Dhaka বৃহস্পতিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আপসহীন বিপ্লবী ওসমান হাদির জানাজা সম্পন্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

লাখো জনতার অংশগ্রহণে জুলাই আপসহীন বিপ্লবী ও আধিপত্যবাদবিরোধী ‘ইনকিলাব মঞ্চ’র মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির জানাজার নামাজ সম্পন্ন হয়েছে।

শনিবার (২০ ডসেম্বর) বেলা আড়াইটার পর জাতীয় সংসদ ভবণের দক্ষিণ প্লাজায় তার জানাজা সম্পন্ন হয়। এতে লাখ লাখ মানুষ অংশ নেন।

নামাজের ইমামতি করেন শহীদ ওসমান হাদির বড় ভাই ডা. আবু বকর সিদ্দিক। তিনি বরিশাল বাঘিয়া আল আমিন কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ও ঐতিহ্যবাহী গুঠিয়া জামে মসজিদের খতিব।

তিনি বলেন, আমার ভাই শরিফ ওসমান হাদির বিচার যেন প্রকাশ্যে এই বাংলার জমিনে আমরা দেখতে পারি।

আবু বকর সিদ্দিক বলেন, আজ লক্ষ লক্ষ তৌহিদি জনতা হাজির হয়েছেন ওসমান হাদির জানাজার নামাজে অংশ নিতে। তিনি স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য বাংলাদেশের মানুষের কাছে একটি বার্তা দিয়ে গেছেন। হাদির একটি সন্তান রয়েছে, যার বয়স মাত্র আট মাস। সন্তান জন্মের পর সে আমাকে বলেছিল, এমন একটি নাম রাখতে, যার মধ্যে বিপ্লবী চেতনা ও সাহসিকতার পরিচয় থাকবে।অনেক যাচাই-বাছাই করে আমি তার সন্তানের নাম রাখি ‘ফিরনাস’একটি বিপ্লবী ও সাহসী নাম।

তিনি আরও বলেন, আজ তার সন্তানের চেহারার দিকে তাকানো যায় না। আজ আমার মা পাগলপ্রায়। আমরা ছয় ভাইবোনের মধ্যে সবচেয়ে ছোট ছিল শরিফ ওসমান হাদি। আজ তার লাশ আমার কাঁধে।

মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে জানাজায় অংশ নিতে আসে লাখো মানুষ। আজ শনিবার বিকেলে

আবু বকর সিদ্দিক বলেন, আজ আপনাদের কাছে আমার একটাই দাবি। রাজধানী ঢাকায় প্রকাশ্যে জুমার নামাজের পর খুনিরা গুলি করে পালিয়ে যায়-সাত থেকে আট দিন পেরিয়ে গেলেও যদি তারা পার পেয়ে যায়, এর চেয়ে লজ্জার কিছু জাতির জন্য আর হতে পারে না। যদি তারা পাঁচ থেকে সাত ঘণ্টার মধ্যে সীমান্ত পেরিয়ে যেতে পারে, তাহলে তারা কীভাবে গেল-এই প্রশ্ন জাতির কাছে রেখে গেলাম। আমার কোনো চাওয়া-পাওয়া নেই।

তিনি বলেন, আমার ভাই ওসমান হাদি শহীদ হয়েছে। শহীদ হওয়ার আকাঙ্ক্ষা সে সব সময়ই প্রকাশ করত। আপনারা তার বক্তব্য শুনেছেন। হয়তো আল্লাহ তাআলা তাকে সেই শহীদি মর্যাদা দান করেছেন। কিন্তু এই ঋণ আমি কখনো ছাড়ব না। আমার ভাই শরিফ ওসমান হাদির বিচার যেন প্রকাশ্যে এই বাংলার জমিনে আমরা দেখতে পারি। সাত দিন হয়ে গেল, এখনো আমরা কিছুই করতে পারিনি-এই দুঃখে কলিজা ছিঁড়ে যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, আমরা ওসমান হাদির জন্য দোয়া করি, তার স্ত্রী ও সন্তানের জন্য দোয়া করি। তার সন্তান যখন বাবাকে দেখার জন্য কোলে আনা হয়, তখন মনে হয়-সে আর কোনো দিন জানবে না তার বাবা কেমন ছিলেন। ওসমান হাদি আর ফিরে আসবে না। ওসমান, তুমি দেখে যাও-লক্ষ লক্ষ জনতা আজ তোমার জন্য পাগল। তুমি আমাদের সবাইকে পাগল বানিয়ে দিয়ে গেছ।

