বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০২৪, ১০:১২ পূর্বাহ্ন

‘মিয়ানমারের রাখাইন থেকে নতুন করে আর কোনো রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হবে না’

টেকনাফ উপজেলা প্রতিনিধি
আপডেট : রবিবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৪
‘মিয়ানমারের রাখাইন থেকে নতুন করে আর কোনো রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হবে না’

টেকনাফ উপজেলা প্রতিনিধি : 

কোস্টগার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল মীর এরশাদ আলী বলেছেন, মিয়ানমারের রাখাইন থেকে নতুন করে আর কোনো রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হবে না। পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাংলাদেশের সমুদ্র সীমানায় জনবল বৃদ্ধি ও টহল জোরদারসহ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে কোস্টগার্ড। সীমান্ত সুরক্ষিত আছে। মিয়ানমার সীমান্তে উত্তেজনা নিয়ে আমরা সতর্ক আছি।

রোববার (২১ এপ্রিল) সকালে টেকনাফের সীমান্ত এলাকা পরিদর্শন শেষে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার এডমিরাল মীর এরশাদ আলী গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, মিয়ানমারের সংঘাতের কারণে ওই দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির স্বাভাবিকভাবে অবনতি হয়েছে। যেখানে থাকা দুর্বৃত্তরা এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে মাদক চোরাচালন,অবৈধ অনুপ্রবেশের তৎপরতা বাড়াবে এটা স্বাভাবিক। ফলে সবকিছুর বিবেচনায় কোস্ট গার্ড তাদের নির্ধারিত এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। এর জন্য কোস্ট গার্ড তাদের জনবল বৃদ্ধি, জল যান বৃদ্ধিসহ টহল ও নজরদারি বাড়িয়েছে। এ পরিস্থিতিতে কোনো প্রকার অবৈধ অনুপ্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।

সকালে টেকনাফ পৌঁছার পর নাফনদ দিয়ে সীমান্ত ঘুরে দেখেন কোস্ট গার্ডপ্রধান কথা বলেন কোস্ট গার্ডের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে। এরপর টেকনাফের কেরুণতলী এলাকার ঘাটে ফিরে কথা বলেন গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে।

এ সময় তিনি বলেন, সীমান্তে বিজিবি দায়িত্ব পালন করছেন। বিজিবির সঙ্গে কোস্ট গার্ড, পুলিশ, র‌্যাবসহ অন্যান্য বাহিনীও রয়েছে। কোস্ট গার্ড সদস্যরা মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতায় বাংলাদেশের উপকূলবর্তী সীমানায় সবোর্চ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। ইতোমধ্যে মিয়ানমারের বিজিপির ১৩ সদস্যকে অস্ত্রসহ আত্মসমর্পণ করে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করেছে। তাদের নিয়মিত প্রক্রিয়ায় ফেরত পাঠানোর কাজ চলছে। এর বাইরে অবৈধ অনুপ্রবেশের চেষ্টাকারী অনেকেই আটকে দিয়ে ফেরত পাঠানো হয়েছে। কোনোভাবেই অবৈধ অনুপ্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।

সীমান্ত পরিদর্শনটি নিয়মিত প্রক্রিয়ার অংশ মন্তব্য করে তিনি বলেন, কোস্ট গার্ডের যেসব স্টেশন রয়েছে যেখানে প্রধান হিসেবে নিয়মিত পরিদর্শন এবং দায়িত্বরতদের সঙ্গে আলাপ করে তাদের মনোবল বৃদ্ধি করার কাজটি করা হয়। এটিও তা। এর মধ্যে মিয়ানমারের সংঘাতময় পরিস্থিতি বিবেচনা করে সব ধরনের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে নাফ নদে ২৪ ঘণ্টা নিরাপত্তা টহল অব্যাহত রেখেছে কোস্ট গার্ড। তাদের সঙ্গে আলাপ করে আরও নজরদারি বাড়ানোর জন্য এ পরিদর্শন।

মিয়ানমারের জলসীমায় বিভিন্ন সময় জাহাজ দেখার বিষয়টি স্বাভাবিক বলে জানিয়েছেন তিনি। তিনি বলেন, আগেও তাদের জলসীমায় তাদের বাহিনীর জাহাজ ছিল। এখনও আছে। ওটা তাদের বিষয়। আমাদের জলসীমায়ও আমাদের নৌবাহিনীর জাহাজ ছাড়া কোস্ট গার্ডের একটি জাহাজ রয়েছে।

এক প্রশ্নের উত্তরে কোস্ট গার্ডপ্রধান বলেন, কোস্ট গার্ড তাদের নির্ধারিত এলাকায় দেশের কল্যাণে সর্বোচ্চ ত্যাগ করে দায়িত্ব পালনে প্রস্তুত রয়েছে, থাকবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ বিভাগের আরো সংবাদ

আবহাওয়া