বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২০, ০৪:৫৩ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
করোনায় আক্রান্ত মাশরাফির ছেলে-মেয়ে করোনায় লকডাউনের পথে ইউরোপ করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের শঙ্কা বাড়ছে বঙ্গোপসাগরে ডুবন্ত জাহাজ থেকে ১৪ নাবিক উদ্ধার এই শহরের বাসিন্দা মাত্র দুজন : তবুও মানছেন স্বাস্থ্যবিধি ঢাকা-রোম বিমানের বিশেষ ফ্লাইট ২৮ অক্টোবর সমুদ্র সৈকতে সাকি গার্লের উষ্ণ নাচে ভাইরাল নোরা ফাতেহি ঝুঁকি নিয়ে দায়িত্ব পালনে করোনায় আক্রান্ত তথ্যমন্ত্রী বুধবার থেকে খুচরা পর্যায়ে আলুর কেজি ৩৫ টাকা বেতনে সংসার চলে না: ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন মেয়াদোত্তীর্ণ ঝুঁকিপূর্ণ ১৫ হাজার অটোরিকশা চলছে ঢাকায় সম্রাটের মুক্তি চেয়ে আদালতপাড়ায় কর্মীদের বিক্ষোভ শ্যালিকাকে ধর্ষণ: কোটিপতি দুলাভাইয়ের উত্থান নিয়ে প্রশ্ন বাবার ভোট পাহারা দিতে গিয়ে ট্রেনে কাটা পড়ল ছেলে শুল্কমুক্ত গাড়ি বিক্রি করা যাবে না পাঁচ বছর আগে ৩২ দিনে করোনায় এক কোটি সংক্রমিত নারায়ণগঞ্জে বিএনপির মাহফিলে হামলার অভিযোগ মেক্সিকো সীমান্তে পৃথিবীর দীর্ঘতম সুড়ঙ্গের সন্ধান বিএনপি নেতা রিজভীর শারীরিক অবস্থার উন্নতি দীপিকা-আলিয়া একসঙ্গে সঞ্জয় লীলার বৈজু বাওরা’ ছবিতে

শাহজাদপুরে ২০ বছরেও সংস্কার হয়নি মুজিব বাঁধ: জনদুর্ভোগ চরমে

সিরাজগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি
আপডেট : সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২০
শাহজাদপুরে ২০ বছরেও সংস্কার হয়নি মুজিব বাঁধ: জনদুর্ভোগ চরমে
ছবি : যোগাযোগ

গত ২০ বছর ধরে সংস্কারের অভাবে শাহজাদপুর উপজেলার বাঘাবাড়ী থেকে পাবনা জেলার বেড়া উপজেলার আমাইকোলা পর্যন্ত ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ ‘মুজিব বাঁধ’ চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। জনগুরুত্বপূর্ণ এ বাঁধ ও সড়কের দু’পাশের বিভিন্ন স্থানে মাটি, ইট, খোয়া, পাথর ও সিসি ব্লক ধ্বসে বড় বড় খানা খন্দের সৃষ্টি হওয়ায় বাঁধের ওপর দিয়ে ঝূঁকি নিয়ে এলাকাবাসীকে চলাচল করতে হচ্ছে।

ফলে লাখো মানুষের চলাচলে ও মালামাল পরিবহনে নিত্যদিন সীমাহীন দুর্ভোগ-দুর্গতি পোহাতে হচ্ছে। দেখার কেউ নেই। নেই জনভোগান্তি লাঘবেরও কেউ!

সোমবার দুপুরে সরেজমিন পরিদর্শনকালে নানা আক্ষেপ প্রকাশ করে এলাকাবাসী জানান, বাঁধের ওপরের সড়কের ইট-পাথর ধ্বসে বিভিন্ন স্থান এতটাই সংকুচিত হয়েছে যে ওইসব স্থান দিয়ে ঝূঁকি নিয়ে রিকশাভ্যান চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছে। মাত্র ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ বাঁধ ও সড়কে দশ মিনিটের পথ পাড়ি দিতে ঘন্টা পার করতে হচ্ছে।

 

ঝূঁকিপূর্ণ এ সড়কের ওপর দিয়ে বাঘাবাড়ী, রামখাড়ুয়া, চয়রা, বেড়া, মোয়াকোলা, আহম্মদপুর (ডোমবাড়িয়া), করশালিকা, আন্ধারমানিক, ভূলবাকুটিয়া, কুলিয়ারচর, ধুনাইল, বাগধুনাইলসহ পাশর্^বর্তী বিভিন্ন গ্রামের লাখো আমজনতার চলাচল, দুগ্ধ ও কৃষিপন্যসহ বিভিন্ন মালামাল পরিবহনে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

আরও পড়ুন : শাহজাদপুরে ট্যাংকলরি শ্রমিককে মারপিটের প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ

ঝূঁকিপূর্ণ এ সড়ক দিয়ে এলাকাবাসী ও শত শত স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের চলাচল, ধান, চাল, পাট, সরিষা, দুধের ক্যান, সার, জ্বালানী তেল, নিত্যপ্রয়োজনীয় নানা দ্রব্যসহ বিভিন্ন মালামাল ও কৃষিপণ্য পরিবহন করা হচ্ছে। সংস্কারের অভাবে কৃষিখাতের অগ্রগতির অন্যতম বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে এ বাঁধের ওপর নির্মিত সড়কটি।

তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, স্বাধীনতার পরে তৎকালীর সরকার পাবনা সেচ ও পল্লী উন্নয়ন প্রকল্পের (আইআরডি) আওতায় এ বাঁধ নিমার্ণের জন্য জমি অধিগ্রহণ করে এর নির্মাণকাজ শুরু করে যা ১৯৮০ সালে দিকে শেষ হয়। প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় বাঁধের নামকরণ করা হয় ‘মুজিব বাঁধ’।

 

এর আগে এ অঞ্চলের মানুষ বর্ষাকালে নৌকাযোগে ও শুস্ক মৌসুমে জমির ওপর দিয়ে পায়ে হেটে যাতায়াত করত। বাঁধটি নির্মাণের ফলে যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হয় । এ সড়কটি নির্মাণ করে বেড়া ও সাঁথিয়া উপজেলাকে বন্যার আওতামূক্ত করা হয়। ফলে বেড়া ও সাঁথিয়া উপজেলার কৃষকেরা সারা বছরে বহু ফসল উৎপাদন করায় কৃষিখাতে অভূতপূর্ব উন্নয়ন ঘটে।

 

সর্বশেষ গত ২০০০ সালে এ বাঁধের সংস্কার কাজ ও পাকা সড়ক নির্মাণ করা হয়। এতে বাঁধটির স্থায়িত্ব বৃদ্ধির পাশাপাশি যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন ঘটায় জনভোগান্তির পরিসমাপ্তি ঘটে । এরপর দীর্ঘ ২০ বছর পেরিয়ে গেলেও বাঁধের সংস্কার কাজ না করায় খানাখন্দ সৃষ্টি হওয়ায় এটি চলাচলের অযোগ্য ও ঝূঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে।

এ ব্যাপারে রূপবাটি ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম সিকদার বলেন, দুগ্ধ, কৃষি ও শিল্পপ্রধান এ এলাকার মানুষের চলাচল ও পণ্য পরিবহনের একমাত্র ভরসা বাঁধের এ সড়ক। জনগুরুত্বপূর্ণ বাঁধের এ সড়কটি স্বল্প সময়ে সংস্কার অতীব জরুরি হয়ে পড়েছে।

এ ব্যাপারে বেড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুল হামিদ জানান, এ বছরেই ২১ কোটি টাকা ব্যায়ে মুজিব বাঁধের সংস্কার কাজ শুরু হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ বিভাগের আরো সংবাদ

আবহাওয়া

%d bloggers like this:
%d bloggers like this: