বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০২৪, ০১:২১ পূর্বাহ্ন

২৮ অক্টোবরকে কেন্দ্র করে সবকিছুতে নজরদারি : ডিএমপি কমিশনার

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট : শনিবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৩
২৮ অক্টোবরকে কেন্দ্র করে সবকিছুতে নজরদারি : ডিএমপি কমিশনার

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার হাবিবুর রহমান বলেন, ২৮ অক্টোবরকে কেন্দ্র করে আমরা সবকিছু নজরদারিতে রেখেছি। সবাই কাজ করছে। যখনই কোনও তথ্য পাওয়া যাবে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ২০১৪ সালে অপচেষ্টা চালানো হয়েছিল, সেগুলো প্রতিহত করা হয়েছে। আগামীতে যেকোনও অপচেষ্টার বিরুদ্ধে জনগণ এবং বাংলাদেশ পুলিশ একসঙ্গে কাজ করবে।

শনিবার (২১ অক্টোবর) মেট্রোরেলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং এমআরটি পুলিশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন শেষে উত্তরা উত্তর মেট্রো স্টেশনে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, কর্মসূচির আড়ালে যদি কেউ সহিংস পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করে, ঢাকার ২ কোটি ২৪ লাখ মানুষের জানমালের নিরাপত্তার শঙ্কা তৈরি করে- তবে ডিএমপির পক্ষ থেকে তা কঠোর হস্তে দমন করা হবে।

আগামী ২৮ অক্টোবর বিএনপির মহাসমাবেশ ঘিরে কোনো উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়, তাহলে কিভাবে সামাল দেবে পুলিশ? সাংবাদিকদের এ প্রশ্নের জবাবে ডিএমপি কমিশনার বলেন, বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক দেশ। বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী যেকোনো রাজনৈতিক দল শান্তিপূর্ণভাবে রাজনৈতিক আন্দোলন, মিছিল-মিটিং সমাবেশ করার অধিকার রয়েছে। এসব ক্ষেত্রে পুলিশ নিরাপত্তাও দিয়ে থাকে। তবে ২৮ অক্টোবর যদি কেউ সহিংস পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করে, তবে ডিএমপির পক্ষ থেকে তা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে।

২৮ অক্টোবর বিএনপির মহাসমাবেশ ঘিরে নানা ধরনের গুজব ছড়াচ্ছে। এর মাধ্যমে আতঙ্ক-উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে। গুজব ঠেকাতে ডিএমপির উদ্যোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে ডিএমপি কমিশনার বলেন, সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য একটি স্বার্থন্বেষী মহল গুজব ছড়াচ্ছে। শুধু ২৮ অক্টোবর ঘিরেই নয়। অন্যান্য বিষয়েও ফেসবুক, ইউটিউবসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ছড়ানো অপচেষ্টা করা হচ্ছে। আমরা মনে করি ঢাকাসহ সারাদেশের মানুষ গুজবের বিরুদ্ধে সচেষ্ট থাকবে। ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। গুজবকে উড়িয়ে দিয়ে জনগণের জানমালের নিরাপত্তা আমরা নিশ্চিত করতে পারবো।

হাবিবুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে একটি স্বার্থান্বেষী মহল বিভ্রান্তি সৃষ্টির জন্য বিভিন্ন মাধ্যমে গুজব ছড়ানোর অপচেষ্টা করে আসছে। বাংলাদেশের মানুষ, ঢাকা শহরের মানুষ অনেক সচেতন। আশা করি, এ ধরনের গুজব প্রতিহত করার জন্য সবাই সচেষ্ট থাকবে। গণমাধ্যমকেও এ বিষয়ে সঠিক সংবাদ প্রচার করতে হবে।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন আরেকটা শাপলা চত্বর হতে যাচ্ছে। পরিণতি হবে শাপলার চত্বরের চেয়েও ভয়াবহ।

এ ব্যাপারে কোনো গোয়েন্দা তথ্য আছে কি-না জানতে চাইলে কমিশনার বলেন, আমরা নজরদারির ভেতরে রেখেছি। আমাদের পুলিশের গোয়েন্দা সংস্থাসহ অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থা কাজ করছে। এ ব্যাপারে যে কোনো তথ্য যদি আমরা পাই তবে আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। ২০১৩-১৪ সালে এরকমই অপতৎপরতার চেষ্টা করা হয়েছিল। সেটি কেবল ঢাকা নয়, সারা দেশেই করা হয়েছিল। তখন বাংলাদেশ পুলিশ সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিহত করেছে, পরাজিত হয়েছে সন্ত্রাসীরা। আগামীতেও এ ধরণের যে কোনো অপচেষ্টার বিরুদ্ধে জনগণ ও পুলিশ এক হয়ে প্রতিহত করা হবে ইনশাআল্লাহ।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, মেট্রোরেলের ভেতরে ও স্টেশনে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবে এমআরটি পুলিশ। সেই দক্ষতার জন্য তাদেরকে দীর্ঘদিন ধরে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে এমআরটি পুলিশ তাদের কার্যক্রম শুরু করেছে। আগামী চার নভেম্বর মতিঝিল পর্যন্ত মেট্রোরেল উদ্বোধনের পর সম্পূর্ণভাবে দায়িত্ব পালন করবে এমআরটি পুলিশ।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে মেট্রোরেলের নিরাপত্তার জন্য একটি স্বতন্ত্র ও বিশেষায়িত এমআরটি পুলিশ ইউনিট গঠনের লক্ষ্যে প্রাথমিকভাবে পুলিশ মহাপরিদর্শক, বাংলাদেশ পুলিশের অধীনে একজন ডিআইজির নেতৃত্বে ২৩১টি পদ সৃজন করা হয়। মেট্রোরেলের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং একটি যাত্রীবান্ধব নিরাপত্তা পরিকল্পনা প্রণয়নে ২৩১ জন সদস্য অপ্রতুল বিবেচনা করে আইজিপি পুলিশের নির্দেশে অতিরিক্ত জনবলসহ ৫৩৭ জন পদায়ন করা হয়েছে।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, প্রধানমন্ত্রীর অভিপ্রায় অনুযায়ী এমআরটি পুলিশকে বিশেষায়িত ইউনিট হিসেবে গড়ে তোলার জন্য এমআরটি পুলিশ প্রধান ডিআইজি জিহাদুল কবিরের নেতৃত্বে এ ইউনিটের সদস্যরা বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ গ্রহণপূর্বক মেট্রোরেলের সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্ব নিতে প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। ইতোমধ্যে স্বতন্ত্র ডিভ সাইন ও জ্যাকেট, ট্যাকটিক্যাল বেন্ট, বডি ওউন্ড ক্যামেরা, শর্ট আর্মসে সজ্জিত হয়ে হ্যান্ডস ফ্রি পুলিশিংয়ের মাধ্যমে যাত্রী এবং মেট্রোরেলের নিরাপত্তা দিতে সম্পূর্ণরূপে প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে এমআরটি পুলিশ। মেট্রোরেলের মতো নতুন একটি কনসেন্টের নিরাপত্তায় উন্নত বিশ্বের পুলিশ কিভাবে দায়িত্ব পালন করছে সে বিষয়ে জ্ঞান অর্জনের জন্য বৈদেশিক প্রশিক্ষণের বিষয়েও আলোচনা করা হচ্ছে।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ বিভাগের আরো সংবাদ

আবহাওয়া