে ২-১ গোলে জিতেছে বার্সেলোনা।

প্রথমার্ধে লামিনে ইয়ামাল দলকে এগিয়ে নেওয়ার পর, দ্বিতীয়ার্ধে ব্যবধান বাড়ান রোনাল্দ আরাউহো। শেষ দিকে হাভিয়ের মোরেনো চমৎকার গোলে ম্যাচ জমিয়ে দিলেও, শেষরক্ষা করতে পারেনি আলবাসেতে।

৭৩ শতাংশের বেশি সময় বল দখলে রেখে গোলের জন্য ১৭টি শট নেয় বার্সেলোনা, এর সাতটি ছিল লক্ষ্যে। অন্যদিকে আলবাসেতে সাত শটের তিনটি রাখতে পারে লক্ষ্যে।

ঢিমেতালে শুরু হওয়া ম্যাচে প্রথম সুযোগ পায় বার্সেলোনা। সপ্তম মিনিটে শট লক্ষ্যে রাখতে পারেননি মার্কাস র্যাশফোর্ড। দুই মিনিট পর আলবাসেতের আন্তোনিও পুয়ের্তাসের শট যায় সরাসরি হোয়ান গার্সিয়ার গ্লাভসে।

বার্সেলোনার আক্রমণে ছিল না চেনা ধার। বল দখলে অনেক এগিয়ে থাকলেও, খুব একটা সুযোগ তৈরি করতে পারছিল না স্প্যানিশ চ্যাম্পিয়নরা। র্যাশফোর্ডের কয়েকটি ক্রসের নাগাল পাননি রবের্ত লেভানদোভস্কি।

৩৯তম মিনিটে ‘ডেডলক’ ভাঙে সফরকারীরা। প্রতিপক্ষের রক্ষণে বল কেড়ে নেন র্যাশফোর্ড। তার কাছ থেকে বল পেয়ে ফ্রেংকি ডি ইয়ং খুঁজে নেন ইয়ামালকে। তরুণ ফরোয়ার্ড দারুণ ভলিতে এগিয়ে নেন দলকে।

যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে হেড লক্ষ্যে রাখতে পারেননি দানি ওলমো।

প্রতি-আক্রমণ থেকে দারুণ কিছু সুযোগ পেয়েছিল আলবাসেতে। কিন্তু প্রথমার্ধে এর কোনোটিই কাজে লাগাতে পারেনি তারা।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ব্যবধান দ্বিগুণ করার সুযোগ পান ওলমো। কিন্তু ৪৭তম মিনিটে র্যাশফোর্ডের ক্রসে তার শট গোললাইন থেকে ফিরিয়ে দেন আলবাসেতের দানি বের্নাবেউ।

দুই মিনিট পর পুয়ের্তার শট ডি ইয়ংয়ের গায়ে লেগে দিক পাল্টে দূরের পোস্ট ঘেঁষে বেরিয়ে যায়।

আলবাসেতেকে প্রবল চাপে রাখা বার্সেলোনা ব্যবধান দ্বিগুণ করে ৫৬তম মিনিটে। র্যাশফোর্ডের কর্নারে চমৎকার হেডে জাল খুঁজে নেন আরাউহো। চলতি মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে অভিজ্ঞ ডিফেন্ডারের এটি তৃতীয় গোল।

৬৩তম মিনিটে ব্যবধান কমানোর দারুণ সুযোগ হাতছাড়া করেন রেয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে আলবাসেতের জয়ের নায়ক হেফতে বেতানকর। ডি-বক্স থেকে বাঁকানো শট লক্ষ্যে রাখতে পারেননি তিনি।

কয়েক সেকেন্ড পর ওলমোর শট কর্নারের বিনিময়ে ঠেকান স্বাগতিক গোলরক্ষক রাউল লিথোয়াইন। পরের চার মিনিটে বার্সেলোনার আরও দুটি দারুণ সুযোগ ব্যর্থ করে দেন তিনি।

