Dhaka বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

২ লাখ কোটি টাকার সংশোধিত এডিপি, বরাদ্দ কমলো ৩০ হাজার কোটি টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

রাজনৈতিক অস্থিরতাসহ নানা কারণে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে গতি কমে আসায় বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার ৩০ হাজার কোটি টাকা কমানো হয়েছে। ফলে চলতি অর্থবছরের জন্য এডিপির মোট বরাদ্দ নেমে এসেছে ২ লাখ কোটি টাকায়।

সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) বৈঠকে সংশোধিত এডিপি অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, সংশোধিত এডিপিতে সরকারি অর্থায়ন এবং বিদেশি ঋণ ও অনুদান—উভয় খাতেই উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বরাদ্দ কমানও হয়েছে। সরকারি অর্থায়নের অংশে বরাদ্দ কমেছে ১৬ হাজার কোটি টাকা, যা মূল বরাদ্দের তুলনায় প্রায় ১১ শতাংশ। অন্যদিকে বিদেশি ঋণ ও অনুদানের ক্ষেত্রে কাটছাঁট হয়েছে ১৪ হাজার কোটি টাকা, যা প্রায় ১৬ শতাংশের বেশি। ফলে সরকারি অর্থায়ন নেমে এসেছে ১ লাখ ২৮ হাজার কোটি টাকায়, আর বিদেশি ঋণ ও অনুদান কমে হয়েছে ৭২ হাজার কোটি টাকা।

তিনি জানান, সংশোধিত এডিপিতে মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর চাহিদাই ছিল তুলনামূলকভাবে কম। সংশোধনের সময় তারা মোট বরাদ্দ চেয়েছিল প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকা। এর পেছনে অন্যতম কারণ হিসেবে উঠে এসেছে চলতি অর্থবছরে প্রকল্প বাস্তবায়নের ধীরগতি। অনেক প্রকল্পে দীর্ঘদিন ধরে প্রকল্প পরিচালক না থাকা, নতুন পরিচালক নিয়োগে বিলম্ব এবং বড় কয়েকটি প্রকল্প সরকারিভাবে পুনর্মূল্যায়নের আওতায় থাকা—এসব কারণে প্রকল্প ব্যয় কম চাওয়া হয়েছে।

চলতি অর্থবছরের মূল এডিপির আকার ছিল ২ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। সংশোধিত এডিপিতে (আরএডিপি) তা কমিয়ে আনা হয়েছে ২ লাখ কোটি টাকায়। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, বাস্তবায়ন অগ্রগতি কম থাকায় বিশেষ করে বড় আকারের অবকাঠামো প্রকল্পগুলোর বরাদ্দে বড় ধরনের কাটছাঁট করা হয়েছে।

২০২৫-২৬ অর্থবছরের আরএডিপিতে সরকারি তহবিল থেকে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১ লাখ ২৮ হাজার কোটি টাকা এবং বৈদেশিক ঋণ থেকে ৭২ হাজার কোটি টাকা। এতে মূল এডিপির তুলনায় সরকারি তহবিলের বরাদ্দ কমেছে ১৬ হাজার কোটি টাকা এবং বৈদেশিক ঋণ কমেছে ১৪ হাজার কোটি টাকা।

মেগা প্রকল্পগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় কাটছাঁট করা হয়েছে মেট্রোরেল লাইন-১ (এমআরটি লাইন-১) প্রকল্পে। এই প্রকল্পে চলমান এডিপিতে বরাদ্দ ছিল ৮ হাজার ৬৩১ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। সংশোধিত এডিপিতে তা কমিয়ে ৮০১ কোটি টাকা করা হয়েছে। ফলে প্রকল্পটির বরাদ্দ কমেছে ৭ হাজার ৮৩০ কোটি ৪৩ লাখ টাকা, যা মোট বরাদ্দের প্রায় ৯১ শতাংশ।

বরাদ্দ কমার তালিকায় পরের অবস্থানে রয়েছে মাতারবাড়ী বন্দর উন্নয়ন প্রকল্প। এতে বরাদ্দ ছিল ৪ হাজার ৬৮ কোটি টাকা। সংশোধিত এডিপিতে তা কমিয়ে ১ হাজার ৮৫ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে বরাদ্দ কমেছে ২ হাজার ৯৮৩ কোটি টাকা, অর্থাৎ প্রায় ৭৩ শতাংশ

