বৃহস্পতিবার, ০৪ মার্চ ২০২১, ০৯:১৪ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
৯৯৯-এ কল করবেন যেসব বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচ টি ইমামের অবস্থা সংকটাপন্ন ব্যয়বহুল মহাসড়কগুলো টেকসই হচ্ছে না যে কারণে…. আদমদীঘিতে খাল খননে অনিয়ম দুর্নীতি ৫৬.৯৪% গড় অগ্রগতি মেট্রো রেল প্রকল্পে রেলে ১২ হাজার লোক নিয়োগে শিগগিরই বিজ্ঞপ্তি বেলুনের মধ্যে ঢুকে চকলেট সাজে প্রিয়াঙ্কা ড্যাশ-৮ এর ‘আকাশ তরী’এখন ঢাকায় সব খাতে উন্নয়ন সম্ভব হচ্ছে দীর্ঘদিন সরকারে থাকায় সবার জন্য ঘর এবং বিদ্যুত মুজিববর্ষের মধ্যেই পানি নেই নদ-নদীর বুকে! ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে টোল ১ জুলাই থেকে এমপি পাপুলের লক্ষ্মীপুর-২ আসন শূন্য ঘোষণা ৬ ঘণ্টায় ১২ লাখ লাইক সানির যে ছবিতে বলিউড তারকারা প্রিয়াঙ্কাকে ভালো চোখে দেখতেন না! বিএনপি জামায়াত রেল ব্যবস্থাপনাকে ধ্বংস করে দিয়েছে ৪৪ কেজির বাঘাইড় মাছের দাম ৬০ হাজার টাকা! আরেক নবাবের আগমন পতৌদি পরিবারে চলন্ত অবস্থায় ভেঙে পড়ল বিমানের জলন্ত ইঞ্জিন ভাষা শহীদদের স্মরণে লাখো মোমবাতি প্রজ্জ্বলন

বৈদ্যুতিক রেলপথ নির্মাণ প্রস্তাব নিয়ে আইএম পাওয়ার

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট : মঙ্গলবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২১
বৈদ্যুতিক রেলপথ নির্মাণ প্রস্তাব নিয়ে আইএম পাওয়ার
ফাইল ছবি

বাংলাদেশে ১২ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ প্রকল্প নিয়ে আসছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক কোম্পানি আইএম পাওয়ার। ১০ বিদেশী প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় তিন ধাপে ১২ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের এ প্রস্তাব বাস্তবায়নে আগ্রহী আইএম পাওয়ার। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, দ্রুতই প্রস্তাব পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে প্রকল্পের কাজ শুরু করা সম্ভব হবে। যা নিয়ে আলোচনায় আগামী মার্চ মাসে আবারো ঢাকা সফর করবে আইএম প্রতিনিধিরা।

দেশের সব জেলাকে রেল নেটওয়ার্কের আওতায় আনার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। রেলের নতুন কোনো প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে ১৬০ কিলোমিটার বা দ্রুতগতির বৈদ্যুতিক রেলপথ নির্মাণে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা রয়েছে। এমন প্রেক্ষাপট বিবেচনায় বৈদ্যুতিক রেলপথ অবকাঠামো নির্মাণে গত বছর বিনিয়োগ প্রকল্প প্রস্তাব দিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক আইএম পাওয়ার।

জানা গেছে, ২০১৯ সালের শেষার্ধে বাংলাদেশে ‘ইন্টিগ্রেটেড রেল অ্যান্ড এনার্জি প্রজেক্ট’ শীর্ষক প্রকল্প প্রস্তাব দেয় যুক্তরাজ্যের বিদ্যুৎ ও অবকাঠামো খাতের প্রতিষ্ঠান আইএম পাওয়ার পিএলসি। বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে (বিডা) দেয়া ওই প্রস্তাবে প্রথম ধাপে কনটেইনার পরিবহন ও অন্যান্য মালপত্র পরিবহনে পায়রা বন্দর থেকে ভাঙ্গা হয়ে ঢাকা পর্যন্ত ডাবল ট্র্যাক বৈদ্যুতিক রেললাইন নির্মাণের আগ্রহ প্রকাশ করে যুক্তরাজ্য, এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকায় কার্যক্রম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান আইএম পাওয়ার। বৈদ্যুতিক রেললাইন পরিচালনায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য এলএনজিনির্ভর বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনেরও প্রস্তাব দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

চার বছর মেয়দি প্রথম ধাপটি সম্পন্নে ৫ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার অর্থায়নের প্রয়োজন হবে বলে জানিয়ে প্রস্তাবে আইএম পাওয়ার বলেছে, প্রকল্পের দ্বিতীয় ধাপে নির্মাণ হবে নতুন পদ্মা সেতু থেকে ঢাকা এবং ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম হয়ে মাতারবাড়ী বন্দর পর্যন্ত উচ্চগতির প্যাসেঞ্জার রেল।

দ্বিতীয় ধাপে অর্থায়ন প্রয়োজন হবে ৬ বিলিয়ন ডলার। আর প্রকল্পের তৃতীয় ধাপে চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত প্যাসেঞ্জার রেলের সম্প্রসারণ। তৃতীয় ধাপ সম্পন্নে ব্যয় ধরা হয়েছে ২১ কোটি ৪০ লাখ ডলার। এছাড়া রেলওয়ে ট্র্যাক বরাবর বিদ্যুৎ সরবরাহ লাইন স্থাপনের প্রস্তাব দিয়েছে আইএম। সব মিলিয়ে ১১ দশমিক ৭ বা প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ প্রস্তাব দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

প্রস্তাবে একটি কন্ট্রাক্ট গ্রুপ বা কনসোর্টিয়ামের মাধ্যমে বাংলাদেশে পিপিপি বা সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে প্রকল্প বাস্তবায়নের আভাস দিয়েছে আইএম পাওয়ার। কন্ট্রাক্ট গ্রুপে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে আছে রেলপথ প্রকৌশল প্রতিষ্ঠান অ্যাডভিসিয়ান, টেনব্রোয়েকে, ব্রিটিশ স্টিল, সিমেন্স, ডব্লিউএইচ ডেভিস, গ্রিন এনার্জি গ্রুপ, উড পিএলসি, লিবার্টি স্টিল ও এইচআর ওয়েলিংফোর্ড।

ডিজাইন-বিল্ড-অপারেট অ্যান্ড মেইনটেইন পদ্ধতিতে সরকারের কাছ থেকে ৫০ বছর মেয়াদে (কনসেশন পিরিয়ড) প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রস্তাব দিয়েছে আইএম। সহযোগী অংশীদারদের মাধ্যমে চুক্তিকারী গ্রুপ থেকে ইকুইটি ও ডেটসহ এ প্রকল্পে অর্থায়ন করা হবে বলে পরিকল্পনায় বলেছে আইএম।

আইএম পাওয়ার-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের ব্যবসায় নিয়োজিত আইএম মূলত রেল বিদ্যুতায়নের সমন্বয় করে। বাংলাদেশে এ কাজগুলো করতে আইএম করতে চাইছে কনটেইনার পরিবহনের জন্য। দ্বিতীয় ধাপের পরিকল্পনায় আছে উচ্চগতির প্যাসেঞ্জার পরিবহনে। প্রস্তাবটি বিডা ও রেল মন্ত্রণালয় সাদরে গ্রহণ করেছে। কভিড-১৯ বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যসহ গোটা বিশ্বের জীবনে প্রভাব ফেললেও এ সমস্যাও দ্রুত কাটিয়ে ওঠা যাবে বলে আশা করছেন আইএম প্রতিনিধিরা। তারা বলছেন, যদিও এরই মধ্যে গোটা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও বিনিয়োগ পরিবেশে বিরূপ প্রভাব ফেলেছে। কিন্তু দ্রুতই এ পরিস্থিতি পরিবর্তন হবে বলে আত্মবিশ্বাস রয়েছে তাদের।

বাংলাদেশে বিনিয়োগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আপাতত শুধু রেল বিদ্যুতায়নের কাজে আগ্রহ থাকলেও বাংলাদেশে বিনিয়োগের নতুন নতুন সম্ভাবনা কাজে লাগাতে আগ্রহ আছে বলে জানান আইএম পাওয়ারের চেয়ারম্যান গর্ডন জে ডিকি। তিনি বলেন, আমাদের উদ্যোগটির একটি সফল সমাপ্তির দেখা পাওয়া যাবে বলে আমরা আশাবাদী। আগামী মার্চে আমরা আবারো বাংলাদেশ সফরে আসব। তখন প্রকল্পটি বাস্তবায়ন শুরুর বিষয়ে আলোচনা হবে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে। বর্তমানে রেল মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনায় যুক্ত আছি আমরা। আশা করছি দুই-তিন সপ্তাহের মধ্যে তাদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন হবে।

