বুধবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৯:৪২ অপরাহ্ন

রিজেন্টের সাহেদের অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড বাতিল

স্টাফ রিপোর্টার
আপডেট : রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২০
রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান সাহেদ

করোনা পরীক্ষা ও চিকিৎসায় অনিয়ম-প্রতারণার বিভিন্ন অভিযোগের মামলায় গ্রেফতার রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মো. সাহেদকে সঙ্গে নিয়ে মধ্যরাতে অভিযান চালিয়েছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তপন চন্দ্র সাহা জানান, শনিবার মধ্যরাতে ডিবি পুলিশ সাহেদকে নিয়ে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে মদ, ফেন্সিডিল ও পিস্তল উদ্ধার হওয়ার ঘটনায় দু’টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ডিবি পুলিশের সদস্যরা সাহেদকে নিয়ে উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টরের সোনারগাঁও জনপদ রোডের ৬২ নম্বর বাসার সামনে অভিযান চালায়। সেখানে সাহেদের একটি সাদা প্রাইভেটকার ছিল। সেই প্রাইভেটকারে তল্লাশি চালিয়ে ডিবির সদস্যরা পাঁচ বোতল বিদেশি মদ, ১০ বোতল ফেন্সিডিল, পিস্তল ও গুলি উদ্ধার করা হয়।

এদিকে, সাহেদের নামে ইস্যু করা অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড বাতিল করেছে তথ্য অধিদপ্তর (পিআইডি)। তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সুরথ কুমার সরকার আজ (রোববার) এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সাহেদের নামে ইস্যু করা অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড

তিনি জানান, অ্যাক্রেডিটেশন কার্ডের নীতিমালায় বলা আছে, কেউ যদি অপরাধমূলক কাজে জড়িত থাকেন, তাহলে কার্ড বাতিল হয়ে যাবে। প্রাথমিকভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজে সাহেদ করিমের জড়িত থাকার প্রমাণ পেয়েছে। এ অবস্থঅয় নীতিমালা অনুযায়ী তার নামে ইস্যু করা অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড বাতিল করা হয়েছে।

করোনা টেস্টের ভুয়া সনদ দেওয়াসহ বিভিন্ন প্রতারণার মামলায় গ্রেফতার সাহেদ (মোহাম্মদ সাহেদ) ঢাকা থেকে প্রকাশিত দৈনিক নতুন কাগজের প্রকাশক ও সম্পাদক হিসেবে কার্ড নিয়েছিলেন। সর্বশেষ তার কার্ড ইস্যু হয় গত বছরের ডিসেম্বরে। কার্ড নং-৬৮৪৫, কার্ডের মেয়াদ চলতি বছরের ২ ডিসেম্বর শেষ হওয়ার কথা ছিল।

গ্রেফতারের পর প্রশাসনের কেন্দ্রবিন্দু বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রবেশের জন্য ‘প্রতারক’ সাহেদের নামে ইস্যু করা অ্যাক্রেডিটেশন কার্ডের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এরপরই কার্ডটি বাতিলের উদ্যোগ নেয়া হয়।

রিজেন্টে প্রতারণার শিকার ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণের নোটিশ

বেসরকারি রিজেন্ট হাসপাতালে করোনা পরীক্ষা ও চিকিৎসায় প্রতারণার শিকার প্রত্যেক পরিবারকে ১০ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দিতে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

আজ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসানের পক্ষে ব্যারিস্টার আব্দুল হালিম এ নোটিশ পাঠান। নোটিশে ক্ষতিপূরণসহ দেশের যে সকল হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক সেন্টারে করোনা পরীক্ষার অনুমতি দেওয়া হয়েছে তার তালিকা প্রকাশ করতে বলা হয়েছে। একইসঙ্গে তাদের কোভিড-১৯ চিকিৎসা সংক্রান্ত বিস্তারিত রিপোর্ট দাখিলের বিধান চালু করতে বলা হয়েছে এবং প্রতিটি থানায় স্বাস্থ্য মনিটরিং কমিটি করতে বলা হয়েছে।

আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে এ ঘোষণা দিতে বলা হয়েছে তা না হলে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হবে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়।

স্বাস্থ্যসচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক বরাবর এ নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

নোটিশকারীর আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুল হালিম বলেন, ‘৪৮ ঘণ্টার মধ্যে রিজেন্ট হাসপাতালে ভুক্তভোগী ও প্রতারণার শিকার পরিবারগুলোকে ক্ষতিপূরণ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে দিতে হবে। পরে তারা চাইলে রিজেন্টের কাছ থেকেও নিতে পারবে।’

তিনি বলেন, ‘লাইসেন্সবিহীন রিজেন্ট হাসপাতালের সঙ্গে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় চুক্তি করেছে। বুথ বানিয়ে করোনাভাইরাস টেস্টের অনুমতি প্রদান করেছে। যা চরম দায়িত্বহীনতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের পরিচয়। ভুয়া করোনা টেস্ট এর রিপোর্ট প্রদান করে রিজেন্ট হাসপাতাল জনগণের সঙ্গে চরমভাবে প্রতারণা করেছে। তাই প্রতারিত পরিবারদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।’

যেখানে-সেখানে গড়ে ওঠা লাইসেন্সবিহীন হাসপাতাল, করোনা টেস্টের ভুয়া রিপোর্ট নিয়ে বিদেশ ভ্রমণ, বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা বিল নিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কার্যত কোনো পদক্ষেপ নেই। যা জনগণের বেঁচে থাকার সাংবিধানিক অধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে মনে করছেন এ আইনজীবী।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ বিভাগের আরো সংবাদ

আবহাওয়া

%d bloggers like this:
%d bloggers like this: