মঙ্গলবার, ০৪ অক্টোবর ২০২২, ০৩:২০ পূর্বাহ্ন

২০১৯-২০ : রেকর্ড দ্বিতীয় সর্বোচ্চ খাদ্যশস্য আমদানি

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট : মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২০

গত অর্থবছরে (২০১৯-২০) দেশে চাল ও গম আমদানি হয়েছে প্রায় ৬৪ লাখ ৩৪ হাজার টন, যা গত চার দশকে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। এর মধ্যে চালের পরিমাণ খুবই সামান্য। আমদানির সিংহভাগই গম।

দেশে সাধারণত প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা প্রতিকূল পরিস্থিতির বছর ও এর পরের বছর বাড়তি পরিমাণে খাদ্যশস্য আমদানি করা হয়। এ বাড়তি আমদানিতে প্রধান খাদ্যশস্য চালের অংশই থাকে সবচেয়ে বেশি। তবে এর ব্যতিক্রম দেখা গিয়েছে গত অর্থবছরে। এ সময় অন্যান্য বছরের তুলনায় কিছুটা বাড়তি পরিমাণে খাদ্যশস্য আমদানি হলেও এতে চালের অংশ ছিল খুবই কম।

এর আগে দেশে চার দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পরিমাণ খাদ্যশস্য আমদানি হয়েছিল ২০১৭-১৮ অর্থবছরে। ওই সময়ে দেশে খাদ্যশস্য আমদানি হয়েছিল ৯৭ লাখ ৭৪ হাজার টন। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে তা কমে দাঁড়ায় ৫৮ লাখ ৩৪ হাজার টনে।

অন্যদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে দেখা গেছে, গত এক যুগে খাদ্যশস্য বিশেষ করে চাল ও গম আমদানিতে প্রায় সোয়া লাখ কোটি টাকা ব্যয় করতে হয়েছে। এর মধ্যে গত অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) দেশে চাল ও গম আমদানিতে ব্যয় হয়েছে ১০ হাজার ৬৪৮ কোটি টাকা। এর আগে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে এর পরিমাণ ছিল ১০ হাজার ৬৮৬ কোটি টাকা। সর্বোচ্চ আমদানির মতো খাদ্যশস্যের সর্বোচ্চ আমদানি ব্যয়ও হয়েছিল ২০১৭-১৮ অর্থবছরে, এর পরিমাণ ছিল ২৪ হাজার ৩৮৪ কোটি টাকা।

 

এরপর গত অর্থবছরে খাদ্যশস্য আমদানির পরিমাণ ৬৪ লাখ টন অতিক্রম করে দাঁড়ায় চার দশকে দ্বিতীয় সর্বোচ্চে। যদিও গত অর্থবছরে চাল আমদানি হয়েছে তিন দশকের মধ্যে সবচেয়ে কম, যার পরিমাণ মাত্র ৪ হাজার ১৮০ টন। এ চালের পুরোটাই আমদানি করা হয়েছে বেসরকারিভাবে। গত অর্থবছর সরকারিভাবে কোনো চাল আমদানি করার প্রয়োজন পড়েনি দেশে, যা ইতিহাসে বেশ বিরল বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

এ বিষয়ে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব আবদুল লতিফ মণ্ডল বলেন, মানুষের খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনজনিত কারণে একদিকে চালের চাহিদা কমছে, অন্যদিকে গমের চাহিদা বেড়েছে। আবার আমরা এখন গমের মাধ্যমে প্রক্রিয়াজাত পণ্য রফতানিও করছি। কিন্তু দেশে সে অনুযায়ী উৎপাদন না হওয়ার কারণে গমের আমদানি ব্যাপক হারে বাড়ছে। অন্যদিকে গত অর্থবছরে ধান উৎপাদনে স্বস্তি ছিল। চলতি বছর সেটা না-ও থাকতে পারে। এরই মধ্যে বন্যার কারণে আমনের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি করোনার কারণে বৈশ্বিক খাদ্যশস্য, বিশেষ করে চালের প্রাপ্যতা কমে যাবে। তাই চলতি অর্থবছরে খাদ্যশস্যের মজুদ ভাণ্ডার বাড়াতে সরকারকে আরো চাল মজুদে নজর দিতে হবে। বেসরকারি খাতকেও আমদানি কিংবা সংগ্রহের সুযোগ দেয়া যেতে পারে। কোনো ধরনের বিব্রতকর পরিস্থিতি এড়াতে মজুদ ভাণ্ডার শক্তিশালী করার কোনো বিকল্প নেই।

গত কয়েক বছর বেসরকারিভাবে চাল আমদানিতে নিরুৎসাহিত করছে সরকার। পাশাপাশি সরকারিভাবেও চাল আমদানি একেবারেই বন্ধ রাখার চেষ্টা করেছে। ফলে ২০১৮-১৯ অর্থবছরেও আমদানি ছিল অন্যবারের তুলনায় বেশ কম, ৭০ হাজার ৩৫০ টন। তবে গত অর্থবছরে সরকারিভাবে চাল আমদানি না করার পাশাপাশি উৎপাদন বাড়ানোর ক্ষেত্রেও দৃঢ় অবস্থানে ছিল কৃষি মন্ত্রণালয়। উৎপাদন বাড়ায় বৈশ্বিক চাল উৎপাদনে বাংলাদেশ এখন চতুর্থ থেকে তৃতীয় অবস্থানে উঠে এসেছে। এছাড়া কৃষকদের দামের নিশ্চয়তা দিতে বেসরকারি খাতকে আমদানিতে নিরুৎসাহিত করার তাগিদেও উচ্চহারে শুল্কারোপ করা হয়। তবে করোনা পরিস্থিতি এ হিসাব কিছুটা ওলটপালট করে দিয়েছে।

 

তবে চলতি বোরো মৌসুমে ধান ও চাল সংগ্রহে তেমন গতি না থাকায় সরকার এবার চাল আমদানির কথা চিন্তা করছে বলে জানিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী। যদিও কৃষি মন্ত্রণালয় মনে করছে, চাল আমদানি উন্মুক্ত করা হলে তা দেশের কৃষকের জন্য ক্ষতির কারণ হবে।

 

অন্যদিকে গম উৎপাদনে এখনো খুব একটা উন্নতি করতে পারেনি বাংলাদেশ। প্রতি বছরই চাহিদা বাড়লেও বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না পণ্যটির উৎপাদন। আবহাওয়াজনিত কারণে কয়েক বছর ধরে উৎপাদন ১২-১৩ লাখ টনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ বিভাগের আরো সংবাদ

আবহাওয়া

%d bloggers like this:
%d bloggers like this: