Dhaka সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬, ২৯ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আন্দোলনে ‘আহতদের খোঁজ মেলেনি’, হাসিনাসহ ১১৩ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে ধানমন্ডি থানার সাহেদ আলীসহ ১০ জনকে হত্যাচেষ্টার মামলায় আহতদের খুঁজে না পাওয়ায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১১৩ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত সূত্রে জানা গেছে, এ সুপারিশ করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন, শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাবেক মন্ত্রী হাছান মাহমুদ, মোহাম্মদ এ আরাফাত, জুনাইদ আহমেদ পলক, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আওয়ামী লীগ নেতা মাহবুব উল আলম হানিফ, শামীম ওসমান, ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেন, সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনানসহ মোট ১১৩ জন।

আদালত সূত্র জানায়, গত ৫ নভেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই পরিদর্শক শাহজাহান ভূঞা ‘তথ্যগত ভুল’ থাকার কথা উল্লেখ করে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। এ মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর ধানমন্ডি থানায় মামলাটি দায়ের করা হয়। এজাহারে উল্লেখ করা হয়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ৪ আগস্ট সীমান্ত স্কয়ার থেকে কাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে ধানমন্ডি ২৭ নম্বর এলাকায় মীনা বাজারের সামনে সাহেদ আলী আহত হন। একই ঘটনায় ঢাকা কলেজ ও সিটি কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থীসহ মোট নয়জন আহত হওয়ার দাবি করা হয়। এ ঘটনায় সাহেদের কথিত ভাই শরীফ ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১১৩ জনকে আসামি করে মামলা করেন।

প্রথমে থানা পুলিশ মামলাটির তদন্ত করে চারজনকে গ্রেফতার করে। পরে মামলার তদন্তভার পায় পিবিআই। তদন্তকালে আহতদের খুঁজে পাননি তদন্ত সংস্থাটির তদন্ত কর্মকর্তা শাহজাহান ভূঞা।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই পরিদর্শক শাহজাহান ভূঞা বলেন, জুলাই আন্দোলনে আহতদের তালিকা নিয়ে সরকারিভাবে গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। তবে এই মামলায় যেসব আহতের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, তাদের নাম ওই গেজেটে পাওয়া যায়নি।

তিনি আরও বলেন, তথ্যগত ভুলের কারণে আপাতত আসামিদের অব্যাহতির সুপারিশ করে প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে যদি আহতদের বিষয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়, সেক্ষেত্রে পুনরায় অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, আহত সাহেদ আলীসহ অন্য ভুক্তভোগীদের সন্ধানে সীমান্ত স্কয়ার মার্কেট, ঢাকা কলেজ, সিটি কলেজ এবং ঘটনাস্থলের আশপাশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিঠি দিয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। পাশাপাশি বাদী শরীফকে নোটিশ দিয়ে তার ভাইকে থানায় হাজির করার অনুরোধ জানানো হয়। তবে এতে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

মামলা সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের জন্য হাজারীবাগে বাদীর ভাড়া বাসার ঠিকানায় নোটিশ পাঠানো হলেও বাড়িওয়ালা জানান, শরীফ নামের কোনো ব্যক্তি সেখানে বসবাস করেন না। পরে জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাই করে দেখা যায়, বাদীর প্রকৃত নাম শরিফুল ইসলাম। তিনি লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার মান্দারী এলাকার সিরাজুল ইসলামের ছেলে। তবে ওই ঠিকানায় খোঁজ নিয়েও তাকে কেউ চিনতে পারেননি।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, বাদীর দেওয়া মোবাইল নম্বরটি অধিকাংশ সময় বন্ধ পাওয়া যায়। যদিও হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর মাঝে মাঝে সক্রিয় থাকে। হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে যোগাযোগের পর কয়েকদিন অপেক্ষা শেষে শরীফ ধানমন্ডি লেকের পাশে তদন্ত কর্মকর্তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সে সময় তদন্ত কর্মকর্তা তাকে ভুক্তভোগী হাজির করা এবং চিকিৎসা সংক্রান্ত কাগজপত্র সরবরাহের অনুরোধ জানান। তবে দীর্ঘ সময় পার হলেও তিনি ভুক্তভোগীকে হাজির করেননি কিংবা চিকিৎসা সংক্রান্ত কোনো নথিপত্র জমা দেননি। এমনকি এজাহারেও চিকিৎসা সংক্রান্ত কোনো তথ্য উল্লেখ করা হয়নি।

এই সার্বিক প্রেক্ষাপটে মামলার অভিযোগ প্রমাণে প্রয়োজনীয় সাক্ষ্য ও তথ্য না পাওয়ায় তদন্ত কর্মকর্তা শেখ হাসিনাসহ ১১৩ জন আসামিকে অব্যাহতির সুপারিশ করে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

নীলফামারীতে বিএনপিতে যোগ দিলেন ৪ ইউপি চেয়ারম্যান

আন্দোলনে ‘আহতদের খোঁজ মেলেনি’, হাসিনাসহ ১১৩ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ

প্রকাশের সময় : ১২:২০:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে ধানমন্ডি থানার সাহেদ আলীসহ ১০ জনকে হত্যাচেষ্টার মামলায় আহতদের খুঁজে না পাওয়ায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১১৩ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত সূত্রে জানা গেছে, এ সুপারিশ করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন, শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাবেক মন্ত্রী হাছান মাহমুদ, মোহাম্মদ এ আরাফাত, জুনাইদ আহমেদ পলক, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আওয়ামী লীগ নেতা মাহবুব উল আলম হানিফ, শামীম ওসমান, ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেন, সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনানসহ মোট ১১৩ জন।

আদালত সূত্র জানায়, গত ৫ নভেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই পরিদর্শক শাহজাহান ভূঞা ‘তথ্যগত ভুল’ থাকার কথা উল্লেখ করে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। এ মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর ধানমন্ডি থানায় মামলাটি দায়ের করা হয়। এজাহারে উল্লেখ করা হয়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ৪ আগস্ট সীমান্ত স্কয়ার থেকে কাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে ধানমন্ডি ২৭ নম্বর এলাকায় মীনা বাজারের সামনে সাহেদ আলী আহত হন। একই ঘটনায় ঢাকা কলেজ ও সিটি কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থীসহ মোট নয়জন আহত হওয়ার দাবি করা হয়। এ ঘটনায় সাহেদের কথিত ভাই শরীফ ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১১৩ জনকে আসামি করে মামলা করেন।

প্রথমে থানা পুলিশ মামলাটির তদন্ত করে চারজনকে গ্রেফতার করে। পরে মামলার তদন্তভার পায় পিবিআই। তদন্তকালে আহতদের খুঁজে পাননি তদন্ত সংস্থাটির তদন্ত কর্মকর্তা শাহজাহান ভূঞা।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই পরিদর্শক শাহজাহান ভূঞা বলেন, জুলাই আন্দোলনে আহতদের তালিকা নিয়ে সরকারিভাবে গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। তবে এই মামলায় যেসব আহতের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, তাদের নাম ওই গেজেটে পাওয়া যায়নি।

তিনি আরও বলেন, তথ্যগত ভুলের কারণে আপাতত আসামিদের অব্যাহতির সুপারিশ করে প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে যদি আহতদের বিষয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়, সেক্ষেত্রে পুনরায় অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, আহত সাহেদ আলীসহ অন্য ভুক্তভোগীদের সন্ধানে সীমান্ত স্কয়ার মার্কেট, ঢাকা কলেজ, সিটি কলেজ এবং ঘটনাস্থলের আশপাশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিঠি দিয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। পাশাপাশি বাদী শরীফকে নোটিশ দিয়ে তার ভাইকে থানায় হাজির করার অনুরোধ জানানো হয়। তবে এতে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

মামলা সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের জন্য হাজারীবাগে বাদীর ভাড়া বাসার ঠিকানায় নোটিশ পাঠানো হলেও বাড়িওয়ালা জানান, শরীফ নামের কোনো ব্যক্তি সেখানে বসবাস করেন না। পরে জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাই করে দেখা যায়, বাদীর প্রকৃত নাম শরিফুল ইসলাম। তিনি লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার মান্দারী এলাকার সিরাজুল ইসলামের ছেলে। তবে ওই ঠিকানায় খোঁজ নিয়েও তাকে কেউ চিনতে পারেননি।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, বাদীর দেওয়া মোবাইল নম্বরটি অধিকাংশ সময় বন্ধ পাওয়া যায়। যদিও হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর মাঝে মাঝে সক্রিয় থাকে। হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে যোগাযোগের পর কয়েকদিন অপেক্ষা শেষে শরীফ ধানমন্ডি লেকের পাশে তদন্ত কর্মকর্তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সে সময় তদন্ত কর্মকর্তা তাকে ভুক্তভোগী হাজির করা এবং চিকিৎসা সংক্রান্ত কাগজপত্র সরবরাহের অনুরোধ জানান। তবে দীর্ঘ সময় পার হলেও তিনি ভুক্তভোগীকে হাজির করেননি কিংবা চিকিৎসা সংক্রান্ত কোনো নথিপত্র জমা দেননি। এমনকি এজাহারেও চিকিৎসা সংক্রান্ত কোনো তথ্য উল্লেখ করা হয়নি।

এই সার্বিক প্রেক্ষাপটে মামলার অভিযোগ প্রমাণে প্রয়োজনীয় সাক্ষ্য ও তথ্য না পাওয়ায় তদন্ত কর্মকর্তা শেখ হাসিনাসহ ১১৩ জন আসামিকে অব্যাহতির সুপারিশ করে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।