শনিবার, ১৩ জুলাই ২০২৪, ০৬:২৭ পূর্বাহ্ন

পদ্মা নদীতে ডুবে ৩ শিশুর মৃত্যু

পাবনা জেলা প্রতিনিধি
আপডেট : সোমবার, ২৪ জুন, ২০২৪
পদ্মা নদীতে ডুবে ৩ শিশুর মৃত্যু

পাবনা জেলা প্রতিনিধি : 

পাবনা সদর উপজেলায় পদ্মা নদীতে গোসলে নেমে দুই ভাইসহ তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।

সোমবার (২৪ জুন) দুপুর ১টার দিকে উপজেলার চরতারাপুর ইউনিয়নের ভাদুরিয়া ডাঙ্গী এলাকায় পদ্মা নদীতে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- চরতারাপুর ইউনিয়নের নতুন গোহাইবাড়ি এলাকার আলাল প্রামানিকের দুই ছেলে নতুন বাজার উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র ছাব্বির হোসেন (১৪) ও গোহাইল বাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র সিয়াম হোসেন (১০) এবং চরতারাপুর ইউনিয়নের আটঘরিয়াপাড়া গ্রামের ইসলাম সরদারের ছেলে কাঁচিপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী নূর হোসেন (১০)।

স্থানীয়রা জানান, দুপুর ১টার দিকে বাড়ির পাশের একটি আম গাছের সঙ্গে কয়েকজন আর্জেন্টিনার পতাকা টাঙাচ্ছিল। রোদের সময়ে পতাকা টাঙাতে নিষেধ করা হলে তখন তারা গাছ থেকে নেমে এসে বাড়ি থেকে গামছা নিয়ে নদীতে গোসল করতে যায়। স্থানীয়রা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে একজনকে জীবিত উদ্ধার করে। অপর তিনজনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। ছোট দুইজনকে বাঁচাতে গিয়ে বড় ভাই ছাব্বিরেরও মৃত্যু হয় বলে জানান তারা।

স্থানীয়রা আরও বলেন, উচু নিচু হয়ে থাকা বালুর স্তুপের ওপর দাড়াঁনোর সঙ্গে সঙ্গে বালু ধ্বসে পানিতে দ্রুত ডুবে যায়। এসময় সেখান থেকে উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে একই এলাকার তিনজনের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

নিহত দুই শিশুর বাবা আলাল প্রামানিক বলেন, আমি এখন কেমন করে বেঁচে থাকব। আমিতো একেবারে শেষ হয়ে গেলাম। দুই ছেলে একই সঙ্গে দুনিয়া ছেড়ে চলে গেল। একজন বাবার পক্ষে এমন মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নেওয়া সম্ভব নয়।

চরতারাপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৬ নং ওয়ার্ডের সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বাবু বলেন, কয়েকজন বন্ধু মিলে পদ্মা নদীতে গোসল করতে গিয়ে চারজন তলিয়ে যায়। একজনকে বাঁচানো গেলেও তিনজনকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। অল্প কয়েক মিনিটের ব্যবধানে একসঙ্গে তিনজনের মৃত্যুতে আমরা হতভম্ব হয়ে পড়ছি। পুরো গ্রাম এখন শোকে কাতর। এমন মৃত্যু আমরা মেনে নিতে পারছি না।

পাবনা সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রওশন আলী ঢাকা পোস্টকে বলেন, একসঙ্গে গোসলে নেমে তিনজনের মৃত্যুর বিষয়টি খুবই বেদনাদায়ক। এখন নদীতে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই সন্তানদের দেখে রাখার পরামর্শ দেন তিনি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ বিভাগের আরো সংবাদ

আবহাওয়া