বুধবার, ২১ এপ্রিল ২০২১, ০১:৪৮ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
করোনায় আক্রান্ত অভিনেত্রী শুভশ্রী গাঙ্গুলি এক মাসে নিয়ন্ত্রণ সম্ভব করোনা মহামারি: ডব্লিউএইচও প্রধান উড়ন্ত গাড়ি শিগগিরই আসছে যানজট থেকে বাঁচাতে দেশের সবচেয়ে বড় করোনা হাসপাতালে রোগী ভর্তি শুরু আরো এক সপ্তাহ বাড়ল চলমান ‘কঠোর লকডাউন’ শাহজাদপুরে নছিমন -হুন্ডা সংঘর্ষে  নিহত ২ প্রীতি জিনতা শাহরুখ খানের পারফরমেন্সে খুশি  রোববার থেকে চলবে সউদী এয়ারলাইনসের ফ্লাইট করোনা রোগীর আত্মহত্যা মুগদা হাসপাতালে শতভাগ সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছিল কবরীর ফুসফুসে কোভিড ফ্রি ট্রেন সার্ভিস ইতালিতে কিংবদন্তি অভিনেত্রী কবরী আর নেই ৩য় দিনের লকডাউন: সড়কে ঢিলেঢালা বাজারে ভিড় বিএনপিই জনগণকে প্রতিপক্ষ বানিয়ে প্রতিশোধ নিচ্ছে পুরুষে আস্থাহীনতা কুকুরকে বিয়ে ব্রিটিশ মডেলের ! ম্যাচ হেরে শাহরুখের তোপের মুখে সাকিবরা ফরিদপুরে  ইটালী প্রবাসীকে কুপিয়ে খুন ‘ভুয়া’ ডক্টরেট ডিগ্রি নিয়ে যা বললেন মমতাজ বিশ্বে প্রথমবারের মতো যমজ শিশু জন্মের রেকর্ড ডেইরি বাংলা ফুডকে ২ লাখ টাকা জরিমানা

স্বাস্থ্যবিধির বালাই নেই রাজধানীর কাঁচাবাজারে

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট : মঙ্গলবার, ৬ এপ্রিল, ২০২১
স্বাস্থ্যবিধির বালাই নেই রাজধানীর কাঁচাবাজারে
সংগৃহীত ছবি

করোনা মহামারি ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায় সাত দিনের লকডাউন ঘোষণা করেছে সরকার। এ সময়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার শর্তে প্রতিদিন কয়েক ঘণ্টা কাঁচাবাজার খোলা রাখা যাবে। কিন্তু রাজধানীর কাঁচাবাজারে মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি। বিষয়টি যেন দেখারও কেউ নেই। তাছাড়া বাজারগুলো উন্মুক্ত স্থানেও স্থানান্তর হয়নি।

সকালে খিলগাঁও সিটি করপোরেশন কাঁচাবাজারে দেখা গেছে, গাদাগাদি করেই শাক-সবজি বিক্রি করা হচ্ছে। দুই-একজন বিক্রেতার মুখে মাস্ক দেখা গেলেও অনেকের মুখেই নেই। ক্রেতাদেরও কারও মুখের মাস্ক থুতনিতে, আবার কারও পকেট। কোথাও ছিল না সামাজিক দূরত্ব।

একই চিত্র দেখা গেছে সেগুনবাগিচা কাঁচাবাজারেও। এই মার্কেটে গাদাগাদি করে ক্রেতাদের বাজার করতে দেখা গেছে। বিষয়গুলো নিয়ে জানতে চাওয়া হলে একে অপরকে দোষারোপ করছেন তারা। শফিকুল ইসলাম নামে একজন সবজি বিক্রেতা বলেন, ‘কত সময় ধরে মাস্ক পরে থাকা যায়। মাস্ক পরে গ্রাহকের সঙ্গে কথা বললে তারা কথা বোঝেন না।’ তিনি যুক্তি দেখিয়ে বলেন, ‘আমি তো ক্রেতাদের কাছ থেকে তিন ফুট দূরে অবস্থান করছি। সুতরাং সমস্যা হবে না।’

কারওয়ান বাজারের কাঁচাবাজারেও একই অবস্থা। অধিকাংশ ক্রেতা-বিক্রেতার মুখে মাস্ক দেখা যায়নি। কেটাকাটাও চলছে গাদাগাদি করে। যত্রতত্র হাঁটছেন মানুষ। বাজারের প্রবেশমুখগুলোতে হ্যান্ড স্যানিটাইজার বা জীবাণুনাশক কিছুই ছিল না। সিটি করপোরেশন বা অন্য কোনও সংস্থাকেও বাজার মনিটরিং করতে দেখা যায়নি। মাস্ক ব্যবহার না করার বিষয়ে জানতে চাইলে নবীর উদ্দিন নামে একজন সবজি বিক্রেতা বলেন, ‘কাজের ব্যস্ততার কারণে অনেক সময় ভুলে যাই। তাছাড়া গরমে ঘামের সঙ্গে ভিজে যায়। মানুষও কিছু বলে না। করোনা হলেই এমনিতেই হবে। মাস্ক পরলেও হবে না পরলেও হবে।’

করোনা সংক্রমণ লকডাউন চলাকালে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত উম্মুক্ত স্থানে কাঁচা বাজার ও নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি ক্রয়-বিক্রয় করা যাবে বলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জানায়। করোনার এ সময়ে স্বাস্থ্যবিধি মানতে মোট ১১টি নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। এসব নির্দেশনা মানা না হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম রেজা বলেন, ‘কাঁচাবাজারগুলো উন্মুক্ত স্থানে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এজন্য কাজ চলছে। আমরা এরই মধ্যে আমাদের কাউন্সিলর, নির্বাহী কর্মকর্তা ও ডিএনসিসির বাজার শাখাকে নির্দেশনা দিয়েছি, তারা যেন এগুলোকে উন্মুক্ত স্থানে নিয়ে যান।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের ১২টি মোবাইল কোর্ট মাঠে কাজ করছে। গতকাল ৮১টি মামলা করা হয়েছে। তার মধ্যে এক লাখ ৯০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। তবে কিছু কিছু মানুষ হয়তো আইনটি কম মানছে, তবে বেশির ভাগ মানুষ যাতে করোনা না হয় সেজন্য অনেকটা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে। মানুষ কর্মের প্রয়োজনে ঘরের বাইরে যচ্ছে। আমরা চেষ্টা করছি মানুষকে বুঝিয়ে সচেতন করার জন্য।

তাছাড়া আমরা অনেকগুলো বিষয় তো চালু রেখেছি। ৮টা থেকে ৫টা পর্যন্ত দোকানপাট খোলা আছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় দোকানপাট খোলা। অফিস আদালতও সীমিত আকারে খোলা রয়েছে। মানুষের মুভমেন্ট পুরোপুরি বন্ধ করলে অর্থনীতির মারাত্মক ক্ষতি হবে। অনেক হিসাব-নিকাশ করে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘জনসচেতনতা বৃদ্ধি করার জন্য আমরা অনেক উদ্যোগ নিয়েছি। এর মধ্যে মাস্ক পরা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে বাধ্য করা। মাঠ খুঁজে বের করে কাঁচাবাজারগুলো সেখানে স্থানান্তরের চেষ্টা করা হচ্ছে। মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছি।’

একই কথা জানান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবিএম আমিন উল্লাহ নুরী। তিনি বলেন, ‘সংক্রমণ আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আমাদের কয়েকটি ভ্রাম্যামাণ আদালত পরিচালনা হচ্ছে। আমাদের মেয়রও কঠোরভাবে লকডাউন বাস্তবায়ন করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন।’


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ বিভাগের আরো সংবাদ

আবহাওয়া

%d bloggers like this:
%d bloggers like this: