নিজস্ব প্রতিবেদক :
২০২৭ সালের এসএসসি ও এইচএসসি এবং সমমানের পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করেছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন। তিনি জানিয়েছেন, আগামী বছরের ৭ জানুয়ারি থেকে এসএসসি ও সমমান এবং ৬ জুন থেকে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হবে।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) দুপুরে সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দেশের সবচেয়ে বড় দুটি পাবলিক পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করেন তিনি।
শিক্ষামন্ত্রী জানান, এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শেষ হবে ২০২৭ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি। আর এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শেষ হবে ১৩ জুলাই। পরীক্ষাগুলোর রুটিন তৈরির কাজ চলছে।
এ দুই পরীক্ষার প্রস্তাবিত সূচিও প্রকাশ করা হয়েছে শিক্ষা বোর্ডগুলোর পক্ষ থেকে।
স্বাভাবিকভাবে ১৬ বছর বয়সে এসএসসি এবং ১৮ বছর বয়সে এইচএসসি পরীক্ষার গণ্ডি পার হওয়ার কথা থাকলেও শিক্ষার্থীরা ২০ বছর বয়সে এইচএসসি পাস করছে মন্তব্য করে মন্ত্রী বলেন, “গড়ে ২০ লাখ পরীক্ষার্থী পাবলিক পরীক্ষা দিলে এর ফলে ডেমগ্রাফিক ডেভিডেন্টে জাতি ৪০ লাখ বছর পিছিয়ে যাচ্ছে। সে ক্ষেত্রে আমরা চেষ্টা করছি সেশনজট কমিয়ে আনা, সিলেবাস কভার করা এবং সঠিকভাবে তাদের শিখন হওয়ার পরে পরীক্ষা নেওয়া এই বিষয়গুলোকে আমরা গুরুত্ব দিয়েছি।
“এসএসসি পরীক্ষার জন্য বসে থাকে ছাত্রছাত্রীরা, প্রায় এক বছর নষ্ট হয়ে যায় এবং এইচএসসি পরীক্ষার জন্য ছাত্র-ছাত্রী বসে থেকে প্রায় এক বছর নষ্ট হয়ে যায়। এই গ্যাপটাকে ক্রমান্বয়ে আমরা ক্লোজ করতে চাচ্ছি।”
শিক্ষামন্ত্রী এর আগে বলেছিলেন, তিনি স্কুল ও কলেজের সমাপনী পরীক্ষা ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করতে চান। তার ওই পরিকল্পনা নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে প্রতিক্রিয়া হয়।
বুধবার মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সম্মেলনে কক্ষে আয়োজিত এক সভায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ অংশীজনরা বছরের শুরুতে জানুয়ারি মাসে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা এবং বছরের মাঝামাঝিতে জুন মাসে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু করার প্রস্তাব করেন।
সে অনুযায়ী আগামী বছরের এ দুই পরীক্ষার সম্ভাব্য সূচি প্রস্তুত করার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী আভাস দেন, ক্রমান্বয়ে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা বছরের শেষে নিয়ে আসার পরিকল্পনা থেকে তিনি সরে আসেননি।
“আমরা ক্রমান্বয়ে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জীবন থেকে দুই বছর যেন নষ্ট না হয় সেই দিকে এগোচ্ছি। এটা তো আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এটাতো বোর্ড নিতে পারে না, মন্ত্রণালয় নেবে।”
এসএসসি ও এইচএসসির তত্ত্বীয় পরীক্ষা শেষ হওয়ার দুই মাসের মধ্যে ফল প্রকাশ করা হবে বলে জানান মন্ত্রী।
“দুই মাসের বেশি একদিনও কেউ রেজাল্ট ধরে রাখতে পারবে না, সেটাই প্র্যাকটিস হচ্ছে। তবে এখন যেহেতু আরো অ্যাডভান্স হয়েছে, এটাকে আরো স্কুইজ করা হবে।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ফল’ সেমিস্টারে যাতে শিক্ষার্থীরা ভর্তি হতে পারে, সেটা বিবেচনায় রেখে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।
তিনি বলেন, “জুন মাসে পরীক্ষা নিচ্ছি, জুলাইতে শেষ হবে এবং তারা ফল সেমিস্টার ধরতে পারবে।”
আগামী বছরের শুরুতেই শিক্ষার্থীরা বিনামূল্যের পাঠ্যবই হাতে পাবে বলেও আশা প্রকাশ করেন এহছানুল হক মিলন।
তিনি বলেন, “এটা তো বিএনপি সরকার প্র্যাকটিস করে আসছে। ২০০২ সালের জানুয়ারি মাসের এক তারিখে আমর বই দিয়েছিলাম, ২০০৬ সাল পর্যন্ত দিয়ে এসেছি। অতএব এটা তো আমরা প্র্যাকটিস আগেই করে ফেলছি। সেটা নিয়ে তো আর আমার নতুন প্র্যাকটিস করতে হবে না। এটা ডান। এক তারিখে বই আসবে এটা তো জানি। ইনশাল্লাহ।”
নিজস্ব প্রতিবেদক 


















