মঙ্গলবার, ১৬ অগাস্ট ২০২২, ০৬:৪৩ অপরাহ্ন

ভবিষ্যতে পিছা মার্কা আনমু- নৌকা মার্কা আনমু না

মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি
আপডেট : সোমবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০২১
ভবিষ্যতে পিছা মার্কা আনমু- নৌকা মার্কা আনমু না
পরাজিত প্রার্থী দ্বীন ইসলাম

‘ভবিষ্যতে পিছা মার্কা আনমু, নৌকা মার্কা আনমু না’- গত রোবববার (২৮ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আনারস প্রতীকের চেয়ারম্যানের কাছে হেরে এমন মন্তব্য করেন মুন্সীগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী উপজেলার আড়িয়ল ইউপি নির্বাচনে নৌকা মনোনীত প্রার্থী দ্বীন ইসলাম শেখ। এর আগেও একই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান থাকাকালে দুর্নীতির দায়ে তাকে বরখাস্ত করা হয়।

এদিকে, সোস্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়- দিন ইসলাম শেখ কয়েকজন কর্মীসমর্থকদের উদ্দেশ্যে বলছেন, ‘আগামীতে মনোনয়ন লাগবে না, ভোটও চাওয়া লাগবে না। এমনিতে পাশ করবো ইনশাআল্লাহ। প্রয়োজনে পিছা মার্কা আনুম, নৌকা মার্কার মধ্যে আর নাই। নৌকা মার্কা না আনলে পাশ করবো নিশ্চিত।’

দ্বীন ইসলাম শেখ তার বক্তব্যে আরও বলেন, ‘ভোট যা হইছে বাদ, আজকা থেকে পিছনে কী হইছে সেটা দেখবো না। আমি আশাবাদী মানুষ, আমি খালি সামনে দেখি। সামনে দেখবো, এগিয়ে যাবো। আজকে আমরা, চেয়ারম্যান হাইরা গিয়া মন খারাপ করছে অনেকে। ভাগ্য থাকলে তো আগামীবার উপজেলাও করতে পারি, কী বলেন? চেয়ারম্যানি নিয়া চিন্তা করার কিছু নাই। চাইলে আল্লারে পাওয়া যায়। এটা তো চেয়ারম্যানিওই। কী বলেন? এবারও পারতাম, দুই-চারটা মরতো হয়তো। এই জন্য করি নাই। আগামীতে মনোনয়নও লাগবে না, ভোটও আপনাগো চাওয়া লাগবে না, এমনি আমরা পাস করুম ইনশাল্লাহ।’

এ বিষয়ে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে বিষয়টি স্বীকার করে দ্বীন ইসলাম শেখ বলেন, আমাদের ইউনিয়ন থেকে ১০ জন নৌকা চাইছিলাম, আমি নৌকা পাওয়ার পর বাকি নয়জনই আমার বিপক্ষে কাজ করেছেন। একজন বিদ্রোহী প্রার্থী ছিলেন। সবাই মিলে আমাকে অনেকটা ঘরবন্দি করে রাখছিলো, আমার ভাগ্নেকে মারধর করা হয়েছিল। স্থানীয় নেতাকর্মী, উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী, কেউ আমাকে সহযোগিতা করেনি।

প্রশাসন থেকেও অসহযোগিতা করা হয়েছে। নৌকার বিপক্ষে কাজ করা নেতাকর্মীদের বিষয়ে জেলার নেতাদের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছিলাম। মনের কষ্টে তাই বলেছি কথাগুলো।

স্থানীয়রা জনান, ভোটের আগে প্রতিপক্ষের শান্তিপূর্ণ প্রস্তুতি সভার উপর হামলা চালিয়ে বেশ কয়েকজনকে আহত করেছিল পরাজিত দ্বীন ইসলামের অনুসারীরা। এ নিয়ে মামলাও হয়েছে।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কবির হালদার বলেন, নির্বাচনে পাস ফেল থাকবে, তবে তার এ বক্তব্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য না। দলকে অবমাননা করা হয়েছে। এ বিষয়ে সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হাফিজ আল আসাদ বারেক বলেন, অনেক নেতাকর্মী আমার কাছে ভিডিওটি পাঠাচ্ছে। নৌকা প্রতীক নিয়ে এমন কথা বলা আমাদের জন্য অত্যন্ত কষ্টদায়ক। তিনি আমাদের দলীয় প্রতীক নিয়ে কটূক্তি করেছেন। আমি আশা করি, উনি এ বক্তব্যের জন্য ক্ষমা চাইবেন। এ বিষয়ে নেতাদের থেকে যে সিদ্ধান্ত আসবে সে অনুযায়ী সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ বিভাগের আরো সংবাদ

আবহাওয়া

%d bloggers like this:
%d bloggers like this: