মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০২৪, ১০:৩৩ অপরাহ্ন

মহিপুরে খানাখন্দে বেহাল দশা সড়ক, বেকায়দায় এলাকাবাসী

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ১৫ জুন, ২০২৩
মহিপুরে খানাখন্দে বেহাল দশা সড়ক, বেকায়দায় এলাকাবাসী

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

পটুয়াখালীর মহিপুরে ধুলাসার ও ডালবুগঞ্জ ইউনিয়নের মধ্যস্থ দীর্ঘ ১৩ কিলোমিটার সড়কে অর্ধশত বছর ধরে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। কাঁদামাটির সড়ক বর্ষা মৌসুমে যান চলাচলসহ যাতায়াতের অনুপযোগী হয়ে পড়ে এবং শুকনো মৌসুমে সড়কে সৃষ্ট গর্ত ও খানাখন্দের বেহাল দশায় চরম বেকায়দায় এলাকাবাসী।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার ধুলাসার, ডালবুগঞ্জ এই দুই ইউনিয়নের মধ্যস্থ সংযোগস্থল অনন্তপাড়া গ্রামের খাপড়াভাঙ্গা ব্রিজ হতে মহিপুর সদর থানা পর্যন্ত দীর্ঘ ১৩ কিলোমিটার কাঁচা সড়ক। ওই সড়কটি কাঁচা থাকায় জনদুর্ভোগ চরমে। ওই সড়ক দিয়ে বর্তমান বর্ষা মৌসুমে প্রতিনিয়ত হাজারো মানুষ কাঁদার মধ্যে যাতায়াত করে থাকেন। এ মৌসুমে সড়কে যান চলাচলের কোনো সুযোগই নেই। এ অবস্থায় পায়ে হেঁটে চলাটাও খুব কষ্টের। সড়ক দিয়ে ইউনিয়নের সুরডুগী, তারিকাটা, মনসাতলী, সেরাজপুর এবং উপজেলা সদর থেকে বিভিন্ন গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দারা যাতায়াত করে থাকেন। বিকল্প কোনো রাস্তা না থাকায় এলাকাবাসী বাধ্য হয়েই কাঁদা-পানি মাড়িয়ে প্রতিনিয়ত চলাচল করছে। এযেনো মরার উপরে খরার গা!

বিশেষ করে এই সড়ক ধরে মহিপুর থানা, কুয়াকাটা সরকারি হাসপাতাল, কলাপাড়া উপজেলা সদরসহ উপজেলার সকল কার্যক্রমে একমাত্র রাস্তাটি ব্যবহার করতে হয় বলে এক প্রকার বাধ্য তারা।

এছাড়াও অফিস আদালত থেকে শুরু করে সরকারি বাংক, জরুরি সেবা ফায়ার সার্ভিসসহ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সুফল থেকে বঞ্চিত অত্র দুই ইউনিয়নের বাসিন্দাদের এই বর্ষা মৌসুম নাগাদ। একান্ত প্রয়োজন ব্যতীত কেউই এই সময়ে কোথাও যেতে পারে না। এবং ভোগান্তিতে গ্রামীণ হাটবাজারের ব্যবসায়ীরাও। যেমন সড়কে কাঁদা থাকায় সাপ্তাহিক বাজার সহ দোকানপাটে আসছেনা কেউ। এতে একদিকে বেচা বিক্রি নেই, অন্যদিকে গ্রামীন ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের বেকায়দা যেন শেষ হয়না কয়েক যুগে! ডালবুগঞ্জের সুরডুগী গ্রামের হাচিনা বেগম জানান, আমি ফ্যামিলী প্লানের ডাক্তারি পেশায় কর্মরত রয়েছি। এখানে দুই ইউনিয়নে এমবিবিএস ডাক্তার ও সরকারি হাসপাতাল কাছাকাছি না থাকায় এই এলাকার কোন মায়ের বাচ্চা প্রসবের জন্য অসুস্থ হলে আমাকে যেতে হয়। কিন্তু রাস্তা কাঁচা থাকায় অনেক সময় যেতে পারি না। এতে ঘটে দুর্ঘটনা। তাই দ্রুত এই রাস্তাটি পাকা করা একান্ত প্রয়োজন।

দুই ইউনিয়নের অনেক বাসিন্দা বলছেন, সড়কটি পাকা হলে একদিকে যেমন বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও স্থানীয় মানুষের যাতায়াতের ভোগান্তি কমবে, অন্যদিকে মুমূর্ষু রোগী বহনে আর বেগ পেতে হবে না। সড়কের উন্নয়নে শ্রমজীবী মানুষেরা সহজেই জীবিকা নির্বাহ করতে পারবেন। এলাকাবাসী দ্রুত সময়ের মধ্যে কর্তৃপক্ষের কাছে সড়কটি পাকাকরণের দাবি জানান।

তারা আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা সড়কে যানচলাচল সহ যাতায়াতের ভোগান্তি লাঘবের প্রতিশ্রুতি দিয়েই যাচ্ছেন। কিন্তু স্বাধীনতার ৫২ বছর অতিক্রম হলেও উন্নয়নের ছোয়া লাগেনি এই ১৩ কিলোমিটার সড়কের। যেখানে সামান্য বৃষ্টির পানিতেই সড়কে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এখন প্রতিনিয়তই বর্ষায় মানুষের দুর্ভোগ দৃশ্যমান।

ভুক্তভোগী ওষুধ বিক্রেতা হাসান বলেন, কয়েক হাজার মানুষের যাতায়াতের একটি মাত্র সড়ক এটি। বর্ষার মৌসুমে এই রাস্তা খানাখন্দের সৃষ্টি হয়। আর শুষ্ক মৌসুমে চলা যায় না ধুলোবালিতে, অনেক সময় মাটি পিছলে বয়স্ক মানুষ পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হন। এসব দেখার যেন কেউ নেই।

চাপলি বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মশিউর রহমান বলেন, শুক্রবার এই বাজারে হাঁট বসে, এখানে বৌলতলী, নয়াকাটা, তারিকাট্ সুরডুগী, খাপড়াভাঙ্গা সহ কয়েকটি ইউনিয়নের গ্রাম থেকে হাজার হাজার মানুষ আসেন এই বাজারে ক্রয়-বিক্রয়ের জন্য। যেসকল মানুষ সাপ্তাহিক হাট করতে বাজারে আসেন কিন্তু বৃষ্টি হলে সিংহভাগ মানুষ বাসা বাড়িতে থেকে যায়। চলাচলের একমাত্র সড়কটি পাঁকা করণ এখন সময়ের দাবি।

পটুয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য (অধ্যক্ষ) মো. মহিব্বুর রহমান মহিব বলেন, সরকারের কোটি কোটি টাকার উন্নয়ন হলেও এই কাঁদামাখা রাস্তার জন্য কোন কাজে আসছে না। ইতোমধ্যে উপজেলার বেশ কয়েকটি রাস্তার জন্য কাগজপত্র সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠিয়েছি। আশা করছি খুব দ্রুত এই সড়কগুলোতে মানুষ ও যান চলাচলের উপযোগী হবে।

এ ব্যাপারে কলাপাড়া স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিডি) অফিস বলছেন, স্থানীয় এমপি মহোদয় অনেক গুলো রাস্তার জন্য চাহিদা দিয়েছেন। দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবর প্রস্তাবনা আকারে পাঠানো হবে। তবে ভেড়ীবাঁধ সড়কে কাজ করা আমাদের এলজিইডির জন্য কঠিন। পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতায় থাকায় তাদের সাথে সমন্বয় করে কাজ করা যাচ্ছে না। তবে সাধারণ মানুষের যাতায়াতের ভোগান্তি লাঘবে আমরা সমন্বয় করে কাজ করবো। এ ব্যাপারে পাউবোর সাথে আমরা কথা বলবো।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ বিভাগের আরো সংবাদ

আবহাওয়া