শুক্রবার, ২৬ জুলাই ২০২৪, ০১:২০ পূর্বাহ্ন

মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানকে সহযোগিতা করেছিল আমেরিকা: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট : রবিবার, ১৭ ডিসেম্বর, ২০২৩
মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানকে সহযোগিতা করেছিল আমেরিকা: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানকে সহযোগিতা করেছিল আমেরিকা সরকার। তবে মার্কিন জনগণ বাংলাদেশের মুক্তিকামী জনগণের পাশে ছিল। সোভিয়েত রাশিয়া থেকে শুরু করে অন্যান্য ইউরোপিয়ান দেশগুলোও আমাদের সমর্থন করে। সবার সমর্থন নিয়ে আমরা মুক্তিযুদ্ধ চালিয়ে যাই।

রোববার (১৭ ডিসেম্বর) বিকেলে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাঙালি জাতি বীরের জাতি। ৭ মার্চের ভাষণে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বলেছিলেন এ বাঙালিকে কেউ দাবায়ে রাখতে পারবে না। কেউ দাবায়ে রাখতে পারে নাই, ভবিষ্যতেও পারবে না। এবারের বিজয় দিবসে সারা বাংলাদেশের মানুষ অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে অংশগ্রহণ করেছে।

তিনি বলেন, ‘আমাদের পাশে ছিল মিত্র বাহিনী, মিত্র বাহিনীর শক্তি ভারত। ভারতের জনগণ, ভারতের তৎকালীন সরকার, বিশেষ করে ইন্দিরা গান্ধী এবং ভারতের সব রাজনৈতিক দল ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই বাংলাদেশকে সমর্থন দেয়। ভারতের এমন কোনো দল ছিল না যে, আমাদের সমর্থন দেয়নি। এই মিত্র শক্তির সঙ্গে সঙ্গে আরও অন্যান্য দেশেরও সমর্থন পাই।

বিএনপির মাথা নেই, শুধু একটা ধর চলছে বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, বিএনপির চরিত্র কখনো বদলাবে না। জনগণের কল্যাণের কথা এরা চিন্তা করে না। নিজেদেরটাই শুধু ভালো বোঝে। বিএনপি যখন ক্ষমতায় এসেছে অর্থ-সম্পদ বানানো, বিদেশে পাচার করা, এতিমের অর্থ আত্মসাৎ- এগুলোই করেছে। আর তাদের কাছ থেকে এখন বড় বড় কথা শুনতে হয়। এটাই বাংলাদেশের দুর্ভাগ্য।

বিএনপির সঙ্গে সংলাপের প্রসঙ্গ তুলে শেখ হাসিনা বলেন, যখন ডায়ালগের জন্য ফোন করলাম, যে ধরনের আচরণ করল, আমি অবাক হলাম। এরপরেও নির্বাচন হয়ে গেল। ২০১৮ সালে আবার যখন আহ্বান করলাম, সব দলই কথা বলল, শুধু বিএনপি ছাড়া। কিন্তু তারা নির্বাচনে আসে।

তিনি বলেন, নির্বাচন তারা (বিএনপি) করবে কিভাবে। কারণ, তারা নমিনেশন দেয়- একটা আসে লন্ডন থেকে, একটা আসে পল্টন থেকে, আরেকটা আসে গুলশান থেকে। যখন লন্ডনেরটা আসে, তখন পল্টনেরটা চলে যায়, যখন পল্টনেরটা থাকে তখন গুলশানেরটা যায়। এই করে সকালে একটা নির্বাচন দেয়, বিকালে একটা নির্বাচন দেয়। শেষকালে পল্টনও গেল, লন্ডনও গেল, গুলশানও গেল।

২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপি কয়েকটা সিট (আসন) পেয়েছিল উল্লেখ করে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, তাদের যারা পার্লামেন্টে সদস্য ছিল, আমরা তাদের সবরকম সুযোগ দিতাম কথা বলার। কারণ, আমরা যখন বিরোধী দলে ছিলাম, তখন আমাদের কথা বলতে দেওয়া হতো না। এমনকি ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা নিয়ে আলোচনা করার সুযোগ দেয়নি। আমি বিরোধী দলের নেতা হয়েও আমি কোনো দিন মাইকই পেতাম না।

তিনি বলেন, এখন আবার যখন নির্বাচন এসেছে, তখন তাদের নানা কথা, নির্বাচন করবে না। আসলে নির্বাচন করবে কিভাবে। ওই দলের তো মাথা নেই, শুধু একটা ধর চলছে। সেটাও একটা গুলশান, আর একটা পল্টন থেকে। এই দুই জায়গা থেকে তারা চলছে। আর কোনো কোনো অন্ধকার জায়গা থেকে তারা কথা বলে। ডিজিটাল বাংলাদেশের সুযোগ নিয়ে প্রতিদিন হরতাল ডাকে, অবরোধ ডাকে, মানুষ পুড়িয়ে মারে।

বিএনপির অবরোধে তারা নিজেরাই অবরুদ্ধ হয়ে যায় মন্তব্য করে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, খালেদা জিয়া তো বছরের পর বছর অবরুদ্ধ। কারণ, ২০১৪ সালে তিনি যে অবরোধের ঘোষণা দিয়েছিল, তা এখনো তোলেনি। এখন আবার অবরোধ দিচ্ছে, হরতাল দিচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, লন্ডন বসে হুকুম দেয়, আর এখান থেকে আগুন দেয়। এই আগুনের খেলা ভালো না। বাংলাদেশের মানুষকে আহ্বান জানাই, যারা আগুন দেয় তাদের প্রতিহত করুন।

ভোট কারচুপি বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান শুরু করেছিলেন উল্লেখ করে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, আজকে খুব অবাক লাগে বিএনপি যখন গণতন্ত্রের কথা বলে, ভোটের অধিকারের কথা বলে। ভোটের অধিকার কেড়ে নেওয়া, ভোট কারচুপি করা, সিল মারা, হ্যাঁ না ভোট দিয়ে হ্যাঁ ভোটের বাক্স ভরা, এগুলো কে করেছে? এগুলো তো জিয়াউর রহমানই শুরু করেছে। জিয়াউর রহমান অবৈধ ক্ষমতা দখল করে এসবের শুরু করেছে। ওদের জন্মই হয়েছে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারীর হাত দিয়ে। ওদের বাংলাদেশের মানুষ বিশ্বাস করবে কীভাবে?

বিএনপি মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে নয়, নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তনে কাজ করেছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, এদের চরিত্র কখনো বদলাবে না। জনগণের কল্যাণ-মঙ্গলের কথা এরা চিন্তা করে না। নিজেদের কথাটা ভালো বোঝে। যখনই ক্ষমতায় এসেছে, জনগণের ভোট চুরি করা, অর্থ সম্পদ বানানো, বিদেশে অর্থ পাচার করা, মানি লন্ডারিং করা; এমনকি, এতিমের অর্থ পর্যন্ত আত্মসাৎ করেছে। আর তাদের কাছ থেকে বড় বড় কথা শুনতে হয়। এটাই হচ্ছে বাংলাদেশের দুর্ভাগ্য।

‘রেল লাইন কেটে মৃত্যুর ফাঁদ পেতে তারা মানুষ হত্যা করেছে। জিয়া আর খালেদা জিয়ার মতো লন্ডনে বসে হুকুম দেয়…আমি বুঝি না বিএনপি নেতারা কী করছে। ওখান থেকে হুকুম দেয়, আর এখান থেকে আগুন দেয়। এই আগুন নিয়ে খেলা, এই খেলা ভালো না বাংলাদেশের মানুষ এটা মেনে নেবে না।’

রেল লাইন কাটা এবং অগ্নিসন্ত্রাসের বিরুদ্ধে দেশের মানুষকে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, তারা হরতাল ডেকে ঘরে চুপ করে থাকে। এতো টাকার উৎস কোথায়? হাওয়া ভবন খুলে অস্ত্র চোরাকারবারি, মানি লন্ডারিং করে টাকা পাচার করেছে।

‘যারা রেল লাইন কাটতে যাবে এদের ধরিয়ে দিন। এদের ধ্বংসাত্মক কাজ চলতে পারে না। খালেদা জিয়ার তো বছরের পর বছর অবরোধ চলছে। ওটা এখনও তোলে নাই। বাংলাদেশ যখন কোভিড আর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ধাক্কা কাটিয়ে উঠে এগিয়ে যাচ্ছে তখন হরতাল-অবরোধ ডেকে আবারও বাংলাদেশের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে। এরা মানুষের কল্যাণ চায় না। তারা ভোটে যায় না কারণ মানুষ তাদের প্রত্যাখ্যান করবে। এজন্য নির্বাচন বানচাল করতে চায়।’

তিনি বলেন, আজকে বাংলাদেশ বদলে যাওয়া বাংলাদেশ। সারা বিশ্ব এখন সম্মানের চোখে দেখে। কিন্তু আমাদের দেশের কিছু লোক বোঝে না। বুদ্ধি বেচিয়া জীবিকা নির্বাহ করে যারা, তাহারাই বোঝে না। সাধারণ মানুষ বোঝে। তারা আমাদের সাথে আছে। বাংলাদেশের মানুষ বোঝে তাদের কীসে ভালো কীসে মন্দ। আর কোন দল ক্ষমতায় থাকলে তাদের উন্নতি হয়।

আওয়ামী লীগকে ষড়যন্ত্র করে উৎখাত করা সহজ নয় জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ এদেশের মাটি মানুষের সংগঠন। এর শেকড় অনেক গভীরে। এভাবে আওয়ামী লীগকে উৎখাত করতে পারবে না। সংগ্রাম করে ভোট ও ভাতের অধিকার প্রতিষ্ঠা, নির্বাচন সংস্কার আমরা করেছি। জনগণের ভোটের অধিকার তাদের হাতে ফিরিয়ে দিয়েছি। অগ্নিসন্ত্রাস আর খুন করে জনগণের মন পাওয়া যায় না।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে মানুষ তার ভোটের অধিকার পায়, মৌলিক অধিকার পায়। বাংলাদেশের ইতিহাসে একমাত্র ’৯৬ সালে সরকার গঠন করে ২০০১ সালে ক্ষমতা হস্তান্তর করি। ২৬ বছরে প্রথম শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করা হয়। আর সেই নির্বাচন সেখানেও ব্যাপকভাবে অনিয়ম করে আওয়ামী লীগকে হারিয়ে দেওয়া হয়। কারণ, গ্যাস বিক্রির মুচলেকা দিয়ে খালেদা জিয়া ক্ষমতায় আসে। তাদের দুর্নীতি অনিয়মের কারণে ইমার্জেন্সি আসে। তারা তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন না দিয়ে ক্ষমতা আঁকড়ে ধরে। পরে ছাত্র জনতাই কিন্তু প্রতিরোধ গড়ে তোলে।

সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আব্দুর রাজ্জাক, সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, সুজিত রায় নন্দী, কেন্দ্রীয় সদস্য আমিরুল আলম মিলন, আনোয়ার হোসেন, মেরিনা জাহান কবিতা, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ বজলুর রহমান, ঢাকা দক্ষিণ আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির।

সঞ্চালনা করেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, উপ-প্রচার সম্পাদক আবদুল আউয়াল শামীম।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ বিভাগের আরো সংবাদ

আবহাওয়া