বৃহস্পতিবার, ২৫ জুলাই ২০২৪, ১১:৫৭ অপরাহ্ন

শেখ হাসিনার কাছে ভারতকে দেওয়ার মতো আর কিছু নেই : গয়েশ্বর

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট : রবিবার, ২৫ জুন, ২০২৩
শেখ হাসিনার কাছে ভারতকে দেওয়ার মতো আর কিছু নেই : গয়েশ্বর

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে ভারতকে দেওয়ার মতো আর কিছু নেই বলে মন্তব্য করছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

রোববার (২৫ জুন) নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এক প্রতিবাদ সভায় এসব কথা বলেন তিনি। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য সচিব রফিকুল আলম মজনুসহ দলের নেতাদের মুক্তির দাবিতে প্রতিবাদ সভার আয়োজন করে ফেনী জেলা জাতীয়তাবাদী পরিষদ।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাম্বাসেডর বলেছেন, আমরা বাংলাদেশের কাছে কিছু চায়নি। আর প্রধানমন্ত্রী বলছেন-সেন্টমার্টিন দিয়ে দিলে ক্ষমতায় থাকা যাবে। সেন্টমার্টিন যুক্তরাষ্ট্রকে দিলে নাকি তিনি ক্ষমতায় থাকতে পারবেন। আসলে শেখ হাসিনা দেশটা দিয়েও যদি ক্ষমতায় থাকতে পারতেন, তাহলে সেই কাজটি করতে তিনি ভুল করতেন না। অথচ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তরফ থেকে বলা হয়েছে— সেন্টমার্টিন তারা চাননি। আবার কিছুদিন আগে বলেছিলেন-ভারতকে যা দিয়েছি সারাজীবন মনে রাখবে। এখন আর দেওয়ার মতো কিছু নেই। এখন প্রধানমন্ত্রীর কাছে ভারতকে ভালোবাসা ছাড়া দেওয়ার মতো কিছুই নেই।

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির যুক্তরাষ্ট্র সফরে শেখ হাসিনা সরকারের জন্য কোনও লাভ হয়নি। সরকারের যে অবস্থা, তারা বাঘের লেজ দিয়ে কান খোচায়।

তিনি বলেন, শেখ হাসিনা পদত্যাগ যে করবে, কার কাছে ক্ষমতা দেবে— লোকটাকে খুঁজে পাচ্ছে না, ক্ষমতায় দিয়ে কোন দেশে যাবেন, দেশটাও খুঁজে পাচ্ছেন না। পাশের দেশের গেলে ’৭১ সালের মতো শরণার্থী হিসেবে যেতে পারবেন।

তিনি আরও বলেন, এই সরকার ভাবছিল ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আমেরিকা যাবেন, এই উছিলায় একটা ম্যানেজ করবেন। কিন্তু মোদি নিজের গদি রক্ষা করবেন, নাকি শেখ হাসিনার গদি রক্ষা করবেন? তারই তো সমস্যার শেষ নেই। তিনি আবার কার জন্য সুপারিশ করবেন? মনে হয় কোনও লাভ হয়নি। আমাদের সীমান্তে কুকুর-বিড়ালের মতো মানুষ মারে, তার প্রতিবাদ করার ক্ষমতা নেই। তিনি (প্রধানমন্ত্রী) নাকি যুক্তরাষ্ট্রকে চ্যালেঞ্জ করেন, চিন্তা করেন।

বর্ডারে ভারতের সীমান্ত রক্ষীবাহিনী পাখির মতো বাংলাদেশের মানুষকে মারছে দাবি করে তিনি বলেন, কিন্তু সরকার একটা প্রতিবাদ করার সাহস পায় না। অথচ আমেরিকাকে চ্যালেঞ্জ করে, চিন্তা করেন। আমেরিকা ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বছরে বিলিয়ন ডলার রপ্তানি করে কিন্তু আমদানি করে না। ভারত থেকে আমাদের টাকা আসে না কিন্তু যায়।

উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশ করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এ সদস্য বলেন, আপনারা বলছেন, এই মুহূর্তে দরকার জনগণের সরকার। কিন্তু কিছু ঘুষখোর দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা বলেন, আমার জীবনের জন্য দরকার শেখ হাসিনার সরকার। এখন তো আর কোনো পথ নেই। প্রধানমন্ত্রী যে পদত্যাগ করবে, ক্ষমতা কার কাছে দেবে? ওই লোককে খুঁজে পাচ্ছে না। ক্ষমতা ছেড়ে দেশে থাকতে না পারলে বিদেশে যে যাবে, সেটাই খুঁজে পাচ্ছে না।

পদের পেছনে না ছুটে আন্দোলন জোরদারের আহ্বান জানিয়ে গয়েশ্বর বলেন, ভাষা আন্দোলনে যারা জীবন দিয়েছে তাদের কোনো পদ-পদবি আছে? যাদের পদ নেই তারাই পথে থাকে, আর যাদের পদ আছে তারা নেতা হয়ে যায়।

বিএনপির শীর্ষ এই নেতা বলেন, নেতারা পথে আসতে পারে না যদি কর্মীরা পথে না থাকে। সুতরাং কর্মীরা যখন পথে আসবে পদে ভারীরাও পদ ছাড়তে বাধ্য হবে। সুতরাং এখন পদের পেছনে কেউ ঘুরবেন না, এখন পথে নামেন। পথে থেকে ফয়সালা করতে হবে। পথে থেকেই মুক্তি হবে। যত দাবি আছে- আমাদের নেতা তারেক রহমানের দেশে আসা, নেত্রীর ক্ষমতায় যাওয়া- সব ফয়সালা হবে।অংংবসনষুগয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, আপনারা বলেন- এই মুহূর্তে দরকার, খালেদা জিয়ার সরকার। আমি বলি, জনগণের সরকার। এই মুহূর্তে দরকার জনগণের সরকার। আর কিছু ঘুষখোর, দুর্নীতিবাজ, লুটেরা যারা ১৫ বছর লুট করেছে, এরা বলে সারা জীবনের জন্য দরকার, শেখ হাসিনার সরকার।

আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে তিনি বলেন, আমাদের লড়াইটা কিসের- গণতন্ত্রের। কেন? গণতন্ত্রের শত্রু হলো শেখ হাসিনা। তিনি গণতন্ত্রকে ক্ষতবিক্ষত করেছেন। আমরা এই দুর্বল গণতন্ত্রকে সবল করার জন্য পথে নেমেছি।

গয়েশ্বর বলেন, আমরা পুলিশের পক্ষেও নামিনি, বিপক্ষেও নামিনি। সুতরাং জনগণের আন্দোলনে দেশের নাগরিক হিসেবে প্রশাসনের যে যেখানে আছেন তারাও নামেন, দেশটাকে রক্ষা করেন।

ঢাকাস্থ ফেনী জেলা জাতীয়তাবাদী পরিষদের সভাপতি নুরুল আমিন ভূঞা বাদশার সভাপতিত্বে আয়োজিত ওই প্রতিবাদ সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টু ছাড়াও ঢাকা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক আবদুস সালাম, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আবু তালেব, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সদস্য সচিব খন্দকার এনামুল হক এনাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

 

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ বিভাগের আরো সংবাদ

আবহাওয়া