মঙ্গলবার, ১৬ অগাস্ট ২০২২, ০৭:৪৯ অপরাহ্ন

সারাদেশে গ্রামীণ সেতুর নির্মাণ ও সংস্কার কাজ এগিয়ে চলেছে

বর্ণা তারানা
আপডেট : মঙ্গলবার, ২ আগস্ট, ২০২২
সারাদেশে গ্রামীণ সেতুর নির্মাণ ও সংস্কার কাজ এগিয়ে চলেছে
ব্রাক্ষণবাড়িয়ার কুটিবাজার-কসবা পুরান বাজার রোডে নির্মাণাধীন সেতু

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা উপজেলার কুটিবাজার-কসবা পুরান বাজার রোড। ২৭ মিটার দৈর্ঘ্যের ছোট্ট একটি সেতু এই রাস্তার উপর। দীর্ঘদিন ব্যবহারে সেতুটি তার সক্ষমতা হারিয়েছে। তাই নতুন করে তৈরি করা হচ্ছে সেতুটি। এ বছরের জানুয়ারিতে শুরু হওয়া কাজ এ পর্যন্ত ৬৫ শতাংশ এগিয়েছে। পুরোটা শেষ হবার কথা আগামী বছর অর্থাৎ ২০২৩ সালের জুন মাসের মধ্যে।

সেতুটি ছোট হলেও গ্রামের মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় এর গুরুত্ব অপরিসীম। সম্প্রতি সরেজমিন পরির্দশনে গিয়ে দেখা যায়, গ্রামের মানুষ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে নির্মাণ কাজ শেষ হবার। স্থানীয় কৃষক নাজির উদ্দিন (৪০) জানান, এই সেতুটি হলে তাদের কৃষিপণ্য পরিবহন আরও সহজ হবে। এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন হবে। এই কসবা উপজেলাতেই চলছে ৪৪টি সেতুর কাজ।

জেলার নবীনগর উপজেলার নবীনগর পূর্বা-নবীপুর বাজার রোডের ৩৭ মিটার দৈর্ঘ্যের সেতুটি পূনঃনির্মাণ করা হচ্ছে। সেতুটির নির্মাণ কাজ শেষ হবার কথা রয়েছে এ বছরের নভেম্বর মাসে। তবে কাজের অগ্রগতি সন্তোষজনক না হওয়ায় নির্দিষ্ট সময়ে শেষ হবে এমন আশা করতে পারছেন না এলাকার মানুষ। সেখানকার বাসিন্দা শিক্ষার্থী নুরুন্নাহারারের (২২) সাথে কথা বললে তিনি এমনটাই জানান। বলেন, “দেড় বছর আগে কাজ শুরুর কথা লেখা আছে এখানকার সাইনবোর্ডে কিন্তু এই দেড় বছরে কতটুকু কাজ হয়েছে সেটা বুঝতে পারছি না। এমন হতাশার কারণ, সেতুটি এই এলাকার মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থায় খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই দ্রুত এর পূনঃনির্মাণ কাজ শেষ হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।

দেশের তিনটি পার্বত্য জেলা বাদে দেশের ৬১টি জেলার ৪৬৬টি উপজেলায় ১০০ মিটার দৈর্ঘ্যের নিচে প্রায় ৫ হাজার সেতু নির্মাণ, পূনঃনির্মাণ, ছোটবড় সংস্কার ও পূনঃস্থাপনের কাজ চলছে। এর মধ্যে সংস্কার ৮৫ হাজার মিটার। যার মধ্যে ছোট সংস্কার (মাইনর মেইনটেনেন্স) ৬০ হাজার মিটার এবং বড় সংস্কার (মেজর মেইনটেনেন্স) ২৫ হাজার মিটার। পুনর্বাসন ২৪ হাজার মিটার। প্রশস্ত করা হচ্ছে ৫ হাজার মিটার। প্রতিস্থাপন ১০ হাজার মিটার এবং নতুন করে নির্মাণ ১০ হাজার মিটার। এই বিশাল কর্মযজ্ঞ বাস্তবায়িত হচ্ছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) ‘প্রোগ্রাম ফর সার্পোর্টিং রুরাল ব্রিজেস’র আওতায়। যৌথভাবে অর্থায়ন করছে বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংক।

প্রকল্পের আওতাধীন প্রায় ৫ হাজার সেতুর মধ্যে ২০২১ সালের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত ৪১৮টি সেতুর কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ২০২২ সালের জুন মাসের সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, ৭৫১টি প্যাকেজের আওতায় এখন পর্যন্ত পুরোপুরি শেষ হয়েছে ৮১১টি সেতুর কাজ। ২১১টি সেতুর কাজ ৭৫ শতাংশের বেশি এগিয়েছে, অর্ধেকের বেশি কাজ হয়েছে ১৭৯টির। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে গ্রামীণ এই সেতু/কালভার্ট কর্মসূচির সফলতার সুবিধাভোগ করবে দেশের প্রায় ৯৯ শতাংশ জনগণ। এলজিইডির সমীক্ষায় দেখা গেছে, বাংলাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে প্রতি সাড়ে চার কিলোমিটার রাস্তায় একটি করে সেতু প্রয়োজন।

গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে এই কর্মসূচি শুরু হয়েছে ২০১৮ সালে। প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে এই উন্নয়ন কাজ শেষ হবার কথা রয়েছে ২০২৩ সাল নাগাদ। ২০২১ সালের ২৫ শে জানুয়ারি এই কর্মসূচির আওতায় মনিটরিং অ্যান্ড ইভালুয়েশন সার্ভিস শুরু করে এলজিইডি, চুক্তিভিত্তিক এই কাজ এগিয়ে নিচ্ছে ডেভেলপমেন্ট প্রোজেক্ট ডিজাইন অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড- ডিপিডিএস প্রতিষ্ঠানটি। এর আওতায় প্রকল্পের কাজ পূর্ব নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী এগিয়ে চলেছে কিনা তা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ বিভাগের আরো সংবাদ

আবহাওয়া

%d bloggers like this:
%d bloggers like this: