বৃহস্পতিবার, ২৫ জুলাই ২০২৪, ০৪:০০ পূর্বাহ্ন

৩ দিনের অবরোধ কর্মসূচির ডাক বিএনপির

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট : রবিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৩
৩ দিনের অবরোধ কর্মসূচির ডাক বিএনপির

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

দেশব্যাপী সকাল-সন্ধ্যা হরতাল শেষে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। টানা তিন দিন অবরোধ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে দলটি। আগামী ৩১ অক্টোবর, ১ ও ২ নভেম্বর এ কর্মসূচি পালন করবে তারা।

রোববার (২৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় জুমে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ।

তিনি বলেন, সারাদেশে আমাদের অসংখ্য নেতাকর্মী কারাগারে বন্দি। অনেকেই গুম খুন হয়েছেন। আমাদের নেত্রী, গণতন্ত্রের মাতা বেগম খালেদা জিয়া মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি। বিদেশে তাকে উন্নত চিকিৎসার সুযোগ দিচ্ছে না। তাকে সুচিকিৎসা বঞ্চিত করা হয়েছে। তার মুক্তির জন্য, দেশের সীমাহীন বঞ্চনা, অব্যাহত দুর্নীতি লুটপাট, ২৮ অক্টোবর বিএনপির মহাসমাবেশে হামলা, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে গ্রেফতার, নেতাকর্মীদের বাসা-বাড়িতে তল্লাশির নামে ভাঙচুরের প্রতিবাদে ৩১ অক্টোবর, ১ ও ২ নভেম্বর দেশব্যাপী সর্বাত্মক অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হবে। রেলপথ, নৌপথ, রাজপথ সর্বাত্মক অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম ও সহ অর্থনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক মাহমুদুর রহমান সুমন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে শান্তিপূর্ণ সমাবেশ থেকে সহিংস কর্মকাণ্ডের মধ্যদিয়ে আবারও জ্বালাও-পোড়াও কর্মসূচিতে ফিরেছে বিএনপি। সাংবাদিক ও পুলিশের ওপর বর্বর হামলার পাশাপাশি গণপরিবহনে আগুন দিয়ে শনিবার (২৮ অক্টোবর) ভয়ের রাজনীতির প্রদর্শনী শুরু করে বিএনপি-জামায়াত।

সেই ধারাবাহিকতায় প্রায় চার বছর (৩ বছর ৮ মাস) পর আবারও রোববার (২৯ অক্টোবর) হরতালের ডাক দেয় তারা। এরআগে, ২০২০ সালের ২ ফেব্রুয়ারি সবশেষ হরতাল কর্মসূচি পালন করে বিএনপি।

পুলিশ ও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে নিজেদের মহাসমাবেশে হামলার অভিযোগ তুলে ডাকা বিএনপির হরতালে সকাল থেকেই রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় গণপবিহনসহ বিভিন্ন গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। রাজধানীতে শিকড়, বিহঙ্গ, অছিম, পরিস্থান, বিআরটিসিসহ বিভিন্ন পরিবহন সংস্থার বাসে অগ্নিসংযোগ এবং ভাঙচুরের তথ্য পাওয়া গেছে। এতে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

এদিকে জাতীয় নির্বাচনের আগে এমন কর্মসূচিতে জনমনে তৈরি হয়েছে উৎকণ্ঠা। হরতালের কারণে বাস টার্মিনালগুলোতে ছিল না স্বাভাবিক চিত্র। হরতালে বাস চালানোর ঘোষণা থাকলেও সকালে ছাড়েনি দূরপাল্লার গাড়ি।

হরতালে গণপরিবহনের ক্ষতিসাধানকারীদের বিচার দাবি করেছেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্লাহ। তিনি বলেন, অগ্নিসংযোগ ঘটানো ও সন্ত্রাসী কার্যক্রমে লিপ্তদের বিরুদ্ধে সরকার যেন যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করে। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত মালিকদের ক্ষতিপূরণও দাবি করেন তিনি।

শনিবার রাজনৈতিক দলগুলোর সমাবেশ ঘিরে দিনভর উত্তাপ, সংঘর্ষ ও প্রাণহানির মধ্যে ঘোষণা আসে হাতালের। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিকেল সোয়া ৩টার দিকে নয়াপল্টনে মহাসমাবেশের মঞ্চ থেকে হরতালের ঘোষণা দেন। অন্যদিকে অনুমতি ছাড়াই সমাবেশ করে পুলিশকে ধন্যবাদ জানায় জামায়াতে ইসলামী। পরে আবার বিএনপির প্রতি সহমর্মিতা জানিয়ে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ডাকে দলটি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ বিভাগের আরো সংবাদ

আবহাওয়া