বুধবার, ২৪ জুলাই ২০২৪, ০৫:৩০ পূর্বাহ্ন

নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি, মানুষ খুশি না: কাদের সিদ্দিকী

টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধি
আপডেট : মঙ্গলবার, ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪
নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি, মানুষ খুশি না: কাদের সিদ্দিকী

টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধি : 

কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দিকী বলেছেন, সংসদ আছে সংসদ সদস্যের কোন মর্যাদা নাই। রাজনীতি আছে নেতাদের মূল্যায়ন নাই। আমেরিকা এই নির্বাচন মেনে নিলো কি নিলো না সেইটা দেখার বিষয় না। আমার দেশের মানুষ খুশি হলো কিনা এইটা হলো বড় বিষয়। তবে আমি জানি নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি, মানুষ খুশি না।

মঙ্গলবার (৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে টাঙ্গাইল প্রেস ক্লাবে মিট দ্য প্রেসে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ ভোট প্রয়োগ করতে পারে নাই, যারা কেন্দ্রে না গেছে তাদের ভোট জালিয়াতি করেছে। সাধারণ মানুষ ৫% ভোট দিতে যায় নাই, আর যারা অন্য দল করে তাদের ১% ভোটারও ভোট দিতে যায়নি। সখিপুর- বাসাইলে ২৯ থেকে ৩০ হাজার ভোট চুরি করা হয়েছে। যারা ডিউটিতে ছিল প্রাথমিকের শিক্ষকরা তারা চুরি করে। তাহলে জাতি তাদের কাছ থেকে কী শিখবে। জাতি খুব অসহায় হয়ে পড়েছে এদের হাতে।

কাদের সিদ্দিকী বলেন, সরকার কোনো স্বস্তিতে নাই, ভোট যদি ৭০% হতো তাহলে ভালো হত, কিন্তু কোথাও ২৫% ভোট হয়নি, সরকার স্বস্তিতে থাকার জন্য মানুষের আস্থা কুড়াতে হবে। এই সংসদ চলে না তবে জোর করে চালাচ্ছে। যেভাবে নির্বাচন করছে এই সরকার, এভাবে কেন্দ্রে ভোট দিতে মানুষ যাবে না। মানুষের অনীহা চলে এসেছে কেন্দ্রে যাওয়ার ব্যাপারে। আমি নির্বাচন করেছি, অনিয়ম হয়েছে, কিন্তু চুরির বিচার চোরের কাছে দেব নাকি, তাই কোথাও অভিযোগ দেয়নি।

তিনি বলেছেন, ২০১৮ সালের নির্বাচনের চেয়েও এ নির্বাচন খারাপ হয়েছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে খুবই আশাবাদী ছিলাম। আমি বিশ্বাস করেছিলাম একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে।

কাদের সিদ্দিকী বলেন, ১৮ সালের নির্বাচনে তবুও কিছু লোক ভোটকেন্দ্রে গিয়েছিলেন। ভোট দিয়েছিলেন। এবার সেই পরিমাণ লোকও ভোটকেন্দ্রে যাননি। অধিকাংশ ক্ষেত্রে মানুষ উৎসাহ পানি তাই ভোট দিতে যাননি। সাধারণ ভোটারদের ৫ শতাংশও ভোট দিতে যায়নি।

তিনি বলেন, আমি নির্বাচনে হেরেছি। প্রকৃতই যদি হেরে থাকি তবে বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবর রহমানও হেরেছেন। রাজনৈতিকভাবে বঙ্গবন্ধুর অনুসারী কাদের সিদ্দিকীর আগে একজনও নেই। পরে আছে কিনা বলতে পারবো না। এ পরাজয় যদি সঠিকভাবে হয়ে থাকে তাহলে এটা মুক্তিযুদ্ধের পরাজয়, মুক্তিযোদ্ধাদের পরাজয়। মানুষ মুক্তিযুদ্ধ চায় না অথবা মুক্তিযোদ্ধাকে চায় না। যদি ধরে নেওয়া হয় নির্বাচনে আমরা সত্যিকারভাবে হেরেছি। তাহলে মানুষ এসব কিছু থেকে মুখ সরিয়ে নিয়েছে। আর যদি এটাকে ইঞ্জিনিয়ারিং বলা হয়, কারচুপি বলা হয়, ডাকাতি বলা হয় তাহলে সেটা অন্য জিনিস।

বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেন, সরকার ভোটের আগেও স্বস্তিতে ছিল না। আগামী দিনগুলোতেও খুব একটা স্বস্তিতে থাকতে পারবে না। আমি নির্বাচন করেছি অনিয়ম হয়েছে কিন্তু কথা হলো চোরের বিচার চোরের কাছে দিব নাকি, তাই কোথাও অভিযোগ দেইনি।

এসময় টাঙ্গাইল প্রেস ক্লাবের সভাপতি অ্যাডভোকেট জাফর আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন, জেলা কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সাধারণ সম্পাদক সালেক হোসেন হিটলু, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ফরিদ আহমেদ ও জেলা যুব আন্দোলনের সভাপতি আতিকুর রহমান সাদেকসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ বিভাগের আরো সংবাদ

আবহাওয়া