Dhaka রবিবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৫, ১৬ ভাদ্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আবারো স্থানীয়দের সঙ্গে চবি শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ, সহ-উপাচার্যসহ আহত বেশ কয়েকজন

  • চবি প্রতিনিধি
  • প্রকাশের সময় : ০৩:৩৪:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৫
  • ১৮০ জন দেখেছেন

চবি প্রতিনিধি : 

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) ফের স্থানীয় ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে দুই পক্ষের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া এবং ঢিল ছোড়াছোড়ির মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক কামাল উদ্দিনসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

রাতে সংঘর্ষের পর স্থানীয় লোকজন সকালে আবার সড়কে অবস্থান নিতে শুরু করে। দুই নম্বর গেইট এলাকার বিভিন্ন ভাড়া বাসায় বিশ্ববিদ্যালয়ের যে শিক্ষার্থীরা থাকেন, তারা যার যার বাসায় আটকা পড়ে যান।

রোববার (৩১ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেট সংলগ্ন উত্তরা আবাসিক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

বেলা ১১টার পর ক্যাম্পাস থেকে ছোট ছোট দলে শিক্ষার্থীরা ওই এলাকায় যাওয়া শুরু করেন। ১২টার দিকে শিক্ষার্থীরা একজোট হয়ে দুই নম্বর গেইট এলাকায় গেলে ফের স্থানীয়দের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়।

ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এক প্রান্তে কয়েক শ শিক্ষার্থী অবস্থান নেন। বিপরীত দিকে ছিলেন এলাকাবাসী। দুই পক্ষই পাল্টাপাল্টি স্লোগান দিতে থাকেন। এ সময় সহ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান, মো. কামাল উদ্দিন, প্রক্টর তানভীর মোহাম্মদ হায়দার আরিফসহ শিক্ষকেরা দুই পক্ষকে বোঝানোর চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু হয়। ইটের আঘাতে আহত অবস্থায় শিক্ষার্থীকে ক্যাম্পাসের দিকে নিয়ে যেতে দেখা যায়। তাঁদের মাথা থেকে রক্ত ঝরছিল। তবে ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাউকে দেখা যায়নি।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত একজন বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে থেমে থেমে সংঘর্ষ চলছে। দুই পক্ষ দুই দিকে লাঠিসোঁটা নিয়ে অবস্থান নিয়েছেন এবং ঢিল ছুড়ছে।

ফের চবি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্থানীয়দের সংঘর্ষ, উপ-উপাচার্য ও প্রক্টর আহত

ঘটনাস্থলে উপস্থিত বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, রাতের ঘটনার প্রতিবাদে সকাল থেকে ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন করছে। বেলা ১২টার দিকে দুই নম্বর গেট এলাকায় আন্দোলনের জেরে ফের সংঘর্ষ শুরু হয়। এরপর ঘটনাস্থলে উপ-উপাচার্য, প্রক্টর-সহ অনেক শিক্ষার্থী আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তাকর্মীরা ফাঁকা গুলি ছোড়েন। তবে এখনপর্যন্ত সেনাবাহিনী বা পুলিশের সহযোগিতা পায়নি শিক্ষার্থীরা।

চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) রাসেল বলেন, আমরা ঘটনাস্থলে এসেছি। এখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আমরা বিভিন্নভাবে চেষ্টা করছি যাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে পরিবেশ স্বাভাবিক করা যায়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেইট সংলগ্ন একটি ভবনের ভাড়াটিয়া এক ছাত্রীর সঙ্গে ভবনের নিরাপত্তারক্ষীর বিতণ্ডার জেরে শনিবার মধ্যরাতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে গ্রামবাসীর সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।

শিক্ষার্থীরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই ছাত্রী রাত ১১টার দিকে বাসায় ফেরেন। ভবনের গেইট বন্ধ থাকায় তিনি প্রহরীকে ডাকাডাকি করেন। এসময় প্রহরী এসে ওই ছাত্রীর সঙ্গে তর্কে জড়ায়। এক পর্যায়ে ওই ছাত্রীকে তিনি গালাগাল করেন এবং চড় মারেন।

ওই ছাত্রী তখন সহপাঠীদের খবর দিলে তারা সেখানে যান এবং গ্রামবাসীও ভবনের নিরাপত্তারক্ষীর পক্ষ নিয়ে শিক্ষার্থীদের ধাওয়া করে। তখন দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। দুই পক্ষই ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে এবং লাঠিসোঁটা নিয়ে পরস্পরকে ধাওয়া করে।

এসময় স্থানীয়রা মাইকে ঘোষণা দিয়ে লোকজন জড়ো করে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায়। স্থানীয় লোকজন সে সময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে শিক্ষার্থীদের আঘাত করে বলেও অনেকে অভিযোগ করেছেন।

রাত ৩টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক তানভীর মো. হায়দার আরিফ ফেইসবুকে পোস্টে দিয়ে সবার সহযোগিতা চান।

তিনি লেখেন, দুই নম্বরে (গেইটে) আমাদের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এলাকাবাসীর সংঘর্ষে প্রচুর শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। সহকারী প্রক্টর কুরবান আলী স্যার, নাজমুল স্যার ও নিরাপত্তা প্রধান রহিম ভাই আহত। নিরাপত্তা বাহিনীর অনেকেই আহত। প্রক্টোরিয়াল বডি, পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের গাড়ি ভায়চুর করা হয়েছে।

রাত সাড়ে ৩টার দিকে সেনাবাহিনীর সদস্যরা সেখানে গেলে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয় বলে উপ উপাচার্য (প্রশাসন) কামাল উদ্দিন ভোরের দিকে জানিয়েছিলেন।

তিনি সে সময় বলেছিলেন, পর্যাপ্ত পুলিশ আমরা ঘটনাস্থলে পাইনি। র‌্যাবের সাথে যোগাযোগ করেও তাদের পাইনি। শেষ পর্যন্ত সেনাবাহিনী আসছে। তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেছে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসা কেন্দ্রের প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবু তৈয়ব বলেন, রাতে অন্তত ৬০ জন আহত শিক্ষার্থীকে তারা প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়েছেন। তাদের মধ্যে ২১ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

রাতভর সংঘর্ষের পর রোববার সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল পরীক্ষা কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। শিক্ষার্থীরাও ক্লাসে যোগ দেননি।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

দেশে মোট ভোটার ১২ কোটি ৬৩ লাখ ৭ হাজার : ইসি সচিব

আবারো স্থানীয়দের সঙ্গে চবি শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ, সহ-উপাচার্যসহ আহত বেশ কয়েকজন

প্রকাশের সময় : ০৩:৩৪:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৫

চবি প্রতিনিধি : 

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) ফের স্থানীয় ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে দুই পক্ষের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া এবং ঢিল ছোড়াছোড়ির মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক কামাল উদ্দিনসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

রাতে সংঘর্ষের পর স্থানীয় লোকজন সকালে আবার সড়কে অবস্থান নিতে শুরু করে। দুই নম্বর গেইট এলাকার বিভিন্ন ভাড়া বাসায় বিশ্ববিদ্যালয়ের যে শিক্ষার্থীরা থাকেন, তারা যার যার বাসায় আটকা পড়ে যান।

রোববার (৩১ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেট সংলগ্ন উত্তরা আবাসিক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

বেলা ১১টার পর ক্যাম্পাস থেকে ছোট ছোট দলে শিক্ষার্থীরা ওই এলাকায় যাওয়া শুরু করেন। ১২টার দিকে শিক্ষার্থীরা একজোট হয়ে দুই নম্বর গেইট এলাকায় গেলে ফের স্থানীয়দের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়।

ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এক প্রান্তে কয়েক শ শিক্ষার্থী অবস্থান নেন। বিপরীত দিকে ছিলেন এলাকাবাসী। দুই পক্ষই পাল্টাপাল্টি স্লোগান দিতে থাকেন। এ সময় সহ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান, মো. কামাল উদ্দিন, প্রক্টর তানভীর মোহাম্মদ হায়দার আরিফসহ শিক্ষকেরা দুই পক্ষকে বোঝানোর চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু হয়। ইটের আঘাতে আহত অবস্থায় শিক্ষার্থীকে ক্যাম্পাসের দিকে নিয়ে যেতে দেখা যায়। তাঁদের মাথা থেকে রক্ত ঝরছিল। তবে ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাউকে দেখা যায়নি।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত একজন বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে থেমে থেমে সংঘর্ষ চলছে। দুই পক্ষ দুই দিকে লাঠিসোঁটা নিয়ে অবস্থান নিয়েছেন এবং ঢিল ছুড়ছে।

ফের চবি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্থানীয়দের সংঘর্ষ, উপ-উপাচার্য ও প্রক্টর আহত

ঘটনাস্থলে উপস্থিত বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, রাতের ঘটনার প্রতিবাদে সকাল থেকে ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন করছে। বেলা ১২টার দিকে দুই নম্বর গেট এলাকায় আন্দোলনের জেরে ফের সংঘর্ষ শুরু হয়। এরপর ঘটনাস্থলে উপ-উপাচার্য, প্রক্টর-সহ অনেক শিক্ষার্থী আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তাকর্মীরা ফাঁকা গুলি ছোড়েন। তবে এখনপর্যন্ত সেনাবাহিনী বা পুলিশের সহযোগিতা পায়নি শিক্ষার্থীরা।

চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) রাসেল বলেন, আমরা ঘটনাস্থলে এসেছি। এখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আমরা বিভিন্নভাবে চেষ্টা করছি যাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে পরিবেশ স্বাভাবিক করা যায়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেইট সংলগ্ন একটি ভবনের ভাড়াটিয়া এক ছাত্রীর সঙ্গে ভবনের নিরাপত্তারক্ষীর বিতণ্ডার জেরে শনিবার মধ্যরাতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে গ্রামবাসীর সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।

শিক্ষার্থীরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই ছাত্রী রাত ১১টার দিকে বাসায় ফেরেন। ভবনের গেইট বন্ধ থাকায় তিনি প্রহরীকে ডাকাডাকি করেন। এসময় প্রহরী এসে ওই ছাত্রীর সঙ্গে তর্কে জড়ায়। এক পর্যায়ে ওই ছাত্রীকে তিনি গালাগাল করেন এবং চড় মারেন।

ওই ছাত্রী তখন সহপাঠীদের খবর দিলে তারা সেখানে যান এবং গ্রামবাসীও ভবনের নিরাপত্তারক্ষীর পক্ষ নিয়ে শিক্ষার্থীদের ধাওয়া করে। তখন দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। দুই পক্ষই ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে এবং লাঠিসোঁটা নিয়ে পরস্পরকে ধাওয়া করে।

এসময় স্থানীয়রা মাইকে ঘোষণা দিয়ে লোকজন জড়ো করে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায়। স্থানীয় লোকজন সে সময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে শিক্ষার্থীদের আঘাত করে বলেও অনেকে অভিযোগ করেছেন।

রাত ৩টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক তানভীর মো. হায়দার আরিফ ফেইসবুকে পোস্টে দিয়ে সবার সহযোগিতা চান।

তিনি লেখেন, দুই নম্বরে (গেইটে) আমাদের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এলাকাবাসীর সংঘর্ষে প্রচুর শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। সহকারী প্রক্টর কুরবান আলী স্যার, নাজমুল স্যার ও নিরাপত্তা প্রধান রহিম ভাই আহত। নিরাপত্তা বাহিনীর অনেকেই আহত। প্রক্টোরিয়াল বডি, পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের গাড়ি ভায়চুর করা হয়েছে।

রাত সাড়ে ৩টার দিকে সেনাবাহিনীর সদস্যরা সেখানে গেলে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয় বলে উপ উপাচার্য (প্রশাসন) কামাল উদ্দিন ভোরের দিকে জানিয়েছিলেন।

তিনি সে সময় বলেছিলেন, পর্যাপ্ত পুলিশ আমরা ঘটনাস্থলে পাইনি। র‌্যাবের সাথে যোগাযোগ করেও তাদের পাইনি। শেষ পর্যন্ত সেনাবাহিনী আসছে। তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেছে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসা কেন্দ্রের প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবু তৈয়ব বলেন, রাতে অন্তত ৬০ জন আহত শিক্ষার্থীকে তারা প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়েছেন। তাদের মধ্যে ২১ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

রাতভর সংঘর্ষের পর রোববার সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল পরীক্ষা কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। শিক্ষার্থীরাও ক্লাসে যোগ দেননি।