শুক্রবার, ২৬ জুলাই ২০২৪, ০২:০৭ পূর্বাহ্ন

সরকারকে পরাজিত করাই মুক্তির একমাত্র পথ : ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৪
সরকারকে পরাজিত করাই মুক্তির একমাত্র পথ : ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

সরকারকে পরাজিত করাই মুক্তির একমাত্র পথ এমন মন্তব্য করে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আমাদের জনগণের মধ্যে ঐক্য সৃষ্টি করতে হবে। একাত্তরে যুদ্ধের সময় মানুষ যেমন ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল একইভাবে আবার ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। মুক্তির পথ একটাই তা হলো সরকারকে পরাজিত করা।

বৃহস্পতিবার (২৮ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারপার্সনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে গুম, খুন ও পঙ্গুত্বের শিকার পরিবারের মধ্যে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দেওয়া ঈদ উপহার বিতরণ উপলক্ষ্যে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ‘আমরা বিএনপির পরিবার’।

মির্জা ফখরুল বলেন, এটা ভয়াবহ, একটা জাতি নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। এর থেকে মুক্তি পাওয়ার পথ কি? সেই মুক্তি পাওয়ার জন্য আমরা সংগ্রাম করছি। একটি গণতান্ত্রিক দলের পক্ষে যতটুকু লড়াই সংগ্রাম করা যায়, তার থেকেও বেশি সংগ্রাম আমরা করছি।

তিনি বলেন, জনগণ চায়, এটা কোনো দল-মত-বর্ণ নয়, বাংলাদেশের মানুষের, সেই ‘৭১ সালের যুদ্ধের সময় যেমন ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল, ‘৬৯ এবং ‘৯০ সালে যেভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল, ঠিক একইভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। প্রতিরোধ সৃষ্টি করতে হবে। কারণ এদের থেকে মুক্তি পাওয়ার একটাই পথ, এদেরকে পরাজিত করতে হবে।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, এদেরকে পরাজিত করতে না পারলে আমরা তো মুক্তি পাচ্ছি না। এই নির্যাতন বন্ধ হচ্ছে না। সুতরাং আমাদের প্রথম লক্ষ্য হবে নিজেদেরকে ঐক্যবদ্ধ করা। দ্বিতীয় কাজ হচ্ছে গোটা জাতিকে সমন্বিত করা। তারপর বিদ্রোহ, প্রতিরোধ সৃষ্টি করে এদেরকে পরাজিত করা।

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিভিন্ন সময় গুম-খুন হওয়া নেতাকর্মীদের প্রসঙ্গ টেনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এদের থেকে মুক্তি পেতে হলে পুরো জাতিকে সমন্বিত করতে হবে। তারপর বিদ্রোহ, প্রতিরোধ সৃষ্টি করে এদেরকে পরাজিত করতে হবে। একটি গণতান্ত্রিক দলের পক্ষে যতটুকু লড়াই-সংগ্রাম করা যায়, তার থেকেও বেশি সংগ্রাম আমরা করছি। সুতরাং এখন যেটা প্রয়োজন, জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করা।

বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, গতকাল বেগম খালেদা জিয়া খুব অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। ডাক্তাররা উপস্থিত ছিলেন। মনে হয়েছিল হয়তো আর সময় পাওয়া যাবে না। আল্লাহর শুকরিয়া।

‘১/১১ সময় প্রথম ভিকটিম তারেক রহমান দাবি করে মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে আটক করে বিভিন্ন মামলা দিয়ে নির্যাতন করা হয়। এখনো তিনি নির্বাসিত জীবনযাপন করছেন।’

গুম, খুন ও নিপীড়ন নির্যাতনের শিকার হওয়া পরিবারের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এ অবস্থা সারাদেশের। শুধু বিএনপি নয়। পুরো বাংলাদশের মানুষের একই অবস্থা। পুরো দেশের মানুষ ভয়ে আতঙ্কে থাকে, কখন কাকে কিভাবে তুলে নিয়ে যায়। কোনো নিশ্চয়তা নেই।

সামনে উপস্থিত শিশু ও তরুণদের উদ্দেশ্য করে বিএনপি এই নেতা বলেন, তোমরা আশা হারাবে না। কখনো ভাববে না সবকিছু শেষ হয়ে গেছে। কোন ভীরুতা, হতাশা যেন কাজ না করে। মনে রাখতে হবে গণতন্ত্রের আন্দোলন ন্যায় সঙ্গত আন্দোলন। সেই আন্দোলনে আমরা বিজয়ী হবো।

‘আমরা বিএনপি পরিবার’ সেলের আহবায়ক আতিকুর রহমান রুম্মনের সভাপতিত্বে এ সময় বক্তব্য রাখেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, নির্বাহী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মীর হেলাল, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মোনায়েম মুন্না, ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির প্রমুখ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ বিভাগের আরো সংবাদ

আবহাওয়া