ওসমান হাদির জানাজায় লাখো মানুষ অংশ নেয়

আবু বকর সিদ্দিক বলেন, আমরা আল্লাহর কাছে দোয়া করি-আল্লাহ যেন আমার ভাই শহীদ ওসমান হাদিকে জান্নাতুল ফেরদৌসের মেহমান হিসেবে কবুল করেন। আমরা যারা বেঁচে আছি, তারা যেন ঈমান, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করে তৌহীদের বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারি-সেই তৌফিক আল্লাহ তাআলা আমাদের দান করুন।

তিনি আরও বলেন, আপনাদের সবার কাছে দোয়া চাই। আমার মেজ ভাই ওমর ফারুক ঘটনাস্থলে ছিল-তার জন্য দোয়া করবেন। আমার ছোট বোন মাসুমা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে, চিকিৎসকরা বলেছেন অবস্থা গুরুতর। আমাদের পরিবারের জন্য দোয়া করবেন। আমাদের আর কোনো চাওয়া-পাওয়া নেই। শরিফ ওসমান হাদি, তুমি বেঁচে থাকো মানুষের হৃদয়ে। আল্লাহ তাআলা তাকে জান্নাতের সর্বোচ্চ মাকাম নসিব করুন।

জানাজা শুরু হওয়ার অনেক আগেই আশপাশের সড়ক, মাঠ ও খোলা জায়গা কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসেন শেষ বিদায় জানাতে। বয়স্ক, তরুণ, শিক্ষার্থী, শ্রমজীবী—সব শ্রেণির মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। অনেকে দাঁড়িয়ে, অনেকে বসে, আবার অনেকে রাস্তার ওপর সারিবদ্ধ হয়ে জানাজায় শরিক হন।

মুসল্লীদের মতে, এই বিশাল উপস্থিতি শুধু একটি জানাজা নয়—এটি ছিল ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও বিশ্বাসের এক সম্মিলিত প্রকাশ। কারও চোখে অশ্রু, কারও কণ্ঠে দোয়া—সমবেত মানুষের হৃদয়ে একই অনুভূতি, একই প্রার্থনা।

স্থানীয়রা জানান, নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় স্বেচ্ছাসেবকরা নিরলসভাবে কাজ করেছেন। প্রচণ্ড ভিড়ের মধ্যেও জানাজা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়। শেষ দোয়ায় গোটা প্রাঙ্গণ যেন একসাথে নিঃশ্বাস ধরে রাখে।

জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় ওসমান হাদির জানাজায় মানুষের ঢল। আজ শনিবার বিকেলে

এই জানাজা নিয়ে মানুষের মুখে মুখে একটাই কথা—এটি শুধু সংখ্যার দিক থেকে বড় ছিল না, ছিল আবেগ, সম্মান আর স্মৃতির দিক থেকেও ঐতিহাসিক। অনেকের বিশ্বাস, এমন দৃশ্য বাংলাদেশের ইতিহাসে দীর্ঘদিন মনে গেঁথে থাকবে।

এই জানাজায় লাখ লাখ মানুষ অংশ নেন। স্মরণকালের সব চেয়ে নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হল শহীদ ওসমান হাদির।

অংশ নেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ, জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, অন্তর্বর্তী সরকারের একাধিক উপদেষ্টাসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ সর্বস্তরের জনতা।
এছাড়াও ছিলেন শরিফ ওসমান হাদির পরিবারের সদস্য এবং তার সংগঠন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে শনিবার (২০ ডিসেম্বর) দরোগ ইনস্টিটিউট থেকে সহযোদ্ধা ও সমর্থকদের অংশগ্রহণে মিছিলসহ ওসমান হাদির মরদেহ নিয়ে আসেন।

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ও জুলাই বিপ্লবী শহিদ ওসমান হাদির জানাজার নামাজে অংশ নেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এ সময় বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা অনংশ নেন।

এর আগে বক্তব্য রাখেন, প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন ও পরিবারের পক্ষ থেকে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

