Dhaka বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৬, ১৯ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আগৈলঝাড়ায় ৫০ শয্যার হাসপাতালে চালক না থাকায় তিনমাস ধরে অ্যাম্বুলেন্স সেবা বন্ধ, চরম দুর্ভোগে রোগীরা

অপূর্ব লাল সরকার, আগৈলঝাড়া (বরিশাল) থেকে :

বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অ্যাম্বুলেন্স থাকা সত্বেও শুধুমাত্র চালক না থাকায় রোগীদের জন্য অ্যাম্বুলেন্স সেবা বন্ধ রয়েছে। এ উপজেলার ২ লাখেরও বেশি মানুষ সরকারি স্বাস্থ্যসেবা নেন এই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে। চালক না থাকায় বেশ কয়েক মাস ধরে এই হাসপাতালে সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের সেবা বন্ধ রয়েছে। এতে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন অসুস্থ রোগী ও স্বজনরা।

উপজেলা ৫০ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের রোগী পরিবহনের জন্য কয়েক বছর আগে একটি অ্যাম্বুলেন্স দেয় স্বাস্থ্য বিভাগ। এরপর থেকে আ্যাম্বুলেন্সটি প্রতিনিয়ত রোগী পরিবহনের কাজে নিয়োজিত ছিল। গত ডিসেম্বর মাসে অ্যাম্বুলেন্সটির চালক জব্বার হাওলাদার শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৯ ফেব্রুয়ারী মৃত্যুবরণ করেন। প্রায় দুই মাস ধরে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অ্যাম্বুলেন্স সেবা পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।

দীর্ঘ তিনমাস ধরে চালক না থাকায় অ্যাম্বুলেন্সটি অযত্নে পরে থাকায় নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। এদিকে অ্যাম্বুলেন্স সেবা বন্ধ থাকায় হাসপাতালে সেবা নিতে আসা রোগীদের ভোগান্তির শেষ নেই। বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স, মাইক্রোবাস ও প্রাইভেটকারে রোগী পরিবহনে দুর্ভোগের পাশাপাশি অতিরিক্ত ভাড়া গুণতে হচ্ছে ভুক্তভোগীদের। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, অ্যাম্বুলেন্স সেবা বন্ধ থাকায় রোগীর দুর্ভোগের বিষয়টি তারা ইতোমধ্যে লিখিতভাবে বরিশাল স্বাস্থ্য পরিচালকের কাছে জানালেও এখনো কোনো সুরাহা হয়নি।

এদিকে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স সেবা বন্ধ থাকায় রোগীর স্বজনদের কাছ থেকে ইচ্ছেমত ভাড়া আদায় করার অভিযোগ উঠেছে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স, মাইক্রোবাস ও প্রাইভেটকার চালকদের বিরুদ্ধে। আগৈলঝাড়া উপজেলা থেকে সরকারি অ্যাম্বুলেন্সে বরিশাল যেতে ৯শ’ ৫০ টাকা ভাড়া লাগলেও বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সে ২ থেকে ৩ হাজার টাকা বেশি ভাড়া গুণতে হচ্ছে রোগী ও তাদের স্বজনদের।

এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. গোলাম মোর্শেদ সজীব বলেন, অ্যাম্বুলেন্স চালক না থাকার বিষয়টি তিনি সিভিল সার্জনকে জানিয়েছেন। এ বিষয়ে স্বাস্থ্য বিভাগ কার্যালয়েও চিঠি দেওয়া হয়েছে।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

বঙ্গোপসাগরে জেলের জালে ধরা পড়লো বিরল ‘ব্রাউন সার্জনফিশ’

আগৈলঝাড়ায় ৫০ শয্যার হাসপাতালে চালক না থাকায় তিনমাস ধরে অ্যাম্বুলেন্স সেবা বন্ধ, চরম দুর্ভোগে রোগীরা

প্রকাশের সময় : ০৩:৫৫:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬

অপূর্ব লাল সরকার, আগৈলঝাড়া (বরিশাল) থেকে :

বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অ্যাম্বুলেন্স থাকা সত্বেও শুধুমাত্র চালক না থাকায় রোগীদের জন্য অ্যাম্বুলেন্স সেবা বন্ধ রয়েছে। এ উপজেলার ২ লাখেরও বেশি মানুষ সরকারি স্বাস্থ্যসেবা নেন এই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে। চালক না থাকায় বেশ কয়েক মাস ধরে এই হাসপাতালে সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের সেবা বন্ধ রয়েছে। এতে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন অসুস্থ রোগী ও স্বজনরা।

উপজেলা ৫০ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের রোগী পরিবহনের জন্য কয়েক বছর আগে একটি অ্যাম্বুলেন্স দেয় স্বাস্থ্য বিভাগ। এরপর থেকে আ্যাম্বুলেন্সটি প্রতিনিয়ত রোগী পরিবহনের কাজে নিয়োজিত ছিল। গত ডিসেম্বর মাসে অ্যাম্বুলেন্সটির চালক জব্বার হাওলাদার শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৯ ফেব্রুয়ারী মৃত্যুবরণ করেন। প্রায় দুই মাস ধরে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অ্যাম্বুলেন্স সেবা পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।

দীর্ঘ তিনমাস ধরে চালক না থাকায় অ্যাম্বুলেন্সটি অযত্নে পরে থাকায় নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। এদিকে অ্যাম্বুলেন্স সেবা বন্ধ থাকায় হাসপাতালে সেবা নিতে আসা রোগীদের ভোগান্তির শেষ নেই। বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স, মাইক্রোবাস ও প্রাইভেটকারে রোগী পরিবহনে দুর্ভোগের পাশাপাশি অতিরিক্ত ভাড়া গুণতে হচ্ছে ভুক্তভোগীদের। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, অ্যাম্বুলেন্স সেবা বন্ধ থাকায় রোগীর দুর্ভোগের বিষয়টি তারা ইতোমধ্যে লিখিতভাবে বরিশাল স্বাস্থ্য পরিচালকের কাছে জানালেও এখনো কোনো সুরাহা হয়নি।

এদিকে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স সেবা বন্ধ থাকায় রোগীর স্বজনদের কাছ থেকে ইচ্ছেমত ভাড়া আদায় করার অভিযোগ উঠেছে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স, মাইক্রোবাস ও প্রাইভেটকার চালকদের বিরুদ্ধে। আগৈলঝাড়া উপজেলা থেকে সরকারি অ্যাম্বুলেন্সে বরিশাল যেতে ৯শ’ ৫০ টাকা ভাড়া লাগলেও বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সে ২ থেকে ৩ হাজার টাকা বেশি ভাড়া গুণতে হচ্ছে রোগী ও তাদের স্বজনদের।

এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. গোলাম মোর্শেদ সজীব বলেন, অ্যাম্বুলেন্স চালক না থাকার বিষয়টি তিনি সিভিল সার্জনকে জানিয়েছেন। এ বিষয়ে স্বাস্থ্য বিভাগ কার্যালয়েও চিঠি দেওয়া হয়েছে।