৭২তম মিনিটে খুব কাছ থেকে হেড লক্ষ্যে রাখতে পারেননি অরক্ষিত বেতানকর। পাঁচ মিনিট পর অস্বস্তি নিয়ে মাঠ ছাড়েন আরাউহো, তার জায়গায় নামেন জুল কুন্দে।

দুই মিনিট পর আরেকটি গোল পেতে পারত বার্সেলোনা। তবে বিপজ্জনক জায়গা থেকে গোলরক্ষক বরাবর শট নিয়ে দলকে হতাশ করেন লেভানদোভস্কি।

৮৩তম মিনিটে বার্সেলোনার জালে বল পাঠালেও, অফসাইডের জন্য গোল পায়নি আলবাসেতে। তবে চার মিনিট পর মোরেনোর দুর্দান্ত ডাইভিং হেডে ব্যবধান কমিয়ে ম্যাচে রোমাঞ্চ ফেরায় দলটি।

৯০তম মিনিটে আলবাসেতের জালে বল পাঠান ফেররান তরেস। তবে তিনিই অফসাইডে থাকায় গোল মেলেনি।

যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে সমতা প্রায় ফিরিয়েই ফেলেছিল আলবাসেতে। হোয়ান গার্সিয়া কোনোমতে গতি কমিয়ে দেওয়ার পর, গোললাইন থেকে ফ্রান গামেসের শট হেডে ফিরিয়ে দেন জেরার্দ মার্তিন।

স্নায়ুচাপের কঠিন সময় কাটিয়ে শেষ চারে জায়গা করে নেয় বার্সেলোনা।

ম্যাচশেষে সন্তুষ্ট হান্সি ফ্লিক বলেন, “এই ধরনের ম্যাচ জিততেই হয়। আমরা সেমিফাইনালে উঠেছি, সেটাই সবচেয়ে বড় কথা। ম্যাচটি কঠিন ছিল, সুযোগও অনেক নষ্ট করেছি, তবে দলের ওপর আমি গর্বিত। আমরা প্রতি তিনদিনে একবার করে ম্যাচ খেলছি, এই ব্যস্ত সূচির মধ্যেও দল লড়াই করে যাচ্ছে।”

শেষ দিকে চাপ বাড়ার কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, “এক সপ্তাহেরও কম সময়ে তিনটি ম্যাচ খেলেছি। স্বাভাবিকভাবেই শেষ দিকে কিছুটা চাপ ছিল। তবু আমরা প্রথম ও দ্বিতীয়ার্ধে আধিপত্য বজায় রেখেছি এবং জয়টা প্রাপ্য ছিল।”

আরাহোর প্রত্যাবর্তন নিয়েও ইতিবাচক মন্তব্য করেন ফ্লিক। তিনি বলেন, “আরাহোকে ধাপে ধাপে এগোতে হবে। সে আত্মবিশ্বাস ফিরে পাচ্ছে, দলও তার পাশে আছে।” এছাড়া তরুণ খেলোয়াড়দের প্রসঙ্গে ধৈর্যের বার্তা দিয়ে জানান, ধাপে ধাপেই দল গড়ে উঠছে।

বর্তমান মৌসুমে বার্সেলোনার অবস্থান নিয়েও সন্তুষ্ট ফ্লিক, “কোপা দেল রে সেমিফাইনাল, চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেরা আটে থাকা, লা লিগায় শীর্ষস্থান, আমরা আমাদের লক্ষ্য পূরণের পথেই আছি।”

 

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

আলবাসেতেকে থামিয়ে সেমিতে বার্সেলোনা

প্রকাশের সময় : ১২:৩৬:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

স্পোর্টস ডেস্ক :

