বৃহস্পতিবার, ২৫ জুলাই ২০২৪, ০৩:২৮ পূর্বাহ্ন

সরকারকে বিদায় না করলে সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়বে : মির্জা আব্বাস

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট : শুক্রবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৩
সরকারকে বিদায় না করলে সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়বে : মির্জা আব্বাস

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

কুশিক্ষিতরা দেশকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে এমন মন্তব্য করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, সরকার বিদায় করতে না পারলে দেশের মানুষ মারা যাবে। স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়বে।

শুক্রবার (২৫ আগস্ট) বিকেলে বিএনপির নয়াপল্টন কার্যালয়ে সামনে খালেদা জিয়ার মুক্তি, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন ও সরকার পতনের একদফা দাবিতে কালো পতাকা মিছিলপূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, দেশে তিনটি শিক্ষা রয়েছে। অশিক্ষা, কুশিক্ষা আর সুশিক্ষা। আজকে জনগণের টাকায় বেতন নিয়ে কুশিক্ষিতরা বিরোধী নেতাকর্মীদের ওপর গুলি চালাচ্ছে। এই কুশিক্ষিতরা বিচারের প্রহসন করছেন। তারা জেলখানায় বিরোধী নেতাকর্মীদের পিটিয়ে হত্যা করছেন। এই কুশিক্ষিত লোকগুলো দেশকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তারা দেশকে ভালবাসে না, টাকাকে ভালবাসে।

নির্দিষ্ট কোনো দলের সঙ্গে বন্ধুত্ব না করে দেশের জনগণের সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন মির্জা আব্বাস। জনগণের ভালোবাসা অর্জন ছাড়া এদেশ থেকে ভারত কিছু নিতে পারবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ভারত শেখ হাসিনাকে আবার ক্ষমতায় আনতে চায় এমন তথ্য জানিয়ে মির্জা আব্বাস বলেন, আপনার আওয়ামী লীগের সঙ্গে নয়, সরকারের সঙ্গে নয়, বিএনপির সঙ্গে নয়, এদেশের জনগণের সঙ্গে বন্ধুত্ব করুন। এই দেশের জনগণকে ভালোবাসতে শিখুন। প্রতিবেশী হিসেবে এটা আপনাদের আমরা বলতেই পারি। এদেশে মানুষের সাথে সখ্য গড়ে তুলুন। যদি এদেশের মানুষ আপনাদের ভালো না বাসে তাহলে কখনোই কিছু নিতে পারবেন না।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমালোচনা করে মির্জা আব্বাস বলেন, আমরা যখন পাকিস্তানে বিরুদ্ধে যুদ্ধ করি, তখন তারা আমাদের ওপর গুলি চালাত, লাঠিপেটা করত। তারা ছিল পাকিস্তানি পুলিশ। আজকে যখন আমরা মানুষের উন্নয়নের কথা বলি, ভোটের অধিকারের কথা বলি, এ দেশেরই একশ্রেণির পুলিশ কর্মচারী-কর্মকর্তারা আমাদের ওপর গুলি ছোড়েন। কেন ভাই? আমরা তো বাংলাদেশের কথা বলছি। আমরা কি কোনো বিদেশি শক্তি? আপনারা আর এটা করতে যাবেন না।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে হত্যা, খুন ও গুম করেও জনসভায় মানুষ কমেনি। দিন দিন জনসমর্থন বাড়ছে। আমাদের দাবি মেনে নিন। বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে হবে। এদেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে দিতে হবে। এদেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অথবা নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে হবে। শেখ হাসিনার অধীনে কোনো আওয়ামী নির্বাচন আমরা চাই না।

তিনি আরও বলেন, ব্রিটিশ শাসক ও পাকিস্তানিরা এদেশ থেকে যা লুট করেছে এরচেয়ে বেশি লুট করেছে এই সরকার। এদের ভিতর দেশপ্রেম নেই। আজ শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে ‘অবৈধ, লুটেরা, ফ্যাসিস্ট সরকারের পদত্যাগ, সংসদ বিলুপ্তিকরণ, নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করে নতুন নির্বাচন কমিশনের গঠন করে নির্বাচন অনুষ্ঠানের ১ দফা দাবিতে কালো পতাকা গণমিছিলপূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা আব্বাস বলেন, ভোট ও বাকস্বাধীনতার জন্য পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে যখন সংগ্রাম করেছি তখন বাঙালির বিরুদ্ধে গুলি চালাতো। লাঠিচার্জ করতো। তারাতো ছিল পাকিস্তানি পুলিশ। আজ একই দাবিতে আমরা আন্দোলন করছি। আজও গুলি চালানো হচ্ছে। আপনারা (আইনশৃঙ্খলা বাহিনী) কি বিদেশী পুলিশ? নিজ দেশের জনগণের ওপর গুলি চালাচ্ছেন!

তিনি বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে দ্রব্যমূল্য, তেল গ্যাস ও বিদ্যুৎতের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদ জানিয়ে আসছি। সরকার কানে শুনে না। আজকে ডিমের দাম ১৫ টাকা। এদের দুর্নীতির কারণে টাকার মান কমে গেছে। যারা ব্যাংকে টাকা রেখেছেন তারা লাভের পরিবর্তে ১৪ শতাংশ টাকা কম পাবেন। আজকে বিদ্যুৎতের কার্ড থেকেও হাজার হাজার কোটি টাকা লুট হচ্ছে। সর্বক্ষেত্রে লুটপাট। এ সরকারকে বিদায় করতে না পারলে দেশের মানুষ মারা যাবে। স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়বে।

মির্জা আব্বাস বলেন, বহিঃবিশ্ব আজ দেশের রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করছে। একটি দেশ বলছে এই সরকারকে আবার লাগবে। আমি বলতে চাই, সরকার নয়, দেশের জনগণের সাথে বন্ধুত্ব করুন। আজ এ সরকারের অধীনে নির্বাচন দেশের জনগণ মানে না। বিনা ভোটের নির্বাচনের স্বপ্ন আর বাস্তবায়ন করতে দেওয়া হবে না।

বিকেল সাড়ে চারটায় নয়াপল্টন থেকে এ কালো পতাকা গণমিছিল শুরু হয়ে মতিঝিল, ইত্তেফাক মোড়, টিকাটুলী হয়ে দয়াগঞ্জ মোড় হয়ে নারিন্দায় গিয়ে শেষ হওয়ার কথা।

ঢাকা দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক লিটন মাহমুদ ও আনম সাইফুল ইসলামের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, মোহাম্মদ শাহজাহান, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুল, যুবদল সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু ও ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েল। বৃষ্টি উপেক্ষা করে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী এ কালো পতাকা মিছিলে অংশ নেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ বিভাগের আরো সংবাদ

আবহাওয়া