বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০২৪, ০১:১৪ পূর্বাহ্ন

ন্যাড়া বেলতলায় একবারই যায়, বারবার নয় : ফখরুল

খুলনা জেলা প্রতিনিধি
আপডেট : সোমবার, ১৭ জুলাই, ২০২৩
ন্যাড়া বেলতলায় একবারই যায়, বারবার নয় : ফখরুল

খুলনা জেলা প্রতিনিধি : 

‘ন্যাড়া বেলতলায় একবারই যায়, বারবার নয়’ মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এ সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন হবে না। এদের অধীনে কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে না। সময় আছে পদত্যাগ করেন। নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিন। দফা এক, দাবি এক- শেখ হাসিনার পদত্যাগ।

সোমবার (১৭ জুলাই) বিকেলে খুলনায় তারুণ্যের সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপির তিন অঙ্গ সংগঠন যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদল এ সমাবেশের আয়োজন করে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমাদের এক দফা, এক দাবি, শেখ হাসিনার পদত্যাগ চাই। সরকারের পদত্যাগের মাধ্যমে নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া আমরা আর নির্বাচনে যাব না। তত্ত্বাবধায়ক সরকার না হলে রাজপথে ফয়সালা হবে। জনগণকে সুসংগঠিত করে আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারকে বিদায় করা হবে।

আওয়ামী লীগ রাজনৈতিকভাবে দেউলিয়া হয়ে গেছে মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, হিরো আলমকে ওরা সহ্য করতে পারে না। এই সরকারের সন্ত্রাসীরা তাকে বের করে দিয়েছে, শুধু তাই নয় তাকে হামলা করেছে। এই সরকার আবার বলে এদের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে। সব কিছু তামাশায় পরিণত করেছে এই আওয়ামী লীগ। সব কিছু নষ্ট করেছে।

আমরা এই বাংলাদেশ চাইনি এমন মন্তব্য করে তিনি বলেন, যারা দেশের স্বাধীনতার জন্য মুক্তিযুদ্ধে প্রাণ দিয়েছিলেন উনারা যদি বেঁচে থাকতেন, তাহলে বলতেন, এই দেশের জন্যে আমরা যুদ্ধ করিনি।

রাজনৈতিকভাবে দেউলিয়া হয়ে গেছে আওয়ামী লীগ। তারা হিরো আলমকে পর্যন্ত সহ্য করতে পারে না বলে মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, শেখ হাসিনা এবং তার সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন হবে না। নির্বাচনের জন্য নিরপেক্ষ সরকারের হাতে ক্ষমতা দিতে হবে। একই সঙ্গে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করতে হবে। কারণ, তারা আইন করে নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা কমিয়ে দিয়েছে।

আ.লীগ হিরো আলমকে পর্যন্ত সহ্য করতে পারছে না : মির্জা ফখরুল 

বিএনপি মহাসচিব বলেন, আজ একটা ছবি ভাইরাল হয়েছে। ঢাকা-১৭ আসনে নির্বাচন হচ্ছে। এ নির্বাচনে যিনি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হয়েছেন তিনি কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব নন। তাকে বাংলাদেশের মানুষ একটু ভিন্নভাবে চেনেন। তিনি হলেন হিরো আলম। প্রথমে তার প্রার্থিতা বাতিল করা হয়। আদালতের মাধ্যমে তিনি আবার প্রার্থিতা ফিরে পান।

তিনি বলেন, উনি একটা কেন্দ্রে গিয়েছিলেন আজ। সেই কেন্দ্রে আওয়ামী লীগের পাহারাদার সন্ত্রাসীরা তাকে তাড়িয়ে দিয়ে রাস্তায় ফেলে মারধর করেছে। আওয়ামী লীগ বাংলাদেশে তামাশা শুরু করেছে। তারা চিৎকার করে বলে, আমাদের হাতে গণতন্ত্র সবচেয়ে নিরাপদ। আমরা অতীতে সবচেয়ে ভালো নির্বাচন করেছি। আমরা বাংলাদেশকে উন্নতির দিকে নিয়ে যাচ্ছি। হিরো আলম তার নমুনা।

ফখরুল বলেন, দেশের জনগণ বর্তমান সময় একটা ভয়াবহ সংকটের মধ্যে দিয়ে পার করছে। এ সংকট থেকে উত্তরণই হচ্ছে আমাদের প্রধান চ্যালেঞ্জ। শুধুমাত্র ভোটের অধিকার নয়, দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষার অধিকার আদায় করতে হবে। সংকট থেকে বেরিয়ে আসার জন্য যে সংগ্রাম, যে আন্দোলন, যে যুদ্ধ সেই যুদ্ধ আমরা শুরু করেছি।

তিনি বলেন, আমি খুশি হতাম যদি এখানে আমাদের আন্দোলনে যারা হত্যার শিকার হয়েছেন, প্রাণ হারিয়েছেন তাদের ছবি দিয়ে ফেস্টুন, ব্যানার থাকতো। আমি শহীদদের গভীরভাবে শ্রদ্ধা করি। শ্রদ্ধা করি আমাদের কারান্তরীণ নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে। তিনি এদেশের গণতন্ত্রের জন্য সারা জীবন সংগ্রাম করছেন। এই আওয়ামী লীগের আজকে শুধু পোশাকটা পাল্টেছে, তারা আগের মতো একদলীয় শাসন ব্যবস্থা চালাচ্ছে। গুম, খুন করে সব অর্জন ভেস্তে দিয়েছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, আমি স্বজন হারানো মানুষের কথা আর আর্তনাদ শুনছিলাম, ভাবছিলাম কী জবাব দিব ওদের কাছে। আমরা কি এই জন্যে এই রাষ্ট্র তৈরি করেছিলাম?

বিএনপি মহাসচিব অভিযোগ করে বলেন, আওয়ামী লীগ আবারো পাঁয়তারা করছে একতরফা নির্বাচন করার জন্য। এজন্যে কিছু তোষামোদকারী সৃষ্টি করেছে এই আওয়ামী লীগ। এরা সেই সব ব্যবসায়ী, যারা সব মানুষের রক্ত শুষে নিয়েছে। এরা ব্যাংকগুলো খেয়ে ফেলেছে। সব টাকা পাচার করে দিয়েছে। আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের সমস্ত সম্পদ লুটে নিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশে এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় সংকটকাল উপস্থিত হয়েছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, এখন ৯০ টাকাতেও চাল পাওয়া যায় না। অথচ তারা বলেছিল ১০ টাকা সের চাল খাওয়াবে। সেদিকে এ সরকারের লক্ষ্য নেই। ওদের লক্ষ্য কিভাবে লুট করে পাচার করা যায়।

dhakapost

তিনি বলেন, কথা বলার এখন সময় নেই, এখন শুধু কাজ আর কাজ। যারা অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে আছে তাদেরকে বিতাড়িত করতে হবে। না হলে এ বাংলাদেশটাই থাকবে না।

এই সরকার দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ধ্বংস করে দিয়েছে মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, হায়রে অভাগার বাংলাদেশ! স্বাস্থ্যমন্ত্রী দেশের মানুষকে বিপদে ফেলে বিদেশে ভ্রমণে গেছে। এদের বাংলাদেশের মানুষের জন্য একটুও ভালোবাসা নেই।

তিনি বলেন, শুধু আমাদের দল থেকে নয়, ৩৬ দলের পক্ষ থেকে বলছি, এই অবৈধ সরকারের অধীনে আমরা কোনো নির্বাচনে যাব না। নির্বাচনকালীন সময়ে যদি নিরপেক্ষ সরকার না থাকে তাহলে এ দেশে কোনো নির্বাচন হবে না। নিরপেক্ষ সরকারের হাতে ক্ষমতা দিতে হবে। নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করতে হবে। আমাদের কাজ হচ্ছে সারা বাংলাদেশের মানুষকে সংগঠিত করে অবৈধভাবে জোর করে ক্ষমতায় বসে থাকা সরকারকে সরাতে হবে। এ সরকারকে না সরালে শুধু ভোট নয়, বাংলাদেশের অস্তিত্বই থাকবে না। অধিকার আদায়ের সংগ্রামে সকলকে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে।

ব্যবসায়ী নেতাদের নিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, গত কয়েক বছরে উচ্ছিষ্টভোগী তোষামোদকারী সৃষ্টি করেছে। তারমধ্যে আবার কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী নেতা। কয়েকদিন আগে এফবিসিসিআই’র একটি অনুষ্ঠান ছিল। সেখানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে এফবিসিসিআই’র প্রধান বললেন, আমরা শেখ হাসিনাকেই প্রধানমন্ত্রী দেখতে চাই। আরেকজন তিনি ঢাকা শহরকে গিলে ফেলেছেন। তিনি বললেন, এত কাজ জীবনে কেউ কোনো দিন করেনি উনি (প্রধানমন্ত্রী) যা করেছেন। এরা সেই সব ব্যবসায়ী যারা বাংলাদেশের মানুষের রক্ত চুষে নিয়েছে। আজকে সমস্ত রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে তারা তাদের অবৈধ বিত্ত তৈরি করছে।

এ তারুণ্যের সমাবেশ লাঞ্ছিত, নির্যাতন ও হত্যার শিকার হওয়া স্বজনরা বক্তব্য রাখেন। এ সময় তারা কান্নায় ভেঙে পড়েন। তারা উপস্থিত নেতাকর্মীদের কাছে আর্তনাদ করে তাদের স্বজন হারানো বিচার চান।

ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবনের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম মিল্টন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহসান ও ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েলের সঞ্চালনায় যুবদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এস এম জিলানী, ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

এছাড়া বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুল, তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারি হেলাল, খুলনা মহানগর বিএনপি আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম মনা, খুলনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আমির এজাজ খান, বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইং কর্মকর্তা শামসুদ্দিন দিদার উপস্থিত ছিলেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ বিভাগের আরো সংবাদ

আবহাওয়া