Dhaka বৃহস্পতিবার, ০৮ জানুয়ারী ২০২৬, ২৪ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আমরা চাই না জাতীয় পার্টি নির্বাচনে থাকুক : ইসিকে আসিফ মাহমুদ

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টিকে (জাপা) না রাখার দাবি জানিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া বলেন, জাতীয় পার্টি বিগত ফ্যাসিবাদের সহযোগী ছিল। নির্বাচন কমিশনকে পরিষ্কারভাবে বলেছি, আমরা চাই না তারা নির্বাচনে থাকুক।

মঙ্গলবার (০৬ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

আসিফ মাহমুদ বলেন, জাতীয় পার্টি বিগত ফ্যাসিবাদের সহযোগী ছিল। আমরা চাই না তারা নির্বাচনে থাকুক, কমিশনকে পরিষ্কারভাবে এই কথা বলেছি। আমরা আগেও বলেছি, নির্বাচনের মাধ্যমে তাদের কোনো ধরনের পুনর্বাসন আমরা চাই না।

নাগরিক পার্টির এই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশনের অবস্থান কী এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কমিশন আমাদের কথা শুনেছে। তারা জানিয়েছে, আইনের মধ্যে থেকে বিধিবদ্ধভাবে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচন হওয়া নিয়ে শঙ্কার কথা জানিয়ে এনসিপির এ মুখপাত্র বলেন, এখনো যখন রাস্তায় বের হই, মানুষ জিজ্ঞাস করে—নির্বাচন হবে কি না। এটি অন্তর্বর্তী সরকার ও ইসির ব্যর্থতা—তারা মানুষকে ওই আত্মবিশ্বাস দিতে পারেনি। এজন্য ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হবে কি হবে না তা নিয়ে মানুষের মধ্যে শঙ্কা আছে।

ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হওয়া নিয়ে এনসিপিতে কোনো শঙ্কা আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা যখন দেখি একজন প্রার্থীকে যেখানে শুনানি হওয়ার কথা সেখানে ঘাড় ধাক্কা দেওয়া হচ্ছে, তখন স্পষ্টভাবে এই শঙ্কা আমাদের মধ্যেও কাজ করে। আমরা যখন দেখি বিভিন্ন এলাকায় সন্ত্রাসীরা ঘুরে বেড়াচ্ছে, বিভিন্ন জায়গায় প্রশাসন পক্ষপাতিত্ব করছে, তখন এই শঙ্কাগুলো আমাদের মধ্যে অবশ্যই আছে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি হতাশাজনক উল্লেখ করে আসিফ মাহমুদ বলেন, তফসিলের পরদিন চিহ্নিত আসামির হাতে ওসমান হাদি শহীদ হয়েছেন। ফলে নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা আরও বেশি তৈরি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দৃশ্যমান উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে না। আগে যেমন ছিল এখনো তা-ই দেখা যাচ্ছে।

পাতানো ভোটের লক্ষণ দেখা দিলে রাজপথে নামার হুঁশিয়ারি দিয়ে এনসিপির এ নেতা বলেন, ভোটের সুষ্ঠু পরিবেশ নিয়ে ইসির ওপর আস্থা রাখতে বলা হচ্ছে। তবে কথায় নয় তাদের কাজের মাধ্যমে আস্থা ফিরবে কি না সেটা আমরা দেখবো। আমরা যদি দেখি ইসি নির্বাচনকে একতরফা আয়োজনের দিকে নিয়ে যাচ্ছে, যদি আরেকটি পাতানো নির্বাচনের প্লট সাজানো হয়, অবশ্যই আমাদের রাজপথ বেছে নিতে হবে।

‘একটি পার্টির অফিসে নিয়মবহির্ভূতভাবে অনেক সরকারি কর্মকর্তা ও গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানরা যাওয়া-আসা শুরু করেছেন’—যোগ করেন আসিফ মাহমুদ।

ভোটাধিকার প্রসঙ্গে আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘গত তিনটি নির্বাচনে দেশের মানুষ ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এবার যেন কোনোভাবেই তা না হয়, সে জন্য আমরা শেষ পর্যন্ত চেষ্টা করব নির্বাচন কমিশন ও সরকারের সঙ্গে সহযোগিতার মাধ্যমে। তবে তা সম্ভব না হলে আন্দোলনের পথ বেছে নিতে বাধ্য হব।’

গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানের রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ে সাক্ষাৎ প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা দেখেছি এনএসআই প্রধান একটি দলের প্রধানের সঙ্গে তাদের পার্টি অফিসে গিয়ে সাক্ষাৎ করেছেন। নিরাপত্তাজনিত কারণে সাক্ষাৎ হতে পারে, কিন্তু পার্টি অফিসে গিয়ে তা করা আমাদের কাছে অশনি সংকেত।’

এদিকে পঞ্চগড়-১ আসনে এনসিপি প্রার্থী সারজিস আলমের হলফনামা ও আয়কর রিটার্নে সম্পদের তথ্যের গরমিলের অভিযোগ প্রসঙ্গে আসিফ মাহমুদ বলেন, আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়া হয় জুন মাসে। ছয় মাসে একজন প্রার্থীর আয়ের পরিবর্তন হওয়াই স্বাভাবিক। বিষয়টিকে অতিরঞ্জিত করে ভিন্নভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

আমরা চাই না জাতীয় পার্টি নির্বাচনে থাকুক : ইসিকে আসিফ মাহমুদ

প্রকাশের সময় : ০৬:৩৪:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টিকে (জাপা) না রাখার দাবি জানিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া বলেন, জাতীয় পার্টি বিগত ফ্যাসিবাদের সহযোগী ছিল। নির্বাচন কমিশনকে পরিষ্কারভাবে বলেছি, আমরা চাই না তারা নির্বাচনে থাকুক।

মঙ্গলবার (০৬ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

আসিফ মাহমুদ বলেন, জাতীয় পার্টি বিগত ফ্যাসিবাদের সহযোগী ছিল। আমরা চাই না তারা নির্বাচনে থাকুক, কমিশনকে পরিষ্কারভাবে এই কথা বলেছি। আমরা আগেও বলেছি, নির্বাচনের মাধ্যমে তাদের কোনো ধরনের পুনর্বাসন আমরা চাই না।

নাগরিক পার্টির এই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশনের অবস্থান কী এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কমিশন আমাদের কথা শুনেছে। তারা জানিয়েছে, আইনের মধ্যে থেকে বিধিবদ্ধভাবে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচন হওয়া নিয়ে শঙ্কার কথা জানিয়ে এনসিপির এ মুখপাত্র বলেন, এখনো যখন রাস্তায় বের হই, মানুষ জিজ্ঞাস করে—নির্বাচন হবে কি না। এটি অন্তর্বর্তী সরকার ও ইসির ব্যর্থতা—তারা মানুষকে ওই আত্মবিশ্বাস দিতে পারেনি। এজন্য ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হবে কি হবে না তা নিয়ে মানুষের মধ্যে শঙ্কা আছে।

ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হওয়া নিয়ে এনসিপিতে কোনো শঙ্কা আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা যখন দেখি একজন প্রার্থীকে যেখানে শুনানি হওয়ার কথা সেখানে ঘাড় ধাক্কা দেওয়া হচ্ছে, তখন স্পষ্টভাবে এই শঙ্কা আমাদের মধ্যেও কাজ করে। আমরা যখন দেখি বিভিন্ন এলাকায় সন্ত্রাসীরা ঘুরে বেড়াচ্ছে, বিভিন্ন জায়গায় প্রশাসন পক্ষপাতিত্ব করছে, তখন এই শঙ্কাগুলো আমাদের মধ্যে অবশ্যই আছে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি হতাশাজনক উল্লেখ করে আসিফ মাহমুদ বলেন, তফসিলের পরদিন চিহ্নিত আসামির হাতে ওসমান হাদি শহীদ হয়েছেন। ফলে নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা আরও বেশি তৈরি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দৃশ্যমান উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে না। আগে যেমন ছিল এখনো তা-ই দেখা যাচ্ছে।

পাতানো ভোটের লক্ষণ দেখা দিলে রাজপথে নামার হুঁশিয়ারি দিয়ে এনসিপির এ নেতা বলেন, ভোটের সুষ্ঠু পরিবেশ নিয়ে ইসির ওপর আস্থা রাখতে বলা হচ্ছে। তবে কথায় নয় তাদের কাজের মাধ্যমে আস্থা ফিরবে কি না সেটা আমরা দেখবো। আমরা যদি দেখি ইসি নির্বাচনকে একতরফা আয়োজনের দিকে নিয়ে যাচ্ছে, যদি আরেকটি পাতানো নির্বাচনের প্লট সাজানো হয়, অবশ্যই আমাদের রাজপথ বেছে নিতে হবে।

‘একটি পার্টির অফিসে নিয়মবহির্ভূতভাবে অনেক সরকারি কর্মকর্তা ও গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানরা যাওয়া-আসা শুরু করেছেন’—যোগ করেন আসিফ মাহমুদ।

ভোটাধিকার প্রসঙ্গে আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘গত তিনটি নির্বাচনে দেশের মানুষ ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এবার যেন কোনোভাবেই তা না হয়, সে জন্য আমরা শেষ পর্যন্ত চেষ্টা করব নির্বাচন কমিশন ও সরকারের সঙ্গে সহযোগিতার মাধ্যমে। তবে তা সম্ভব না হলে আন্দোলনের পথ বেছে নিতে বাধ্য হব।’

গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানের রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ে সাক্ষাৎ প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা দেখেছি এনএসআই প্রধান একটি দলের প্রধানের সঙ্গে তাদের পার্টি অফিসে গিয়ে সাক্ষাৎ করেছেন। নিরাপত্তাজনিত কারণে সাক্ষাৎ হতে পারে, কিন্তু পার্টি অফিসে গিয়ে তা করা আমাদের কাছে অশনি সংকেত।’

এদিকে পঞ্চগড়-১ আসনে এনসিপি প্রার্থী সারজিস আলমের হলফনামা ও আয়কর রিটার্নে সম্পদের তথ্যের গরমিলের অভিযোগ প্রসঙ্গে আসিফ মাহমুদ বলেন, আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়া হয় জুন মাসে। ছয় মাসে একজন প্রার্থীর আয়ের পরিবর্তন হওয়াই স্বাভাবিক। বিষয়টিকে অতিরঞ্জিত করে ভিন্নভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।