বুধবার, ২৪ জুলাই ২০২৪, ০৬:১৩ পূর্বাহ্ন

সম্মানহানির ভয়ে অনেকেই উপাচার্য হতে চান না : শিক্ষামন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট : শনিবার, ২৪ জুন, ২০২৩
সম্মানহানির ভয়ে অনেকেই উপাচার্য হতে চান না : শিক্ষামন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, উপাচার্যরা নিয়োগ, ঠিকাদারিসহ বহুমুখী অযাচিত চাপে থাকেন। অনেক সময় সহকর্মীরাও তাঁদের অসহযোগিতা করে থাকেন। ফলে উপাচার্যদের পক্ষে কাজ করা অনেক সময় কঠিন হয়ে ওঠে। সম্মানহানির ভয়ে অনেকেই উপাচার্য হতে আগ্রহী হন না। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের এই অনভিপ্রেত চর্চা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

শনিবার (২৪ জুন) রাজধানীর একটি হোটেলে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) ও দেশের ৪৬টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরের বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি (এপিএ) স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ইউজিসি সচিব ড. ফেরদৌস জামান তুহিন ও সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর রেজিস্ট্রাররা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

উপাচার্যদের কাজকে এগিয়ে নিতে সার্বিক সহযোগিতা করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের আহ্বান জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, উপাচার্যরা নিয়োগ, ঠিকাদারিসহ বহুমুখী অযাচিত চাপে থাকেন। অনেক সময় সহকর্মীরাও তাদের অসহযোগিতা করে থাকেন। ফলে উপাচার্যদের পক্ষে কাজ করা অনেক সময় কঠিন হয়ে ওঠে। সম্মানহানির ভয়ে অনেকেই উপাচার্য হতে আগ্রহী হন না। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের এই অনভিপ্রেত চর্চা থেকে বেরিয়ে আসার অনুরোধ করেন তিনি।

তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানভেদে আর্থিক প্রয়োজনীয়তা ও খরচের ধরন ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবিদিহির মানদণ্ড সব প্রতিষ্ঠানে একই হওয়া উচিত। দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে সরকারের বিদ্যমান আর্থিক অনুশাসন যথাযথভাবে অনুসরণ করা হলে অর্থ সংক্রান্ত বিতর্ক নিরসন করা সম্ভব হবে। তবে, আর্থিক বিষয় যারা দেখভাল করছেন তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি করাও এক্ষেত্রে খুবই জরুরি।

শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, দেশের বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ন্ত্রণের ইচ্ছা সরকারের নেই। বরং বিশ্ববিদ্যালয়কে কাঙ্খিত স্থানে পৌঁছাতে প্রয়োজনীয় সব সহযোগিতা নিয়ে সরকার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পাশে আছে। সরকারি বিধি বিধান অনুসরণ করে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার জন্য তিনি সংশ্লিষ্টদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান। শিক্ষামন্ত্রী উপাচার্যদের কাজকে এগিয়ে নিতে সার্বিক সহযোগিতা করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের আহবান জানান।

নতুন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে জ্যেষ্ঠ শিক্ষক সংকটের বিষয় তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ে অভিজ্ঞ শিক্ষকদের দ্বারা শিক্ষা নিশ্চিত করতে ইউজিসি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষকদের নিয়ে একটি পুল গঠন করতে পারে। তারা সরাসরি বা ব্লেন্ডেড পদ্ধতিতে শিক্ষাদান করতে পারেন। ফরে নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অভিজ্ঞ শিক্ষকদের পাঠদান গ্রহণের সুযোগ পাবে।

তিনি আরও বলেন, দেশের বিভিন্ন জেলায় বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন হলে শিক্ষার মান কমবে বলে যে ধারণা প্রচলিত আছে তা যথার্থ নয়। শুরুতে কিছু সমস্যা থাকলেও সময়ের পরিক্রমায় ঠিকই শিক্ষার মান অর্জিত হয়।

দীপু মনি বলেন, আমাদের প্রকল্পগুলো নিয়ে কথা হয়। অনেকবার কথা হয়েছে উপাচার্যদের নিয়ে, ট্রেজারারকে নিয়ে। যারা প্রকল্পের দায়িত্বে রয়েছেন, তাদের নিয়ে আমরা কর্মশালা বাস্তবায়ন করবো। কী করে এই প্রকল্প বাস্তবায়নপ্রক্রিয়া ঠিক রাখা যায়। কিন্তু সেটা আমরা করতে পারিনি। এটি করা দরকার এ জন্য যে প্রকল্প প্রণয়ন থেকে পরিকল্পনা স্বচ্ছ থাকলে সমস্যা হয় না। প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্প এখানে একটু বাড়িয়ে নিলাম, এখানে একটু কমিয়ে নিলাম। এভাবে কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় ভুগছে। দীর্ঘদিন ধরে বোঝা কাঁধে নিয়ে বেড়াচ্ছে।

তিনি বলেন, প্রকল্পগুলো সময়মতো শেষ করা উচিত। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে সরকারের নিয়ন্ত্রণের চিন্তা নেই, অন্তত আওয়ামী লীগ সরকারে কখনও ছিল না, এখনও নেই। আশা করি ভবিষ্যতেও থাকবে না। কিন্তু সরকারের বিধিবিধান মেনে চলতে হয়। আপনাদের যে বিধিবিধান রয়েছে, সেগুলো মেনে চলতে হবে।

নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মানোয়ন্ননে শিক্ষক পুল করার আহ্বান জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘সবচেয়ে বেশি দরকার সেটা হলো, আমাদের নতুন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় উপাচার্য ও ট্রেজারার ছাড়া আর অধ্যাপক পদের কেউ নেই। এখানে অধ্যাপক তৈরি হতে ১৫ বছর লাগবে। তাহলে আমাদের নতুন বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কি অধ্যাপক ও সহযোগী অধ্যাপক ছাড়াই বছরের পর বছর চলবে?

ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কাজী শহীদুল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন, অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আলমগীর, অধ্যাপক ড. বিশ্বজিৎ চন্দ, অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহের, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান। ইউজিসি সচিব ড. ফেরদৌস জামান তুহিন অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন।

২০২১-২২ অর্থবছরে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে এপিএ কার্যক্রম বাস্তবায়নে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় অর্জনকারী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, রেজিস্ট্রার ও ফোকাল পয়েন্টদের মাঝে পুরস্কার হিসেবে সম্মাননাপত্র ও ক্রেস্ট প্রদান করেন শিক্ষামন্ত্রী।

ইউজিসি’র উপ-পরিচালক ও এপিএ’র ফোকাল পয়েন্ট মো. গোলাম দস্তগীরের উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসি’র জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ৫৪টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, ৪৬টি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ও এপিএ’র ফোকাল পয়েন্ট উপস্থিত ছিলেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ বিভাগের আরো সংবাদ

আবহাওয়া