বুধবার, ২৪ জুলাই ২০২৪, ০৫:১৯ পূর্বাহ্ন

বিশ্বের সবচেয়ে বড় অফিস এখন ভারতে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আপডেট : রবিবার, ১৭ ডিসেম্বর, ২০২৩
বিশ্বের সবচেয়ে বড় অফিস এখন ভারতে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : 

এতদিন বিশ্বের সবচেয়ে বড় অফিস ভবন ছিল মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সদরদপ্তর পেন্টাগন। ১৯৪৩ সাল থেকে এই গৌরব ধরে রেখেছিল যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু এবার সেটি হাতছাড়া হচ্ছে। বিশ্বের সবচেয়ে বড় অফিস ভবন চালু হতে যাচ্ছে ভারতে।

গুজরাটের সুরাটে তৈরি হয়েছে সুবিশাল এই অফিস ভবন। এটি তৈরি করতে জমি লেগেছে ৩৫ দশমিক ৫৪ একর, ব্যয় হয়েছে ৩৪ হাজার কোটি রুপি। আজ রবিবার ভবনটি উদ্বোধন করবেন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কী কাজ হবে এই ভবনেÍসেটি তার নামকরণ থেকেই স্পষ্ট। নতুন করপোরেট ভবনটির নাম রাখা হয়েছে ‘সুরাট ডায়মন্ড বার্স’। দেশ-বিদেশের হীরার ব্যবসা হবে এই ভবন থেকে। ভবনটি চালু হলে খুলে যাবে কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত।

উদ্যোক্তাদের দাবি, অন্তত দেড় লাখ মানুষ কাজ পাবেন সুরাট ডায়মন্ড বার্সে। বিশ্বের ১৭৫টি দেশের প্রায় ৪ হাজার ২০০ ব্যবসায়ী একসঙ্গে হীরা কেনাবেচা করতে পারবেন সেখানে। গত জুলাই মাসে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্সে সুরাট ডায়মন্ড বার্সের একটি ভিডিও শেয়ার করেছিলেন নরেন্দ্র মোদি। সেই পোস্টেই উল্লেখ করা ছিল, পেন্টাগনের থেকেও বড় অফিস ভবন চালু হচ্ছে ভারতে।

রোববার (১৭ ডিসেম্বর) ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী গুজরাটের সুরাটে নবনির্মিত এসডিবি কমপ্লেক্সের উদ্বোধন করবেন। এ এসডিবির চেয়ারম্যান সুরাটের বৃহত্তম হীরা সংস্থা কিরণ জেমসের মালিক বল্লভভাই লাখানি।

ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী লিখেছিলেন, সুরাট ডায়মন্ড বার্স সুরাটের হীরা শিল্পের গতিশীলতা ও প্রবৃদ্ধি তুলে ধরে। এটি বাণিজ্য, উদ্ভাবন ও সহযোগিতার কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে, ভারতের অর্থনীতিকে আরো চাঙ্গা করবে এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে।

এ ব্যাপারে এসডিবি সভাপতি নাগজিভাই সাকারিয়া গণমাধ্যমকে জানান, বর্তমানে, ১৩৫টি অফিস আছে। আমরা আশাবাদী যে উদ্বোধনের পরে অন্যরাও তাদের অফিসগুলো এখানে খুলবে। আগামী বছরের মাঝামাঝি নতুন অফিসগুলো খোলা শুরু হবে। এখন পর্যন্ত মুম্বাই হীরার সবচেয়ে বড় ব্যবসার কেন্দ্রস্থল ছিল। তবে এ নতুন কমপ্লেক্সের উদ্বোধনের সঙ্গে সঙ্গে সুরাট হীরা এবং গয়নার সবচেয়ে বড় বাণিজ্যকেন্দ্র হয়ে উঠবে।

সুরাট ডায়মন্ড বোর্স (এসডিবি) হীরার ব্যবসাকে মুম্বাই থেকে সুরাটে প্রসারিত এবং স্থানান্তরিত করার পরিকল্পনা করেছে। হীরা শিল্পের সংগঠন সূত্রে বলছে, মুম্বাইয়ে বড় অফিস করতে জায়গা কম। অফিস পাওয়াও বিরাট সমস্যা। জমিজমার দাম বেশ বেশি। এছাড়াও, মুম্বাইয়ে ব্যবসা করা হীরার একটি বড় অংশ সুরাটে তৈরি হয়। যাতায়াত সময় থেকে শুরু করে নানা সুবিধা বিবেচনায় তাই সুরাটকেই বেছে নেওয়া হয়েছে হীরা ব্যবসার কেন্দ্রস্থল হিসেবে।

মরফোজেনেসিসের নথি অনুসারে, এটি বিশ্বের বৃহত্তম অফিস। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পেন্টাগনের চেয়েও বড়। এখানে নয়টি টাওয়ার আছে। প্রতিটিতে ১৫টির মতো আলাদা আলাদা ফ্লোর আছে। হীরা সম্পর্কিত যাবতীয় কাজ যেমন- পালিশ, কেনা, বিক্রি, নকশা তৈরি, নকশা অনুযায়ী বানানো, সব করা যাবে এক ছাদের নিচেই। এছাড়াও, আন্তর্জাতিক এবং জাতীয় ক্রেতাদের জন্য হীরার গয়নার ২৭টি খুচরা দোকান থাকবে এখানে।

শুধু তাই নয়, নিরাপত্তা বজায় রাখতে এসডিবির ভিতরে এবং বাইরে বিভিন্ন জায়গায় ৪ হাজারের বেশি সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। রয়েছে কর্মীদের বাযয়োমেট্রিক হাজিরার ব্যবস্থা। এটি ছাড়া এখানে কোনো কর্মীই প্রবেশ করতে পারবে না।

বিশ্বের বৃহত্তম এই অফিস কমপ্লেক্সটির নির্মাণ কাজ শুরু হয় ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে। প্রকল্পের মোট ব্যয় ৩ হাজার ২০০ কোটি টাকা। থিম্যাটিক ল্যান্ডস্কেপিং ‘পঞ্চতত্ত্ব’ থিমের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হযয়েছে এসডিবি। যার থিমের মধ্যে রযয়েছে প্রকৃতির পাঁচটি উপাদান (পানি, বাতাস, আগুন, পৃথিবী এবং আকাশ)।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ বিভাগের আরো সংবাদ

আবহাওয়া