বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০২৪, ০১:০৩ পূর্বাহ্ন

হবিগঞ্জে আওয়ামী লীগ-বিএনপির সংঘর্ষে আহত দুই শতাধিক

হবিগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি
আপডেট : রবিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৩
হবিগঞ্জে আওয়ামী লীগ-বিএনপির সংঘর্ষে আহত দুই শতাধিক

হবিগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি : 

হবিগঞ্জের শায়েস্তানগর এলাকায় আওয়ামী লীগ এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছে। এর মধ্যে গুরুতর আহত কয়েকজনকে হবিগঞ্জ জেলা সদর আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

রোববার (২০ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা পর্যন্ত প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলা এ সংঘর্ষের সময় জেলা বিএনপির কার্যালয় ভাঙচুর করেন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা। পরে কাঁদানে গ্যাসের শেল ও রাবার বুলেট ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ।

হামলা-সংঘর্ষে উভয় পক্ষের শতাধিক নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন বলে দল দুটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। তাঁরা জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

আহতদের মধ্যে জেলা বিএনপি নেতা জি কে গাফফার, জি কে মাওলা, শফিকুর রহমান সেতু, গোলাম মাহবুবু, ইমন আহমেদ, গুলজার খান, যুবলীগ নেতা আলা উদ্দিন, উজ্জল মিয়া, সাব্বির আহমেদ রনি, সাদিকুর রহমান মকুল, শেখ সেবুল আহমেদ, বাবুল মিয়া, ছাত্রলীগ নেতা রকিব, সাদ্দাম হোসেন, কৃষক লীগ নেতা হারুন মিয়া, হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সাইদুর রহমান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক সারোয়ার, ছাত্রলীগ নেতা সারোয়ারের নাম জানা গেছে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন জানান, গতকাল শনিবার বিএনপি-পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনার প্রতিবাদে আজ বিকেলে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন জেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক ঘুরে শায়েস্তানগর এলাকায় জেলা বিএনপির কার্যালয়ে গিয়ে হামলা চালায়। এ সময় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা বিএনপির নেতা-কর্মীদের টানানো ব্যানার-ফেস্টুন ছিঁড়তে থাকেন। তখন বিএনপির নেতা-কর্মীরা ঘটনাস্থলে এসে তাঁদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ান। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা পর্যন্ত পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষ চলে। পুলিশ রাবার বুলেট ও কাঁদানে গ্যাসের শেল ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলমগীর চৌধুরী বলেন, বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাসী কার্যক্রমের প্রতিবাদে বিকেলে তাঁরা বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি শায়েস্তানগর এলাকায় পৌঁছালে বিএনপির লোকজন তাঁদের ওপর হামলা করেন। হামলায় তাঁদের অর্ধশতাধিক নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন।

বিএনপির কেন্দ্রীয় সমবায় বিষয়ক সম্পাদক সাবেক পৌর মেয়র জি কে গউছ বলেন, আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে লাঠিসোঁটা সহকারে হঠাৎ আমাদের দলীয় কার্যালয়ে হামলা করে। অফিসে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। আমার বাসায় হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেছে। পুলিশও তাদের সঙ্গে সংঘর্ষে যোগ দিয়েছে। হামলায় পৌর কাউন্সিলর শফিকুর রহমান সিতুসহ আমাদের শতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।

এ বিষয়ে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ বদিউজ্জামান জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। এরপর দুই পক্ষকে ফিরিয়ে দিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়। বর্তমানে সবকিছু স্বাভাবিক রয়েছে।

হবিগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খলিলুর রহমান বলেন, আওয়ামী লীগ পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি হিসেবে শহরের শায়েস্তানগরের দিকে মিছিল নিয়ে যাচ্ছিল। আওয়ামী লীগের কর্মসূচি জানা সত্ত্বেও বিএনপি সেখানে অবস্থান নিয়ে সংঘর্ষে জড়ায়। পুলিশ উভয় পক্ষকে শান্ত করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বিএনপির অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, পুলিশ নিরপেক্ষভাবে উভয় পক্ষকে শান্ত করার চেষ্টা করেছে। এখানে পুলিশ কারও পক্ষ নেয়নি। ভাঙচুরের বিষয়ে এখনো বিস্তারিত জানতে পারেননি বলে তিনি জানান।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ বিভাগের আরো সংবাদ

আবহাওয়া