সেল্তা ভিগো ও রিয়াল মাদ্রিদকে বিদায় করে দেওয়া আলবাসেতের স্বপ্ন যাত্রা থামাল বার্সেলোনা। অনেক সুযোগ নষ্ট হওয়ার ম্যাচে কোনোমতে জিতে কোপা দেল রের সেমি-ফাইনালে উঠল হান্সি ফ্লিকের দল।

প্রতিপক্ষের মাঠে মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে কোয়ার্টার-ফাইনালে ২-১ গোলে জিতেছে বার্সেলোনা।

প্রথমার্ধে লামিনে ইয়ামাল দলকে এগিয়ে নেওয়ার পর, দ্বিতীয়ার্ধে ব্যবধান বাড়ান রোনাল্দ আরাউহো। শেষ দিকে হাভিয়ের মোরেনো চমৎকার গোলে ম্যাচ জমিয়ে দিলেও, শেষরক্ষা করতে পারেনি আলবাসেতে।

৭৩ শতাংশের বেশি সময় বল দখলে রেখে গোলের জন্য ১৭টি শট নেয় বার্সেলোনা, এর সাতটি ছিল লক্ষ্যে। অন্যদিকে আলবাসেতে সাত শটের তিনটি রাখতে পারে লক্ষ্যে।

ঢিমেতালে শুরু হওয়া ম্যাচে প্রথম সুযোগ পায় বার্সেলোনা। সপ্তম মিনিটে শট লক্ষ্যে রাখতে পারেননি মার্কাস র্যাশফোর্ড। দুই মিনিট পর আলবাসেতের আন্তোনিও পুয়ের্তাসের শট যায় সরাসরি হোয়ান গার্সিয়ার গ্লাভসে।

বার্সেলোনার আক্রমণে ছিল না চেনা ধার। বল দখলে অনেক এগিয়ে থাকলেও, খুব একটা সুযোগ তৈরি করতে পারছিল না স্প্যানিশ চ্যাম্পিয়নরা। র্যাশফোর্ডের কয়েকটি ক্রসের নাগাল পাননি রবের্ত লেভানদোভস্কি।

৩৯তম মিনিটে ‘ডেডলক’ ভাঙে সফরকারীরা। প্রতিপক্ষের রক্ষণে বল কেড়ে নেন র্যাশফোর্ড। তার কাছ থেকে বল পেয়ে ফ্রেংকি ডি ইয়ং খুঁজে নেন ইয়ামালকে। তরুণ ফরোয়ার্ড দারুণ ভলিতে এগিয়ে নেন দলকে।

যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে হেড লক্ষ্যে রাখতে পারেননি দানি ওলমো।

প্রতি-আক্রমণ থেকে দারুণ কিছু সুযোগ পেয়েছিল আলবাসেতে। কিন্তু প্রথমার্ধে এর কোনোটিই কাজে লাগাতে পারেনি তারা।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ব্যবধান দ্বিগুণ করার সুযোগ পান ওলমো। কিন্তু ৪৭তম মিনিটে র্যাশফোর্ডের ক্রসে তার শট গোললাইন থেকে ফিরিয়ে দেন আলবাসেতের দানি বের্নাবেউ।

দুই মিনিট পর পুয়ের্তার শট ডি ইয়ংয়ের গায়ে লেগে দিক পাল্টে দূরের পোস্ট ঘেঁষে বেরিয়ে যায়।

আলবাসেতেকে প্রবল চাপে রাখা বার্সেলোনা ব্যবধান দ্বিগুণ করে ৫৬তম মিনিটে। র্যাশফোর্ডের কর্নারে চমৎকার হেডে জাল খুঁজে নেন আরাউহো। চলতি মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে অভিজ্ঞ ডিফেন্ডারের এটি তৃতীয় গোল।

৬৩তম মিনিটে ব্যবধান কমানোর দারুণ সুযোগ হাতছাড়া করেন রেয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে আলবাসেতের জয়ের নায়ক হেফতে বেতানকর। ডি-বক্স থেকে বাঁকানো শট লক্ষ্যে রাখতে পারেননি তিনি।

কয়েক সেকেন্ড পর ওলমোর শট কর্নারের বিনিময়ে ঠেকান স্বাগতিক গোলরক্ষক রাউল লিথোয়াইন। পরের চার মিনিটে বার্সেলোনার আরও দুটি দারুণ সুযোগ ব্যর্থ করে দেন তিনি।

৭২তম মিনিটে খুব কাছ থেকে হেড লক্ষ্যে রাখতে পারেননি অরক্ষিত বেতানকর। পাঁচ মিনিট পর অস্বস্তি নিয়ে মাঠ ছাড়েন আরাউহো, তার জায়গায় নামেন জুল কুন্দে।

দুই মিনিট পর আরেকটি গোল পেতে পারত বার্সেলোনা। তবে বিপজ্জনক জায়গা থেকে গোলরক্ষক বরাবর শট নিয়ে দলকে হতাশ করেন লেভানদোভস্কি।

৮৩তম মিনিটে বার্সেলোনার জালে বল পাঠালেও, অফসাইডের জন্য গোল পায়নি আলবাসেতে। তবে চার মিনিট পর মোরেনোর দুর্দান্ত ডাইভিং হেডে ব্যবধান কমিয়ে ম্যাচে রোমাঞ্চ ফেরায় দলটি।

৯০তম মিনিটে আলবাসেতের জালে বল পাঠান ফেররান তরেস। তবে তিনিই অফসাইডে থাকায় গোল মেলেনি।

যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে সমতা প্রায় ফিরিয়েই ফেলেছিল আলবাসেতে। হোয়ান গার্সিয়া কোনোমতে গতি কমিয়ে দেওয়ার পর, গোললাইন থেকে ফ্রান গামেসের শট হেডে ফিরিয়ে দেন জেরার্দ মার্তিন।

স্নায়ুচাপের কঠিন সময় কাটিয়ে শেষ চারে জায়গা করে নেয় বার্সেলোনা।

ম্যাচশেষে সন্তুষ্ট হান্সি ফ্লিক বলেন, “এই ধরনের ম্যাচ জিততেই হয়। আমরা সেমিফাইনালে উঠেছি, সেটাই সবচেয়ে বড় কথা। ম্যাচটি কঠিন ছিল, সুযোগও অনেক নষ্ট করেছি, তবে দলের ওপর আমি গর্বিত। আমরা প্রতি তিনদিনে একবার করে ম্যাচ খেলছি, এই ব্যস্ত সূচির মধ্যেও দল লড়াই করে যাচ্ছে।”

শেষ দিকে চাপ বাড়ার কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, “এক সপ্তাহেরও কম সময়ে তিনটি ম্যাচ খেলেছি। স্বাভাবিকভাবেই শেষ দিকে কিছুটা চাপ ছিল। তবু আমরা প্রথম ও দ্বিতীয়ার্ধে আধিপত্য বজায় রেখেছি এবং জয়টা প্রাপ্য ছিল।”

আরাহোর প্রত্যাবর্তন নিয়েও ইতিবাচক মন্তব্য করেন ফ্লিক। তিনি বলেন, “আরাহোকে ধাপে ধাপে এগোতে হবে। সে আত্মবিশ্বাস ফিরে পাচ্ছে, দলও তার পাশে আছে।” এছাড়া তরুণ খেলোয়াড়দের প্রসঙ্গে ধৈর্যের বার্তা দিয়ে জানান, ধাপে ধাপেই দল গড়ে উঠছে।

বর্তমান মৌসুমে বার্সেলোনার অবস্থান নিয়েও সন্তুষ্ট ফ্লিক, “কোপা দেল রে সেমিফাইনাল, চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেরা আটে থাকা, লা লিগায় শীর্ষস্থান, আমরা আমাদের লক্ষ্য পূরণের পথেই আছি।”