বুধবার, ২৪ জুলাই ২০২৪, ০৫:২০ পূর্বাহ্ন

মুম্বাইকে হারিয়ে ফাইনালে গুজরাট

স্পোর্টস ডেস্ক
আপডেট : শনিবার, ২৭ মে, ২০২৩
মুম্বাইকে হারিয়ে ফাইনালে গুজরাট

স্পোর্টস ডেস্ক : 

শুবমান গিলের বিস্ফোরক সেঞ্চুরিতে রানের পাহাড় গড়েছিল গুজরাট টাইটান্স। আইপিএলের দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে শেষ পর্যন্ত সেই পাহাড়েই পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স পিষ্ট হয়েছে। তাদের ৬২ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে টানা দ্বিতীয় ফাইনাল নিশ্চিত করেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন গুজরাট। শিরোপা নির্ধারণী ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ চেন্নাই সুপার কিংস।

শুক্রবার (২৬ মে) আহমেদাবাদে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে গিল নৈপুণ্যে মাত্র ৩ উইকেট হারিয়ে স্কোরবোর্ডে ২৩৩ রানের রেকর্ড পুঁজি গড়েছিল গুজরাট। রান পাহাড় তাড়া করতে নেমে মোহিত ও শামিদের তোপে ১৭১ রানেই অলআউট হয়ে গেছে মুম্বাই। ৬২ রানের বড় জয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনালে মাত্র দ্বিতীয় আসর খেলতে নামা আইপিএলের নবীনতম দল গুজরাট।

এসেছে নতুন রাজা ছেড়ে দিতে হবে স্থান- কথাটা মিলে যায় গুজরাটের সঙ্গে। প্রথম আসরে খেলতে নেমেই চ্যাম্পিয়ন। এবারো হাতছানি আরেকটি শিরোপার। আগামী রোববার (২৮ মে) ফাইনালে চেন্নাই সুপার কিংসের মুখোমুখি হবে দলটি।

আগে ব্যাটিং করতে নেমে শুরুটা ভালোই করেন গুজরাটের দুই ওপেনার ঋদ্ধিমান সাহা ও শুভমান গিল। ওপেনিং জুটিতে স্কোরবোর্ডে ৩৮ বলে ৫৪ রান যোগ করার পর সাহা ১৮ রান করে ফিরে গেলেও শুরু থেকেই বিধ্বংসী ব্যাটিং চালিয়ে যান গিল। ৩২ বলে ফিফটি করা গুজরাটের এই ব্যাটারের ইনিংস শেষ হয় এ মৌসুমে তার তৃতীয় সেঞ্চুরি তুলে নেবার পর। ৬০ বল খেলে ৭ টি চার আর ১০ টি ছয়ে ২১৫ স্ট্রাইকরেটে ১২৯ রান করেন গিল।নিজের তৃতীয় শতক পূরণ করতে বল খেলেছেন মাত্র ৪৯ টি।

প্রথম উইকেট নেয়ার পর ১৬ ওভার পর্যন্ত গুজরাটের আর কোনো উইকেটই নিতে পারেনি মুম্বাইয়ের বোলাররা। সাহা ফিরে গেলে তিনে নামা ব্যাটসম্যান সাই সুদর্শন কে সঙ্গে নিয়ে ১৩৪ রানের জুটি গড়েন গিল। এ দুই ব্যাটসম্যানের মারকাটারি ব্যাটিং এ দ্রুত ঘুরতে থাকে রানের চাকা। কিন্তু সতের তম ওভারে মুম্বাইয়ের আগের ম্যাচের জয়ের নায়ক মাধওয়ালের বলে ক্যাচ তুলে দিলে শেষ হয় গিলের বিধ্বংসী ইনিংস,গুজরাটের রান তখন ১৯২।

গুজরাটের হয়ে চারে ব্যাটিং করতে আসা হার্দিক পান্ডিয়া ও সুদর্শন জুটি স্কোরবোর্ডে ২২ রান যোগ করলেও ৩১ বলে ৪১ রান করা সুদর্শনকে সাজঘরে ফিরতে হয় রিটায়ার্ড আউট হয়ে। তবুও রানের চাকা থামেনি গুজরাটের। অধিনায়ক পান্ডিয়ার ১৩ বলে ২ চার ও ২ ছয়ের ২৮ রানের ক্যামিও ইনিংসে ২০ ওভারে ২৩৩ রানের বিশাল সংগ্রহ পায় তারা। মুম্বাইয়ের হয়ে একটি করে উইকেট নিয়েছেন আকাশ মাধওয়াল ও পিযুশ চাওলা। জয়ের জন্য মুম্বাইয়ের টার্গেট দাঁড়ায় ২৩৪।

২৩৪ রানের লক্ষ্যে খেলতে নামা মুম্বাই কক্ষপথেই ছিল সূর্যকুমার যাদব যতক্ষণ টিকে ছিলেন। বড় লক্ষ্যের বিপরীতে শুরুটা ভালো ছিল না যদিও। ২১ রানের মধ্যে সাজঘরে ফেরেন নেহাল ওয়াধেরা (৪) ও রোহিত শর্মা (৮)। তার পর তিনটি জুটিতে জয়ের সম্ভাবনা বাঁচিয়ে রাখতে অবদান রাখেন সূর্যকুমার। সূর্য কুমার-তিলক বর্মা জুটিতে ৫১ রান যোগ হয়েছে।

পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে তিলক বর্মা ৪৩ রানে ফিরলে ভাঙে জুটি। তিলকের ১৪ বলের ইনিংসে ছিল ৫টি চার ও ৩টি ছয়। তার পর ক্যামেরন গ্রিনের সঙ্গে মিলে আরও ৫১ রান যোগ করেন সূর্য। সেই জুটিও বড় হয়নি গ্রিন ২০ বলে ৩০ রান করে ফিরলে। প্রান্ত আগলে তার পরেও সূর্য ঝড় অব্যাহত রাখেন। ঝড়ো ব্যাটিংয়ে তুলে নেন ফিফটিও। আরও চড়াও হতে যাচ্ছিলেন, ঠিক সেই সময় ১৪.৩ ওভারে তাকে বোল্ড করে মুম্বাইয়ের মূল প্রতিরোধ ভেঙে দেন পেসার মোহিত শর্মা। ফেরার আগে সূর্য ৩৮ বলে ৭ চার ও ২ ছক্কায় ৬১ রান করেছেন। তার পর গুটিয়ে যেতে সময় লাগেনি মুম্বাইয়ের। ১৮.২ ওভারে তারা ১৭১ রানে অলআউট হয়েছে।

একাই মুম্বাইয়ের প্রতিরোধ ভেঙেছেন মোহিত শর্মা। ১০ রানে নিয়েছেন ৫ উইকেট। দুটি করে নিয়েছেন মোহাম্মদ সিরাজ ও রশিদ খান।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ বিভাগের আরো সংবাদ

আবহাওয়া