Dhaka বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

অস্ট্রেলিয়ার পর শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন জিম্বাবুয়ে

  • স্পোর্টস ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : ০৯:৪৯:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২০০ জন দেখেছেন

স্পোর্টস ডেস্ক : 

অস্ট্রেলিয়া, আয়ারল্যান্ডকে আগেই বিদায় করেছিল জিম্বাবুয়ে। ‘বি’ গ্রুপে নিজেদের শেষ ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে জিম্বাবুয়ে। এ জয়ের মাধ্যমে ৪ ম্যাচে সর্বোচ্চ ৭ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে উঠে এসেছে রোডেশীয়রা। সমান ম্যাচ খেলা শ্রীলঙ্কার সংগ্রহ ৬ পয়েন্ট, তাদের অবস্থান দুই নম্বরে। আয়ারল্যান্ড ৩ পয়েন্ট নিয়ে তিন নম্বরে রয়েছে। চার ও পাঁচ নম্বরে আছে অস্ট্রেলিয়া এবং ওমান।

চ্যালেঞ্জিং ১৭৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে জিম্বাবুয়ে শেষ ওভারের মধ্যে চার উইকেটে জয় নিশ্চিত করে। ওপেনার ব্রায়ান বেনেট এবং তাদিওয়ানাশা মারুমানি শুরু থেকেই মারকুটে ব্যাটিংয়ে প্রথম উইকেটে ৬৯ রানের জুটি গড়ে। শ্রীলঙ্কা ৯ম ওভারে প্রথম ব্রেক থ্রু পায় দুনিথ ওয়াল্লালেগে মারুমানিকে আউট করলে, যিনি ২৬ বল খেলে ৩৪ রানের ইনিংস খেলেন, এতে ছিল পাঁচটি চার এবং এক ছয়।

এরপর রায়ান বার্ল ঝটিকা ইনিংস খেলেন, ১২ বল থেকে ২৩ রান করে চাপ কমান তিনি, কিন্তু তাঁকে আউট করেন অধিনায়ক দাসুন শানাকা। অধিনায়ক সিকান্দার রাজা বেনেটের সঙ্গে ক্রিজে যোগ দেন এবং আক্রমণাত্মক ব্যাটিং চালিয়ে স্কোরবোর্ড এগোতে রাখেন, দুই ছয় মেরে শেষ পাঁচ ওভারে ৪৫ রানের সমীকরণে পৌঁছে দেন তিনি।

দুই জন মিলে ৫০ রানের ঝড়ো জুটি গড়ে জিম্বাবুয়েকে এগিয়ে রাখেন, বেনেট তাঁর অর্ধশতক পূর্ণ করেন। তবে ১৯তম ওভারে দুশান হেমন্থ রাজাকে আউট করে গুরুত্বপূর্ণ জুটি ভেঙে দেন, রাজা ২৬ বল খেলে ৪৫ রান করেন, এতে ছিল দুইটি চার এবং চারটি ছয়, জিম্বাবুয়ে তখন ১৮.২ ওভারে ১৬৭-৩। একই ওভারে হেমান্থর আরও এক উইকেট শ্রীলঙ্কাকে আবার আশার আলো দেখায়। শেষ ওভারে ৮ রানের প্রয়োজন ছিল, তখন টনি মুনোয়াগা এক ছয় মেরে ম্যাচ শেষ করেন এবং বেনেট ৬৩ রানে অপরাজিত থাকেন। মুনিয়োগাও ৩ বল থেকে ৮ রান করে অপরাজিত থাকেন। ৩ বল বাকি থাকতেই জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়ে তারা। শ্রীলঙ্কার পক্ষে দুশান হেমন্থ ২ উইকেট শিকার করেন।

এর আগে টসে হেরে ব্যাটিং করতে নেমে ভালো শুরু করেছিল শ্রীলঙ্কা। কুশল পেরেরা (২২) ও পাথুম নিশাঙ্কার আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে পাওয়ার প্লে-তে দাপট দেখায় তারা। নিশাঙ্কা খেলেন ৪১ বলে ৬২ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস। তবে মাঝপথে জিম্বাবুয়ের বোলাররা নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে লঙ্কানদের রানের গতি কমিয়ে দেয়।

এর আগে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে শ্রীলঙ্কা পাওয়ার প্লেতে তোলে ১ উইকেটে ৬১ রান। মাত্র ৪.১ ওভারেই দলীয় অর্ধশতক পূর্ণ করে, যা টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ইতিহাসে তাদের দ্রুততম দলীয় পঞ্চাশ। আগের ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয়ের নায়ক পাথুম নিসাঙ্কা আবারও ঝড় তোলেন। ৪১ বলে ৬২ রানের ইনিংসে আটটি চার মারেন এবং এই পথে তিনি কুশল মেন্ডিসকে ছাড়িয়ে শ্রীলঙ্কার টি–টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকও হন।

তবে মাঝের ওভারগুলোতে ম্যাচে ফেরে জিম্বাবুয়ে। লেগ স্পিনার গ্রায়েম ক্রেমার (২/২৭) কামিন্দু মেন্ডিস ও নিসাঙ্কাকে ফিরিয়ে লঙ্কানদের চাপে ফেলেন। ১০০/২ থেকে দ্রুত ১২৩/৪ হয়ে যায় স্কোর। শেষ দিকে ১৯তম ওভারে ব্র্যাড ইভানস টানা দুই বলে দুই উইকেট নিয়ে রানরেট কমিয়ে দেন। ইনিংসের শুরুতেই আঘাত হানা ব্লেসিং মুজারাবানি শেষ পর্যন্ত ২/৩৮ নেন।

শেষদিকে পাভান রাথনায়েকে ২৫ বলে ৪৪ রানের ঝড়ো ইনিংস (৩ চার, ২ ছক্কা) খেলে দলকে সম্মানজনক সংগ্রহ এনে দেন। তবু তা জয়ের জন্য যথেষ্ট হয়নি। জিম্বাবুয়ের পক্ষে ব্লেসিং মুজারাবানি, ব্র্যাড ইভান্স ও গ্রায়েম ক্রিমার ২টি করে উইকেট নেন।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

অস্ট্রেলিয়ার পর শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন জিম্বাবুয়ে

প্রকাশের সময় : ০৯:৪৯:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

স্পোর্টস ডেস্ক : 

অস্ট্রেলিয়া, আয়ারল্যান্ডকে আগেই বিদায় করেছিল জিম্বাবুয়ে। ‘বি’ গ্রুপে নিজেদের শেষ ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে জিম্বাবুয়ে। এ জয়ের মাধ্যমে ৪ ম্যাচে সর্বোচ্চ ৭ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে উঠে এসেছে রোডেশীয়রা। সমান ম্যাচ খেলা শ্রীলঙ্কার সংগ্রহ ৬ পয়েন্ট, তাদের অবস্থান দুই নম্বরে। আয়ারল্যান্ড ৩ পয়েন্ট নিয়ে তিন নম্বরে রয়েছে। চার ও পাঁচ নম্বরে আছে অস্ট্রেলিয়া এবং ওমান।

চ্যালেঞ্জিং ১৭৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে জিম্বাবুয়ে শেষ ওভারের মধ্যে চার উইকেটে জয় নিশ্চিত করে। ওপেনার ব্রায়ান বেনেট এবং তাদিওয়ানাশা মারুমানি শুরু থেকেই মারকুটে ব্যাটিংয়ে প্রথম উইকেটে ৬৯ রানের জুটি গড়ে। শ্রীলঙ্কা ৯ম ওভারে প্রথম ব্রেক থ্রু পায় দুনিথ ওয়াল্লালেগে মারুমানিকে আউট করলে, যিনি ২৬ বল খেলে ৩৪ রানের ইনিংস খেলেন, এতে ছিল পাঁচটি চার এবং এক ছয়।

এরপর রায়ান বার্ল ঝটিকা ইনিংস খেলেন, ১২ বল থেকে ২৩ রান করে চাপ কমান তিনি, কিন্তু তাঁকে আউট করেন অধিনায়ক দাসুন শানাকা। অধিনায়ক সিকান্দার রাজা বেনেটের সঙ্গে ক্রিজে যোগ দেন এবং আক্রমণাত্মক ব্যাটিং চালিয়ে স্কোরবোর্ড এগোতে রাখেন, দুই ছয় মেরে শেষ পাঁচ ওভারে ৪৫ রানের সমীকরণে পৌঁছে দেন তিনি।

দুই জন মিলে ৫০ রানের ঝড়ো জুটি গড়ে জিম্বাবুয়েকে এগিয়ে রাখেন, বেনেট তাঁর অর্ধশতক পূর্ণ করেন। তবে ১৯তম ওভারে দুশান হেমন্থ রাজাকে আউট করে গুরুত্বপূর্ণ জুটি ভেঙে দেন, রাজা ২৬ বল খেলে ৪৫ রান করেন, এতে ছিল দুইটি চার এবং চারটি ছয়, জিম্বাবুয়ে তখন ১৮.২ ওভারে ১৬৭-৩। একই ওভারে হেমান্থর আরও এক উইকেট শ্রীলঙ্কাকে আবার আশার আলো দেখায়। শেষ ওভারে ৮ রানের প্রয়োজন ছিল, তখন টনি মুনোয়াগা এক ছয় মেরে ম্যাচ শেষ করেন এবং বেনেট ৬৩ রানে অপরাজিত থাকেন। মুনিয়োগাও ৩ বল থেকে ৮ রান করে অপরাজিত থাকেন। ৩ বল বাকি থাকতেই জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়ে তারা। শ্রীলঙ্কার পক্ষে দুশান হেমন্থ ২ উইকেট শিকার করেন।

এর আগে টসে হেরে ব্যাটিং করতে নেমে ভালো শুরু করেছিল শ্রীলঙ্কা। কুশল পেরেরা (২২) ও পাথুম নিশাঙ্কার আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে পাওয়ার প্লে-তে দাপট দেখায় তারা। নিশাঙ্কা খেলেন ৪১ বলে ৬২ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস। তবে মাঝপথে জিম্বাবুয়ের বোলাররা নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে লঙ্কানদের রানের গতি কমিয়ে দেয়।

এর আগে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে শ্রীলঙ্কা পাওয়ার প্লেতে তোলে ১ উইকেটে ৬১ রান। মাত্র ৪.১ ওভারেই দলীয় অর্ধশতক পূর্ণ করে, যা টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ইতিহাসে তাদের দ্রুততম দলীয় পঞ্চাশ। আগের ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয়ের নায়ক পাথুম নিসাঙ্কা আবারও ঝড় তোলেন। ৪১ বলে ৬২ রানের ইনিংসে আটটি চার মারেন এবং এই পথে তিনি কুশল মেন্ডিসকে ছাড়িয়ে শ্রীলঙ্কার টি–টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকও হন।

তবে মাঝের ওভারগুলোতে ম্যাচে ফেরে জিম্বাবুয়ে। লেগ স্পিনার গ্রায়েম ক্রেমার (২/২৭) কামিন্দু মেন্ডিস ও নিসাঙ্কাকে ফিরিয়ে লঙ্কানদের চাপে ফেলেন। ১০০/২ থেকে দ্রুত ১২৩/৪ হয়ে যায় স্কোর। শেষ দিকে ১৯তম ওভারে ব্র্যাড ইভানস টানা দুই বলে দুই উইকেট নিয়ে রানরেট কমিয়ে দেন। ইনিংসের শুরুতেই আঘাত হানা ব্লেসিং মুজারাবানি শেষ পর্যন্ত ২/৩৮ নেন।

শেষদিকে পাভান রাথনায়েকে ২৫ বলে ৪৪ রানের ঝড়ো ইনিংস (৩ চার, ২ ছক্কা) খেলে দলকে সম্মানজনক সংগ্রহ এনে দেন। তবু তা জয়ের জন্য যথেষ্ট হয়নি। জিম্বাবুয়ের পক্ষে ব্লেসিং মুজারাবানি, ব্র্যাড ইভান্স ও গ্রায়েম ক্রিমার ২টি করে উইকেট নেন।