এসএ কুরিয়ার সার্ভিসের অফিসে যৌথ অভিযানে কোটি টাকার চোরাই পণ্য জব্দ, আটক ২

আপসহীন বিপ্লবী ওসমান হাদির জানাজা সম্পন্ন

প্রকাশের সময় : ০২:৪২:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ ডিসেম্বর ২০২৫

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

লাখো জনতার অংশগ্রহণে জুলাই আপসহীন বিপ্লবী ও আধিপত্যবাদবিরোধী ‘ইনকিলাব মঞ্চ’র মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির জানাজার নামাজ সম্পন্ন হয়েছে।

শনিবার (২০ ডসেম্বর) বেলা আড়াইটার পর জাতীয় সংসদ ভবণের দক্ষিণ প্লাজায় তার জানাজা সম্পন্ন হয়। এতে লাখ লাখ মানুষ অংশ নেন।

নামাজের ইমামতি করেন শহীদ ওসমান হাদির বড় ভাই ডা. আবু বকর সিদ্দিক। তিনি বরিশাল বাঘিয়া আল আমিন কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ও ঐতিহ্যবাহী গুঠিয়া জামে মসজিদের খতিব।

তিনি বলেন, আমার ভাই শরিফ ওসমান হাদির বিচার যেন প্রকাশ্যে এই বাংলার জমিনে আমরা দেখতে পারি।

আবু বকর সিদ্দিক বলেন, আজ লক্ষ লক্ষ তৌহিদি জনতা হাজির হয়েছেন ওসমান হাদির জানাজার নামাজে অংশ নিতে। তিনি স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য বাংলাদেশের মানুষের কাছে একটি বার্তা দিয়ে গেছেন। হাদির একটি সন্তান রয়েছে, যার বয়স মাত্র আট মাস। সন্তান জন্মের পর সে আমাকে বলেছিল, এমন একটি নাম রাখতে, যার মধ্যে বিপ্লবী চেতনা ও সাহসিকতার পরিচয় থাকবে।অনেক যাচাই-বাছাই করে আমি তার সন্তানের নাম রাখি ‘ফিরনাস’একটি বিপ্লবী ও সাহসী নাম।

তিনি আরও বলেন, আজ তার সন্তানের চেহারার দিকে তাকানো যায় না। আজ আমার মা পাগলপ্রায়। আমরা ছয় ভাইবোনের মধ্যে সবচেয়ে ছোট ছিল শরিফ ওসমান হাদি। আজ তার লাশ আমার কাঁধে।

মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে জানাজায় অংশ নিতে আসে লাখো মানুষ। আজ শনিবার বিকেলে

আবু বকর সিদ্দিক বলেন, আজ আপনাদের কাছে আমার একটাই দাবি। রাজধানী ঢাকায় প্রকাশ্যে জুমার নামাজের পর খুনিরা গুলি করে পালিয়ে যায়-সাত থেকে আট দিন পেরিয়ে গেলেও যদি তারা পার পেয়ে যায়, এর চেয়ে লজ্জার কিছু জাতির জন্য আর হতে পারে না। যদি তারা পাঁচ থেকে সাত ঘণ্টার মধ্যে সীমান্ত পেরিয়ে যেতে পারে, তাহলে তারা কীভাবে গেল-এই প্রশ্ন জাতির কাছে রেখে গেলাম। আমার কোনো চাওয়া-পাওয়া নেই।

তিনি বলেন, আমার ভাই ওসমান হাদি শহীদ হয়েছে। শহীদ হওয়ার আকাঙ্ক্ষা সে সব সময়ই প্রকাশ করত। আপনারা তার বক্তব্য শুনেছেন। হয়তো আল্লাহ তাআলা তাকে সেই শহীদি মর্যাদা দান করেছেন। কিন্তু এই ঋণ আমি কখনো ছাড়ব না। আমার ভাই শরিফ ওসমান হাদির বিচার যেন প্রকাশ্যে এই বাংলার জমিনে আমরা দেখতে পারি। সাত দিন হয়ে গেল, এখনো আমরা কিছুই করতে পারিনি-এই দুঃখে কলিজা ছিঁড়ে যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, আমরা ওসমান হাদির জন্য দোয়া করি, তার স্ত্রী ও সন্তানের জন্য দোয়া করি। তার সন্তান যখন বাবাকে দেখার জন্য কোলে আনা হয়, তখন মনে হয়-সে আর কোনো দিন জানবে না তার বাবা কেমন ছিলেন। ওসমান হাদি আর ফিরে আসবে না। ওসমান, তুমি দেখে যাও-লক্ষ লক্ষ জনতা আজ তোমার জন্য পাগল। তুমি আমাদের সবাইকে পাগল বানিয়ে দিয়ে গেছ।

ওসমান হাদির জানাজায় লাখো মানুষ অংশ নেয়

আবু বকর সিদ্দিক বলেন, আমরা আল্লাহর কাছে দোয়া করি-আল্লাহ যেন আমার ভাই শহীদ ওসমান হাদিকে জান্নাতুল ফেরদৌসের মেহমান হিসেবে কবুল করেন। আমরা যারা বেঁচে আছি, তারা যেন ঈমান, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করে তৌহীদের বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারি-সেই তৌফিক আল্লাহ তাআলা আমাদের দান করুন।

তিনি আরও বলেন, আপনাদের সবার কাছে দোয়া চাই। আমার মেজ ভাই ওমর ফারুক ঘটনাস্থলে ছিল-তার জন্য দোয়া করবেন। আমার ছোট বোন মাসুমা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে, চিকিৎসকরা বলেছেন অবস্থা গুরুতর। আমাদের পরিবারের জন্য দোয়া করবেন। আমাদের আর কোনো চাওয়া-পাওয়া নেই। শরিফ ওসমান হাদি, তুমি বেঁচে থাকো মানুষের হৃদয়ে। আল্লাহ তাআলা তাকে জান্নাতের সর্বোচ্চ মাকাম নসিব করুন।

জানাজা শুরু হওয়ার অনেক আগেই আশপাশের সড়ক, মাঠ ও খোলা জায়গা কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসেন শেষ বিদায় জানাতে। বয়স্ক, তরুণ, শিক্ষার্থী, শ্রমজীবী—সব শ্রেণির মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। অনেকে দাঁড়িয়ে, অনেকে বসে, আবার অনেকে রাস্তার ওপর সারিবদ্ধ হয়ে জানাজায় শরিক হন।

মুসল্লীদের মতে, এই বিশাল উপস্থিতি শুধু একটি জানাজা নয়—এটি ছিল ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও বিশ্বাসের এক সম্মিলিত প্রকাশ। কারও চোখে অশ্রু, কারও কণ্ঠে দোয়া—সমবেত মানুষের হৃদয়ে একই অনুভূতি, একই প্রার্থনা।

স্থানীয়রা জানান, নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় স্বেচ্ছাসেবকরা নিরলসভাবে কাজ করেছেন। প্রচণ্ড ভিড়ের মধ্যেও জানাজা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়। শেষ দোয়ায় গোটা প্রাঙ্গণ যেন একসাথে নিঃশ্বাস ধরে রাখে।

জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় ওসমান হাদির জানাজায় মানুষের ঢল। আজ শনিবার বিকেলে

এই জানাজা নিয়ে মানুষের মুখে মুখে একটাই কথা—এটি শুধু সংখ্যার দিক থেকে বড় ছিল না, ছিল আবেগ, সম্মান আর স্মৃতির দিক থেকেও ঐতিহাসিক। অনেকের বিশ্বাস, এমন দৃশ্য বাংলাদেশের ইতিহাসে দীর্ঘদিন মনে গেঁথে থাকবে।

এই জানাজায় লাখ লাখ মানুষ অংশ নেন। স্মরণকালের সব চেয়ে নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হল শহীদ ওসমান হাদির।

অংশ নেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ, জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, অন্তর্বর্তী সরকারের একাধিক উপদেষ্টাসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ সর্বস্তরের জনতা।
এছাড়াও ছিলেন শরিফ ওসমান হাদির পরিবারের সদস্য এবং তার সংগঠন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে শনিবার (২০ ডিসেম্বর) দরোগ ইনস্টিটিউট থেকে সহযোদ্ধা ও সমর্থকদের অংশগ্রহণে মিছিলসহ ওসমান হাদির মরদেহ নিয়ে আসেন।

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ও জুলাই বিপ্লবী শহিদ ওসমান হাদির জানাজার নামাজে অংশ নেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এ সময় বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা অনংশ নেন।

এর আগে বক্তব্য রাখেন, প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন ও পরিবারের পক্ষ থেকে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের।