নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধি :
নেত্রকোনা জেলা সদরের সাতপাই চাঁনখার মোড় থেকে হাটখলা বাজার হয়ে মৌগাতি ইউনিয়ন পর্যন্ত ৬ দশমিক ২ কিলোমিটার সড়ক দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। ফলে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছেন হাজারও মানুষ। এই সড়ক দিয়েই মৌগাতি ইউনিয়নের পাশাপাশি জেলার পূর্বধলা ও দুর্গাপুর উপজেলার মানুষ জেলা সদরে আসা-যাওয়া করে।
গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি সংস্কারে নেই কোনো কার্যকর উদ্যোগ। ফলে ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে অহরহ, ঝুঁকিতে পড়ছেন রোগী, শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে সাধারণ যাত্রীরা।
স্থানীয়রা জানান, খানাখন্দে ভরা এই সড়ক প্রতি বর্ষায় হয়ে ওঠে আরও ভয়ংকর। প্রতিনিয়ত রিকশা-ভ্যান উল্টে যাত্রী আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটে। গাড়ির যন্ত্রাংশও নষ্ট হয়ে যায় বারবার।
পথচারী খোকন মিয়া বলেন, রোগী নিয়ে যাওয়া যেন বিপদজনক। সড়কের কারণে রোগীর অবস্থা আরও খারাপ হয়ে পড়ে। বছর দুয়েক আগে মেরামত হয়েছিল, কিন্তু বছর ঘুরতে না ঘুরতেই আবার জরাজীর্ণ হয়ে যায়। দশক ধরে এমন অবস্থা চলছে। মেরামত করে মাস তিনেকের মধ্যেই আগের অবস্থা হয়। এগুলো কেন করে বুঝি না।
স্থানীয় মানিক তালুকদার বলেন, রিকশা উল্টে যায় প্রায় সময়। যাত্রীরা পড়ে গিয়ে নানা দুর্ঘটনা ঘটে। এতে শিশু-বৃদ্ধরা বেশি আহত হন। স্কুলের শিশুদের নিয়ে সবসময় ভয়ে থাকেন অভিভাবকরা।
রিকশাচালক রবিউল বলেন, গাড়ির নানা যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়ে পড়ে প্রায়ই। এগুলো ঠিক করতে করতেই আমাদের লাভ-ক্ষতি সমান হয়ে যায়।
এই সড়কের মধ্যে ১ দশমিক ১ কিলোমিটার অংশ নেত্রকোনা পৌরসভার অধীনে, বাকি অংশ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি)। দায়িত্ব ভাগাভাগি নিয়ে দুই প্রতিষ্ঠানের টানাপোড়েনেই সংস্কার বিলম্বিত হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রবিউল ইসলাম বলেন, উদ্যোগ নেই এমন না, উদ্যোগ আছে। তবে অর্থের বরাদ্দ কম থাকায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করা হয়। এখানে দুইটি অংশ রয়েছে— একটি পৌরসভার। পৌরসভার অংশটি করার জন্য ডিডিএলজিকে বলা হয়েছে। আমরা যে সড়কে কাজ করি তা একবার ঠিক হলে তিন বছর চলে যায়। অনেক সময় চার-পাঁচ বছর পরে ওই সড়ক পুনরায় করা যায়। তিন-চার বছরের কমে করা হয় না। আশা করছি ভালো ঠিকাদার পেলে আগামী আগস্ট-সেপ্টেম্বরে অনুমোদনে যেতে পারবো।
কেন সড়কের কাজ টেকসই হয় না জানতে চাইলে তিনি বলেন, বরাদ্দ অনুযায়ী কাজ করা হয়।
অন্যদিকে পৌরসভার প্রশাসক ও স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক (ডিডি এলজি) মো. আরিফুল ইসলাম সরদার বলেন, সড়কটি খুবই জরাজীর্ণ। পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে। এটি ভিজিট করে দেখা হয়েছে। প্রজেক্টে দেয়া হলে সেখানে দেয়া হবে, না হলে এডিপিতে দেয়া হবে। এরইমধ্যে পৌরসভার পাঁচটি সড়কের কাজ চলমান। আমাদের আওতায় কোনো রাস্তা জরাজীর্ণ থাকবে না। ইউনিয়ন পর্যায়ের এই সড়কটিতেও আমরা আমাদের অংশের কাজ সম্পন্ন করব।
সাতপাই, বরশিকুড়া, কুনিয়া, কাঞ্চনপুর, হাটখলা ও মৌগাতি এলাকায় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, বাজার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তবুও দীর্ঘদিন ধরে এই সড়ক অবহেলিত হয়ে আছে।
এলজিইডি সূত্র জানায়, সদর উপজেলায় মোট ৯৯০ কিলোমিটার আইডিভুক্ত সড়ক রয়েছে। এর মধ্যে কাঁচা সড়ক ৭২৫ কিলোমিটার, কার্পেটিং ২৪৭ কিলোমিটার, হেরিংবন্ড ১৬ কিলোমিটার এবং আরসিসি পাকা সড়ক রয়েছে মাত্র দেড় কিলোমিটার।
স্থানীয়রা বলছেন, বরাদ্দের অজুহাত না দেখিয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটির দ্রুত সংস্কার কাজ শুরু না করলে জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে।