শুক্রবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৩:২৫ অপরাহ্ন

পদ্মা সেতুর জাজিরা প্রান্তের প্রি-কাস্ট কংক্রিটিং কাজ প্রায় শেষ

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট : বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২০
পদ্মা সেতুর জাজিরা প্রান্তের প্রি-কাস্ট কংক্রিটিং কাজ প্রায় শেষ
পদ্মা সেতুর জাজিরা প্রান্ত

এগিয়ে চলেছে স্বপ্নের পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ। বন্যায় নদীর পানির বাড়ায় এবং করোনা পরিস্থিতিতে কাজের গতি কিছুটা কমেছিল। আবার তা বাড়ছে। ইতোমধ্যে পদ্মা সেতুর জাজিরা প্রান্তের ভায়াডাক্ট এর সুপার টি-গার্ডার প্রি-কাস্ট কংক্রিটিং কাজ শেষ হয়েছে।

অর্থাৎ জাজিরা প্রান্তের জন্য প্রয়োজনীয় ২৩৪টি সুপার টি-গার্ডার, ৪২টি আই গার্ডার ও ১২০৯টি রোডওয়ে স্ল্যাবের সবগুলোরই কংক্রিটিং কাজ শেষ। এমনটিই জানিয়েছেন পদ্মা সেতু প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী দেওয়ান মো. আব্দুল কাদের।

এদিকে, জাজিরা প্রান্তের ২০টি স্প্যানের সকল স্প্যান স্থাপনসহ ৯টি স্প্যানে রোডওয়ে স্ল্যাব এবং ১৪টি স্প্যানে রেলওয়ে স্ল্যাব স্থাপন সম্পন্ন হয়েছে। সহজ কথায় বলতে গেলে জাজিরা প্রান্তের স্ট্রাকচারাল কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে (শুধুমাত্র ভায়াডাক্ট ডেক স্ল্যাব এবং প্যারাপেট ছাড়া)।

চলিত বছরের ৩১ জুলাই পর্যন্ত মূল সেতুর অগ্রগতি-৮৯.২৫%, নদী-শাসন কাজের অগ্রগতি- ৭৪.০০% এবং সার্বিক অগ্রগতি-৮১.০০% হয়েছে।

আরও পড়ুন : নাব্যতার স্বার্থে নদীর ৫ কি.মি’র মধ্যে কোন সেতু নয়

সেতুর মোট ২৯১৭টি রোডওয়ে স্ল্যাবের মধ্যে ৮৭০টি, ২৯৫৯ রেল স্ল্যাব এর মধ্যে ১৪০০টি এবং ৪৩৮টি ভায়াডাক্ট গার্ডার এর মধ্যে ১৯৫টি স্থাপন করা হয়েছে। মূল সেতুর ৪১টি স্প্যানের মধ্যে ৩১টি স্থাপন করা হয়েছে। অবশিষ্ট ১০টি স্প্যান মাওয়া কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ডে রয়েছে।

যার মধ্যে ৭টি তৈরি সম্পন্ন হয়েছে এবং বাকি ৩টির কাজ চলমান রয়েছে।

পানি কমতে শুরু করলে আগামী সেপ্টেম্বর ১৫ তারিখের পর স্প্যান স্থাপন করা শুরু হতে পারে। ডিসেম্বরের মধ্যে সব স্প্যান স্থাপন সম্ভব হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

উল্লেখ্য, ৩১ জুলাই ২০২০ তারিখে দুপুর ২ টার সময় মাওয়া কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ডে আকস্মিক ভাঙন আঘাত হানে, ভাঙন এর তীব্রতা রাত ১টা পর্যন্ত চলে। ভাঙনের কারণে ১৯২টি রেলওয়ে স্টিল স্ট্রিন্জার (৪টি একত্রে ৪৮ সেট) এবং ১২৬টি (পরবর্তীতে অতিরিক্ত ১টিসহ) রোডওয়ে স্ল্যাব নদীতে পতিত হয়।

পরবর্তীতে উক্ত এলাকা হতে যাবতীয় মালামাল ইতিমধ্যে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তার কয়েকদিন আগেও সার্ভে করে সেখানে ভাঙনের কোনো লক্ষণ পাওয়া যায়নি।

নিয়োজিত ঠিকাদার আকস্মিক এ ভাংগণের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ১৯২টি রেলওয়ে স্ট্রিন্জার (গার্ডার) ইতিমধ্যে লুক্সেমবার্গ এ তৈরির জন্য অর্ডার দিয়েছে। স্ট্রিঙ্গার/ গার্ডার সমূহ তৈরিতে ৩ মাস ও শিপিংয়ে একমাস সময় লাগবে। তাছাড়াও যে সকল স্ট্রিঙ্গার নদীতে পড়েছে সেগুলো উদ্ধার কাজ পানি কমলেই শুরু করা হবে।

সময় যাতে অপচয় না হয় এ বিষয় মাথায় রেখেই ঠিকাদার পুরো ১৯২টি স্ট্রিন্জারই অর্ডার দিয়েছে। যে সকল স্ট্রিঙ্গার নদী থেকে পাওয়া যাবে সেগুলোও ব্যবহার উপযোগী থাকলে ব্যবহার করা হতে পারে।

তাছাড়াও ১২৬টি রোডওয়ে স্ল্যাব এর তৈরির কাজও ঠিকাদার হাতে নিয়েছে। ইতিমধ্যে ৫ টি স্ল্যাব তৈরির কাজও শেষ হয়েছে। আগামী ১ মাসের মধ্যে সব তৈরি করা সম্ভব হবে বলে জানানো হয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ বিভাগের আরো সংবাদ

আবহাওয়া

%d bloggers like this:
%d bloggers like this: