শুক্রবার, ২৬ জুলাই ২০২৪, ০১:৪৭ পূর্বাহ্ন

স্মার্ট পার্লামেন্টের কাজ চলমান : স্পিকার

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ৮ জুন, ২০২৩
স্মার্ট পার্লামেন্টের কাজ চলমান : স্পিকার

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এমপি বলেন, স্মার্ট বাংলাদেশের চারটি স্তম্ভ- স্মার্ট সিটিজেন, স্মার্ট ইকোনমি, স্মার্ট গভর্নমেন্ট ও স্মার্ট সোসাইটি গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য। বাংলাদেশ জাতীয় সংসদকে ‘স্মার্ট পার্লামেন্ট’ হিসেবে গড়ে তোলার কাজ চলমান। স্মার্ট লিডারশিপ একাডেমি থেকে সকলে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে নিজস্ব দক্ষতা বাড়াতে পারবে। সংসদ সদস্যদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এ কার্যক্রম শুরু হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (৮জুন) বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে স্মার্ট লিডারশিপ একাডেমির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অথিতির বক্তব্য তিনি এসব কথা বলেন।

স্পিকার বলেন, পার্লামেন্ট সদস্য, সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তারা যাতে দেশেই প্রযুক্তি বিষয়ক উন্নত প্রশিক্ষণ পান সে লক্ষ্য নিয়ে উদ্বোধন হলো স্মার্ট লিডারশিপ একাডেমি। স্মার্ট বাংলাদেশের লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাজ করবে এ স্মার্ট লিডারশিপ একাডেমি।

শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, প্রযুক্তি নির্ভরশীলতা দিনকে দিন বেড়ে চলেছে। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নাগরিকদের প্রস্তুত না করতে পারলে আগামীতে অনেক দরজা বন্ধ হয়ে যাবে। এ বিষয়কে সামনে রেখে তথ্য প্রযুক্তিকে কোনো নির্দিষ্ট নাগরিকের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে প্রতিটা নাগরিককে দক্ষ করে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে স্মার্ট লিডারশিপ ট্রেনিং একাডেমি।

তিনি আরও বলেন, তথ্য প্রযুক্তিতে প্রশিক্ষণ নিতে পার্লামেন্ট সদস্য, সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বাইরে যেতে হয়। এতে বিপুল পরিমাণ অর্থের ব্যয় হয়, সময় অপচয় হয়। দেশেই যাতে সব প্রশিক্ষণ দেওয়া যায়,সে লক্ষ্য নিয়ে এ একাডেমি প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে। এ একাডেমি হবে আন্তর্জাতিক মানের লিডারশিপ আইসিটি বিষয়ক ট্রেনিং একাডেমি। যেখানে দেশি-বিদেশি প্রশিক্ষক থাকবে।

তিনি বলেন, স্মার্ট বাংলাদেশ হলো প্রযুক্তি নির্ভর বুদ্ধিদীপ্ত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ। সে লক্ষ্য পূরণে নাগরিকদের প্রস্তুত করতে যা যা করা প্রয়োজন সরকার সেটিই করছে।

ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু বলেন, স্মার্ট বাংলাদেশের লক্ষ্য হলো রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করা। সেজন্য রাজনৈতিক নেতৃত্বকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠায় পরিবর্তিত ব্যবস্থায় নিজেকে তথ্যপ্রযুক্তিতে সমৃদ্ধ করতে হবে।

আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক বলেন, সিঙ্গাপুর ও ইসরাইল দুটি দেশ; যার উল্লেখযোগ্য ভূমি, জনশক্তি এবং সম্পদ না থাকলেও তথ্যপ্রযুক্তি ও বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার করে আজ সফট সুপার পাওয়ারে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশের যে বিপুল জনশক্তি রয়েছে তার সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সম্পদে পরিণত করার সুযোগ রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার সে লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে।

তিনি বলেন, ব্যক্তি জীবনে কেউ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে ব্যবহার করি আর না করি আগামীতে সরকার, রাজনীতি, অর্থনীতি, তথা জীবনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। এজন্য নিজেদের যেমন প্রস্তুত করতে হবে, তেমনি এ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে যাতে কেউ মানবতার বিরুদ্ধে কাজে না লাগাতে পারে সেজন্য সচেতন থাকতে হবে।

পলক বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্মার্ট বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার যে ভিশন দিয়েছেন সেটি শুধু একটি নির্বাচনে জেতার ভিশন নয়, এটি আগামীর বাংলাদেশের জন্য যোগ্য নাগরিক গড়ে তোলার ভিশন।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট শামসুল হক টুকু ও সংসদ সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব কেএম আব্দুস সালাম।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এমপির সভাপতিত্বে কর্মশালায় জাতীয় সংসদ ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট শামসুল হক টুকু ও সংসদ সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব কেএম আব্দুস সালাম স্বাগত বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম এমপি, মাহবুব আরা বেগম গিনি এমপি, অন্যান্য সংসদ সদস্য, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব শামসুল আরেফিন, জাতীয় সংসদ সচিবালয় এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও গণমাধ্যম কর্মীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ বিভাগের আরো সংবাদ

আবহাওয়া