Dhaka মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিক্ষা খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ ব্যয় করবে সরকার : শিক্ষামন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

শিক্ষা খাতে জিডিপির পাঁচ শতাংশ বিনিয়োগের পরিকল্পনা করেছে সরকার বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকালে রাজধানীর হোটেল শেরাটনে ইউনিসেফ আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষা খাতের আমূল পরিবর্তন ও মানোন্নয়নে মোট জিডিপির ৫ শতাংশ ব্যয় করতে সরকার প্রস্তুত। দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দক্ষ করে গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর।

এহছানুল হক মিলন বলেন, বিগত সরকারের আমলে শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ কখনোই দেড় শতাংশের বেশি যায়নি, দক্ষ মানবপুঁজি তৈরি করতেই শিক্ষায় বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার।

তিনি বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে শিক্ষা নিশ্চিতের সঙ্গে সঙ্গেও দক্ষতাও বৃদ্ধি প্রয়োজন। ডিজিটাল ক্লাসরুমের ব্যাপারে বিগত সরকার ব্যর্থ ছিল, জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতার অভাব ছিল। এ সরকার প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ইন্টারেক্টিভ ডিজিটাল ক্লাসরুম করার দিকে এগোচ্ছে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পূর্ববর্তী সরকারগুলো যেখানে জিডিপির ১ দশমিক ৭ শতাংশের বেশি শিক্ষা খাতে বরাদ্দ দেয়নি, সেখানে বর্তমান সরকার এই বিপুল বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে সর্বোচ্চ বিনিয়োগ করছেন। তাই ‘গ্লোবাল ভিলেজে’ প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে এবং একটি উন্নত ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ গড়তে শুধু অবকাঠামো নয়, বরং শিক্ষার্থীদের প্রকৃত মেধা বিকাশে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।

একই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ড. মাহদী আমিন। তিনি তার বক্তব্যে শিক্ষার গুণগত মান ও কাঠামোগত সংস্কারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

ড. মাহদী আমিন বলেন, সমাজ ও রাষ্ট্রে শিক্ষকতা পেশার মর্যাদা ও সম্মান এমন পর্যায়ে নিয়ে যেতে হবে, যাতে দেশের মেধাবী তরুণরা এই পেশাকে তাদের প্রথম পছন্দ হিসেবে বেছে নেয়।

শিক্ষার আঞ্চলিক বৈষম্য তুলে ধরে তিনি আরো বলেন, শহর ও গ্রামের শিক্ষা ব্যবস্থার মধ্যে বিদ্যমান দূরত্ব কমিয়ে আনতে হবে এবং সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।

এ ছাড়া কারিকুলামে নৈতিক শিক্ষার অন্তর্ভুক্তি এবং নতুন কোনো বিদেশি ভাষা শেখানোর আগে শিক্ষার্থীদের মাতৃভাষা বাংলা ও আন্তর্জাতিক ভাষা ইংরেজিতে সঠিক দক্ষতা অর্জনের ওপর বিশেষ জোর দেন তিনি।

আবহাওয়া

সড়ক দুর্ঘটনায় শিক্ষিকার মৃত্যুর খবর শুনে শিক্ষার্থীর মৃত্যু

শিক্ষা খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ ব্যয় করবে সরকার : শিক্ষামন্ত্রী

প্রকাশের সময় : ০২:১৫:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

শিক্ষা খাতে জিডিপির পাঁচ শতাংশ বিনিয়োগের পরিকল্পনা করেছে সরকার বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকালে রাজধানীর হোটেল শেরাটনে ইউনিসেফ আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষা খাতের আমূল পরিবর্তন ও মানোন্নয়নে মোট জিডিপির ৫ শতাংশ ব্যয় করতে সরকার প্রস্তুত। দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দক্ষ করে গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর।

এহছানুল হক মিলন বলেন, বিগত সরকারের আমলে শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ কখনোই দেড় শতাংশের বেশি যায়নি, দক্ষ মানবপুঁজি তৈরি করতেই শিক্ষায় বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার।

তিনি বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে শিক্ষা নিশ্চিতের সঙ্গে সঙ্গেও দক্ষতাও বৃদ্ধি প্রয়োজন। ডিজিটাল ক্লাসরুমের ব্যাপারে বিগত সরকার ব্যর্থ ছিল, জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতার অভাব ছিল। এ সরকার প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ইন্টারেক্টিভ ডিজিটাল ক্লাসরুম করার দিকে এগোচ্ছে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পূর্ববর্তী সরকারগুলো যেখানে জিডিপির ১ দশমিক ৭ শতাংশের বেশি শিক্ষা খাতে বরাদ্দ দেয়নি, সেখানে বর্তমান সরকার এই বিপুল বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে সর্বোচ্চ বিনিয়োগ করছেন। তাই ‘গ্লোবাল ভিলেজে’ প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে এবং একটি উন্নত ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ গড়তে শুধু অবকাঠামো নয়, বরং শিক্ষার্থীদের প্রকৃত মেধা বিকাশে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।

একই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ড. মাহদী আমিন। তিনি তার বক্তব্যে শিক্ষার গুণগত মান ও কাঠামোগত সংস্কারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

ড. মাহদী আমিন বলেন, সমাজ ও রাষ্ট্রে শিক্ষকতা পেশার মর্যাদা ও সম্মান এমন পর্যায়ে নিয়ে যেতে হবে, যাতে দেশের মেধাবী তরুণরা এই পেশাকে তাদের প্রথম পছন্দ হিসেবে বেছে নেয়।

শিক্ষার আঞ্চলিক বৈষম্য তুলে ধরে তিনি আরো বলেন, শহর ও গ্রামের শিক্ষা ব্যবস্থার মধ্যে বিদ্যমান দূরত্ব কমিয়ে আনতে হবে এবং সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।

এ ছাড়া কারিকুলামে নৈতিক শিক্ষার অন্তর্ভুক্তি এবং নতুন কোনো বিদেশি ভাষা শেখানোর আগে শিক্ষার্থীদের মাতৃভাষা বাংলা ও আন্তর্জাতিক ভাষা ইংরেজিতে সঠিক দক্ষতা অর্জনের ওপর বিশেষ জোর দেন তিনি।