Dhaka শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬, ১৮ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আকাশপথের ভাড়া নিয়ন্ত্রণের সরকারের হস্তক্ষেপ, সতর্ক করে চিঠি দিলো আয়াটা

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

বাংলাদেশে প্রস্তাবিত বিমান ভাড়া নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার বিষয়ে তীব্র বিরোধিতা ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বৈশ্বিক বিমান সংস্থাগুলোর সংগঠন ইন্টারন্যাশনাল এয়ার ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশন (আইএটিএ-আয়াটা)। সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, সরকারের এই পদক্ষেপ যাত্রী সাধারণের পছন্দ, বিমান সংযোগ এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর ‘অনাকাঙ্ক্ষিত নেতিবাচক প্রভাব’ ফেলতে পারে।

​সম্প্রতি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব নাসরিন জাহানের কাছে পাঠানো এক আনুষ্ঠানিক চিঠিতে আয়াটা এই আপত্তি জানায়। মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল সূত্র ঢাকা পোস্টকে চিঠির বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

চিঠিতে আয়াটা জানায়, প্রস্তাবিত ‘বেসামরিক বিমান চলাচল (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৬’-এর ধারা ৪৩এ-তে ভাড়া নিয়ন্ত্রণের যে বিধান রাখা হয়েছে, তা মূলত মুক্ত বাজার অর্থনীতির পরিপন্থি। সত্তরের দশকের শেষদিকে এভিয়েশন খাতে ডিরেগুলেশন বা নিয়ন্ত্রণমুক্ত ব্যবস্থা চালুর পর থেকে বিশ্বব্যাপী বিমান ভাড়া প্রকৃত অর্থে অর্ধেকেরও বেশি কমেছে।

আয়াটার মতে, সরকার যদি ভাড়ার সর্বোচ্চ সীমা (প্রাইস সিলিং) নির্ধারণ করে দেয়, তবে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হতে পারে। এতে এয়ারলাইন্সগুলো নতুন বিনিয়োগে নিরুৎসাহিত হবে, যার ফলে পর্যাপ্ত সক্ষমতার অভাবে শেষ পর্যন্ত টিকিটের সর্বনিম্ন মূল্য আরও বেড়ে যেতে পারে। এছাড়া, বাণিজ্যিক নমনীয়তা না থাকলে অনেক কম গুরুত্বপূর্ণ বা মার্জিনাল রুটে ফ্লাইট পরিচালনা বন্ধ হয়ে যেতে পারে এবং বিমান সেবার মানও কমতে পারে।

চিঠিতে আয়াটা ‘গ্লোবাল বেস্ট প্র্যাকটিস’ বা বৈশ্বিক সর্বোত্তম চর্চার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেছে, বিশ্বের অধিকাংশ দেশ এখন বিমান ভাড়ার ক্ষেত্রে এয়ারলাইন্সগুলোকে পূর্ণ স্বাধীনতা দেয়। এমনকি ২০১৩ সালের ‘বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র ওপেন স্কাই’ চুক্তিতেও এই বাণিজ্যিক স্বাধীনতার নীতি স্বীকৃত। আয়াটার পক্ষ থেকে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, সরকার যে ভাড়া জমার (ফেয়ার ফিলিং) বিধান আনছে, তা কি কেবল তথ্যের জন্য, নাকি নিয়ন্ত্রণের জন্য। যদি এটি নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে হয়, তবে তা বাজারের স্বাভাবিক গতিশীলতাকে নষ্ট করবে।

ভাড়া নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি এয়ারলাইন্সগুলোর ওপর বিভিন্ন লেভি বা চার্জ আরোপের জন্য ‘অ্যাডভাইজরি বোর্ড’ গঠনের বিষয়েও চিঠিতে উল্লেখ করেছে তারা।

সংস্থাটি দাবি করেছে, যেকোনো চার্জ নির্ধারণের প্রক্রিয়া অবশ্যই স্বচ্ছ হতে হবে এবং তা আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইকাও) নীতিমালা অনুযায়ী ব্যয়-ভিত্তিক ও বৈষম্যহীন হতে হবে।

​চিঠির শেষে আয়াটা সরকারকে এই প্রস্তাবিত বিধানগুলো পুনর্বিবেচনা করার এবং বাংলাদেশে একটি শক্তিশালী বিমান পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে এয়ারলাইন্সগুলোর ভাড়া নির্ধারণের স্বাধীনতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে।

উল্লেখ্য, আয়াটা বিশ্বজুড়ে প্রায় ৩৬০টি এয়ারলাইন্সের প্রতিনিধিত্ব করে, যার মধ্যে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সসহ ইউএস-বাংলা এবং এয়ার অ্যাস্ট্রাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

 

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

সংযোগ সড়ক না থাকায় পাঁচ বছরেও কাজে আসেনি ৬৭ লাখের সেতু

আকাশপথের ভাড়া নিয়ন্ত্রণের সরকারের হস্তক্ষেপ, সতর্ক করে চিঠি দিলো আয়াটা

প্রকাশের সময় : ১২:০৮:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

বাংলাদেশে প্রস্তাবিত বিমান ভাড়া নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার বিষয়ে তীব্র বিরোধিতা ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বৈশ্বিক বিমান সংস্থাগুলোর সংগঠন ইন্টারন্যাশনাল এয়ার ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশন (আইএটিএ-আয়াটা)। সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, সরকারের এই পদক্ষেপ যাত্রী সাধারণের পছন্দ, বিমান সংযোগ এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর ‘অনাকাঙ্ক্ষিত নেতিবাচক প্রভাব’ ফেলতে পারে।

​সম্প্রতি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব নাসরিন জাহানের কাছে পাঠানো এক আনুষ্ঠানিক চিঠিতে আয়াটা এই আপত্তি জানায়। মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল সূত্র ঢাকা পোস্টকে চিঠির বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

চিঠিতে আয়াটা জানায়, প্রস্তাবিত ‘বেসামরিক বিমান চলাচল (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৬’-এর ধারা ৪৩এ-তে ভাড়া নিয়ন্ত্রণের যে বিধান রাখা হয়েছে, তা মূলত মুক্ত বাজার অর্থনীতির পরিপন্থি। সত্তরের দশকের শেষদিকে এভিয়েশন খাতে ডিরেগুলেশন বা নিয়ন্ত্রণমুক্ত ব্যবস্থা চালুর পর থেকে বিশ্বব্যাপী বিমান ভাড়া প্রকৃত অর্থে অর্ধেকেরও বেশি কমেছে।

আয়াটার মতে, সরকার যদি ভাড়ার সর্বোচ্চ সীমা (প্রাইস সিলিং) নির্ধারণ করে দেয়, তবে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হতে পারে। এতে এয়ারলাইন্সগুলো নতুন বিনিয়োগে নিরুৎসাহিত হবে, যার ফলে পর্যাপ্ত সক্ষমতার অভাবে শেষ পর্যন্ত টিকিটের সর্বনিম্ন মূল্য আরও বেড়ে যেতে পারে। এছাড়া, বাণিজ্যিক নমনীয়তা না থাকলে অনেক কম গুরুত্বপূর্ণ বা মার্জিনাল রুটে ফ্লাইট পরিচালনা বন্ধ হয়ে যেতে পারে এবং বিমান সেবার মানও কমতে পারে।

চিঠিতে আয়াটা ‘গ্লোবাল বেস্ট প্র্যাকটিস’ বা বৈশ্বিক সর্বোত্তম চর্চার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেছে, বিশ্বের অধিকাংশ দেশ এখন বিমান ভাড়ার ক্ষেত্রে এয়ারলাইন্সগুলোকে পূর্ণ স্বাধীনতা দেয়। এমনকি ২০১৩ সালের ‘বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র ওপেন স্কাই’ চুক্তিতেও এই বাণিজ্যিক স্বাধীনতার নীতি স্বীকৃত। আয়াটার পক্ষ থেকে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, সরকার যে ভাড়া জমার (ফেয়ার ফিলিং) বিধান আনছে, তা কি কেবল তথ্যের জন্য, নাকি নিয়ন্ত্রণের জন্য। যদি এটি নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে হয়, তবে তা বাজারের স্বাভাবিক গতিশীলতাকে নষ্ট করবে।

ভাড়া নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি এয়ারলাইন্সগুলোর ওপর বিভিন্ন লেভি বা চার্জ আরোপের জন্য ‘অ্যাডভাইজরি বোর্ড’ গঠনের বিষয়েও চিঠিতে উল্লেখ করেছে তারা।

সংস্থাটি দাবি করেছে, যেকোনো চার্জ নির্ধারণের প্রক্রিয়া অবশ্যই স্বচ্ছ হতে হবে এবং তা আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইকাও) নীতিমালা অনুযায়ী ব্যয়-ভিত্তিক ও বৈষম্যহীন হতে হবে।

​চিঠির শেষে আয়াটা সরকারকে এই প্রস্তাবিত বিধানগুলো পুনর্বিবেচনা করার এবং বাংলাদেশে একটি শক্তিশালী বিমান পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে এয়ারলাইন্সগুলোর ভাড়া নির্ধারণের স্বাধীনতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে।

উল্লেখ্য, আয়াটা বিশ্বজুড়ে প্রায় ৩৬০টি এয়ারলাইন্সের প্রতিনিধিত্ব করে, যার মধ্যে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সসহ ইউএস-বাংলা এবং এয়ার অ্যাস্ট্রাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।