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্পেও বড় অঙ্কের বরাদ্দ কমানো হয়েছে। প্রকল্পটির বরাদ্দ ১ হাজার ৩৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকা থেকে কমিয়ে ৩০৬ কোটি ৪৪ লাখ টাকা করা হয়েছে। এতে বরাদ্দ কমেছে ৭৩২ কোটি ৯১ লাখ টাকা, যা মোট বরাদ্দের প্রায় ৭১ শতাংশ।

এ ছাড়া বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্পে বরাদ্দ ৪২৫ কোটি টাকা থেকে কমিয়ে ১৬৮ কোটি ৬ লাখ টাকা করা হয়েছে। এতে বরাদ্দ কমেছে প্রায় ৬০ শতাংশ।

মেট্রোরেল লাইন-৫ (এমআরটি লাইন-৫) প্রকল্পে বরাদ্দ ১ হাজার ৪৯০ কোটি ৬৫ লাখ টাকা থেকে কমিয়ে ৫৯২ কোটি ৮ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা প্রায় ৬০ শতাংশ কম।

মেট্রোরেল লাইন-৬ (এমআরটি লাইন-৬) প্রকল্পে বরাদ্দ ১ হাজার ৩৪৭ কোটি ৪৪ লাখ টাকা থেকে কমিয়ে ১ হাজার ২৩ কোটি ৪৮ লাখ টাকা করা হয়েছে। এতে বরাদ্দ কমেছে প্রায় ২৪ শতাংশ।

আপগ্রেডিং অব হাটিকুমরুল-রংপুর হাইওয়ে টু ফোর লেন প্রকল্পেও কাটছাঁট করা হয়েছে। এ প্রকল্পে বরাদ্দ ১ হাজার ৮৭২ কোটি ৫ লাখ টাকা থেকে কমিয়ে ১ হাজার ৫৬২ কোটি ৫৩ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে বরাদ্দ কমেছে প্রায় ১৭ শতাংশ।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নিয়ে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করেছে সরকারি দল : নাহিদ ইসলাম

২ লাখ কোটি টাকার সংশোধিত এডিপি, বরাদ্দ কমলো ৩০ হাজার কোটি টাকা

প্রকাশের সময় : ০৪:২৭:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

রাজনৈতিক অস্থিরতাসহ নানা কারণে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে গতি কমে আসায় বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার ৩০ হাজার কোটি টাকা কমানো হয়েছে। ফলে চলতি অর্থবছরের জন্য এডিপির মোট বরাদ্দ নেমে এসেছে ২ লাখ কোটি টাকায়।

সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) বৈঠকে সংশোধিত এডিপি অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, সংশোধিত এডিপিতে সরকারি অর্থায়ন এবং বিদেশি ঋণ ও অনুদান—উভয় খাতেই উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বরাদ্দ কমানও হয়েছে। সরকারি অর্থায়নের অংশে বরাদ্দ কমেছে ১৬ হাজার কোটি টাকা, যা মূল বরাদ্দের তুলনায় প্রায় ১১ শতাংশ। অন্যদিকে বিদেশি ঋণ ও অনুদানের ক্ষেত্রে কাটছাঁট হয়েছে ১৪ হাজার কোটি টাকা, যা প্রায় ১৬ শতাংশের বেশি। ফলে সরকারি অর্থায়ন নেমে এসেছে ১ লাখ ২৮ হাজার কোটি টাকায়, আর বিদেশি ঋণ ও অনুদান কমে হয়েছে ৭২ হাজার কোটি টাকা।

তিনি জানান, সংশোধিত এডিপিতে মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর চাহিদাই ছিল তুলনামূলকভাবে কম। সংশোধনের সময় তারা মোট বরাদ্দ চেয়েছিল প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকা। এর পেছনে অন্যতম কারণ হিসেবে উঠে এসেছে চলতি অর্থবছরে প্রকল্প বাস্তবায়নের ধীরগতি। অনেক প্রকল্পে দীর্ঘদিন ধরে প্রকল্প পরিচালক না থাকা, নতুন পরিচালক নিয়োগে বিলম্ব এবং বড় কয়েকটি প্রকল্প সরকারিভাবে পুনর্মূল্যায়নের আওতায় থাকা—এসব কারণে প্রকল্প ব্যয় কম চাওয়া হয়েছে।

চলতি অর্থবছরের মূল এডিপির আকার ছিল ২ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। সংশোধিত এডিপিতে (আরএডিপি) তা কমিয়ে আনা হয়েছে ২ লাখ কোটি টাকায়। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, বাস্তবায়ন অগ্রগতি কম থাকায় বিশেষ করে বড় আকারের অবকাঠামো প্রকল্পগুলোর বরাদ্দে বড় ধরনের কাটছাঁট করা হয়েছে।

২০২৫-২৬ অর্থবছরের আরএডিপিতে সরকারি তহবিল থেকে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১ লাখ ২৮ হাজার কোটি টাকা এবং বৈদেশিক ঋণ থেকে ৭২ হাজার কোটি টাকা। এতে মূল এডিপির তুলনায় সরকারি তহবিলের বরাদ্দ কমেছে ১৬ হাজার কোটি টাকা এবং বৈদেশিক ঋণ কমেছে ১৪ হাজার কোটি টাকা।

মেগা প্রকল্পগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় কাটছাঁট করা হয়েছে মেট্রোরেল লাইন-১ (এমআরটি লাইন-১) প্রকল্পে। এই প্রকল্পে চলমান এডিপিতে বরাদ্দ ছিল ৮ হাজার ৬৩১ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। সংশোধিত এডিপিতে তা কমিয়ে ৮০১ কোটি টাকা করা হয়েছে। ফলে প্রকল্পটির বরাদ্দ কমেছে ৭ হাজার ৮৩০ কোটি ৪৩ লাখ টাকা, যা মোট বরাদ্দের প্রায় ৯১ শতাংশ।

বরাদ্দ কমার তালিকায় পরের অবস্থানে রয়েছে মাতারবাড়ী বন্দর উন্নয়ন প্রকল্প। এতে বরাদ্দ ছিল ৪ হাজার ৬৮ কোটি টাকা। সংশোধিত এডিপিতে তা কমিয়ে ১ হাজার ৮৫ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে বরাদ্দ কমেছে ২ হাজার ৯৮৩ কোটি টাকা, অর্থাৎ প্রায় ৭৩ শতাংশ

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্পেও বড় অঙ্কের বরাদ্দ কমানো হয়েছে। প্রকল্পটির বরাদ্দ ১ হাজার ৩৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকা থেকে কমিয়ে ৩০৬ কোটি ৪৪ লাখ টাকা করা হয়েছে। এতে বরাদ্দ কমেছে ৭৩২ কোটি ৯১ লাখ টাকা, যা মোট বরাদ্দের প্রায় ৭১ শতাংশ।

এ ছাড়া বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্পে বরাদ্দ ৪২৫ কোটি টাকা থেকে কমিয়ে ১৬৮ কোটি ৬ লাখ টাকা করা হয়েছে। এতে বরাদ্দ কমেছে প্রায় ৬০ শতাংশ।

মেট্রোরেল লাইন-৫ (এমআরটি লাইন-৫) প্রকল্পে বরাদ্দ ১ হাজার ৪৯০ কোটি ৬৫ লাখ টাকা থেকে কমিয়ে ৫৯২ কোটি ৮ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা প্রায় ৬০ শতাংশ কম।

মেট্রোরেল লাইন-৬ (এমআরটি লাইন-৬) প্রকল্পে বরাদ্দ ১ হাজার ৩৪৭ কোটি ৪৪ লাখ টাকা থেকে কমিয়ে ১ হাজার ২৩ কোটি ৪৮ লাখ টাকা করা হয়েছে। এতে বরাদ্দ কমেছে প্রায় ২৪ শতাংশ।

আপগ্রেডিং অব হাটিকুমরুল-রংপুর হাইওয়ে টু ফোর লেন প্রকল্পেও কাটছাঁট করা হয়েছে। এ প্রকল্পে বরাদ্দ ১ হাজার ৮৭২ কোটি ৫ লাখ টাকা থেকে কমিয়ে ১ হাজার ৫৬২ কোটি ৫৩ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে বরাদ্দ কমেছে প্রায় ১৭ শতাংশ।