জানা গেছে, ২০১৯ সালের নভেম্বরে বিডায় প্রকল্পের প্রাথমিক প্রস্তাব দেয় আইএম পাওয়ার। বিডার মাধ্যমে রেলওয়ে মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাবটি পাঠানো হলে তারা প্রকল্পের সম্ভাব্যতা পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করে। প্রাথমিক প্রস্তাবটি যাচাই-বাছাইয়ে নিজস্ব মতামতও জানিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। তাদের মতামতের ভিত্তিতে সর্বশেষ গত জানুয়ারিতে রেলওয়েকে প্রস্তাবের আরো কিছু বিস্তারিত বিষয় উপস্থাপন করেছে রেলওয়ে। এদিকে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশ হাইকমিশন থেকেও তাগিদ জানানো হয়েছে বিডা ও বাংলাদেশ রেলওয়েকে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আরো পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন আছে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের আগে।

বাংলাদেশ রেলওয়ে সূত্র জানিয়েছে, আইএম পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডের প্রস্তাবটি এরই মধ্যে কিছু প্রাথমিক মতামত উপস্থাপন করা হয়েছে সংশ্লিষ্ট সবাইকে। সেখানে আরো বিস্তারিত তথ্যানুসন্ধানের দিকনির্দেশনাও আছে। রেলওয়ে নিয়ে সরকারের গ্রহণ করা প্রকল্পের সঙ্গে প্রস্তাবটির কোনো দ্বৈধতা আছে কিনা তা সুস্পষ্ট করার প্রয়োজন আছে বলে মনে করছে রেলওয়ে। পিপিপি মডেলের প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কথা বলা হলেও তা আরো যথাযথ করার প্রয়োজন আছে বলেও মনে করছে সংস্থাটি।

বৈদ্যুতিক রেললাইন নির্মাণের বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটি সক্ষমতা যাচাইয়ের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণারও তাগিদ জানিয়েছে রেলওয়ে। রেলপথটিতে প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ এবং তার দামের সম্পর্কেও স্বচ্ছ প্রক্ষেপণ প্রয়োজন। বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র ও রেলওয়ে একটি মাত্র কোম্পানির (কনসোর্টিয়াম) কর্তৃত্বে চলে যাওয়ার সম্ভাবনাও আইএম পাওয়ারের প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে রয়েছে বলে মনে করছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। এ পরিস্থিতির বিষয়ে সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ সাপেক্ষে পরবর্তী কার্যক্রম হাতে নেয়া অপরিহার্য বলে মনে করছে সংস্থাটি।

জানতে চাইলে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সেলিম রেজা বলেন, প্রকল্পটি হবে পিপিপি মডেলে। তাই পিপিপি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে প্রকল্প নিয়ে সভা করেছি। এটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা পর্যায়ে আছে। বিনিয়োগ আসতে হলে একটা না একটা মাধ্যমে আসতে হবে। এ ধরনের বিনিয়োগ আমাদের দেশে পিপিপি মডেলেই হয়। আমরা বিনিয়োগ চাচ্ছি, কিন্তু এটা যাচাই-বাছাই করে দেখতে হবে।

এদিকে বিডা বলছে, বিদেশী বিনিয়োগের প্রস্তাবটি নিয়ে আমরা কাজ করছি। নিয়ন্ত্রিত খাত বলে প্রস্তাবটি বাস্তবায়নে পিপিপিতেই যেতে হবে। একেবারেই প্রাথমিক অবস্থায় আছে আলোচনাটি। আমরা প্রস্তাবটি পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য রেল মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি। গত মাসে রেল সচিব একটা উপস্থাপনা নিয়েছে বিডার কাছ থেকে। তারা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে। বাংলাদেশ রেলওয়ে যদি প্রকল্পটি নিয়ে ইতিবাচক হয়, বাংলাদেশে বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রে তা অবশ্যই ইতিবাচক। এ-সংক্রান্ত বিস্তারিত যাচাই-বাছাইয়ের প্রয়োজন হলে সে কাজগুলোও দ্রুতই সম্পন্ন করা উচিত বলে জানিয়েছেন তারা।

বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, এ ধরনের প্রকল্পগুলো যাচাই-বাছাইয়ে অনেক তথ্য প্রয়োজন হয়। বিনিয়োগ প্রস্তাবটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা পর্যায়ে আছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষাগুলো যত দ্রুত করা যায় ততই ভালো। দেশে বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রে প্রকল্পটি বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারবে বলে আমরা মনে করছি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ বিভাগের আরো সংবাদ

আবহাওয়া

%d bloggers like this:
%d bloggers like this: