বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০২৪, ০২:২৯ পূর্বাহ্ন

নির্বাচনে সাংবাদিক-পর্যবেক্ষকদের বাধা দিলে ২-৭ বছরের জেল

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট : মঙ্গলবার, ২৮ মার্চ, ২০২৩
নির্বাচনে সাংবাদিক-পর্যবেক্ষকদের বাধা দিলে ২-৭ বছরের জেল

নিজস্ব প্রতিবেদক :

নির্বাচনের সময় গণমাধ্যমকর্মী ও পর্যবেক্ষকদের কাজে বাধা দিলে ২ থেকে ৭ বছর কারাদণ্ডের বিধান রেখে ‘গণপ্রতিনিধিত্ব (সংশোধন) আইন, ২০২৩’ নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

মঙ্গলবার (২৮ মার্চ) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এতে সভাপতিত্ব করেন। বৈঠক শেষে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব (সমন্বয় ও সংস্কার) মাহমুদুল হোসাইন খান সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, এটাতে কিছু সংশোধনী প্রস্তাব করা হয়েছিল। আগে যেমন ছিল- যেদিন মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হবে, তার সাত দিন আগে যেকোনো ইউলিটি বিল জমা দিতে হতো। না হলে মনোনয়নপত্র বাতিল বলে গণ্য হতো। এখন মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার আগের দিন পর্যন্ত বিল জমা দেওয়া যাবে। মনোনয়নপত্রের সঙ্গে টিআইএন সার্টিফিকেট সংযুক্ত করতে হবে ও কত টাকা আয়কর জমা দিয়েছে, সেটা রশিদ অনুযায়ী সামবিট করতে হবে। এটা আগে ছিল না। এ দুটি অংশ যোগ করা হয়েছে।

সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে মো. মাহমুদুল হোসাইন খান বলেন, আপনারা যারা গণমাধ্যমকর্মী ও পর্যবেক্ষক, আপনাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য এখানে একটা বিধান রাখা হয়েছে। যদি কেউ গণমাধ্যমকর্মী ও পর্যবেক্ষকদের আইনানুগ কাজে বাধা দেয়, সেক্ষেত্রে দুই থেকে সাত বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

উদাহারণ দিয়ে তিনি বলেন, ধরুন আপনি ক্যামেরা নিয়ে গেলেন, হয়তো অনেক সময় হতে পারে মনোমালিন্য হলে আপনি বেরিয়ে যান (ভোট কেন্দ্র থেকে), ইত্যাদি ইত্যাদি (বেরিয়ে যেতে বলা হলো)। আপনার যদি বৈধভাবে প্রবেশ করার অধিকার থাকে কিন্তু তারপরও বলপ্রয়োগ করে আপনাকে বের করে দেওয়া হলো, ক্যামেরা ভেঙে ফেলল ইত্যাদি অনেক কিছুই হতে পারে। সেক্ষেত্রে দুই থেকে সাত বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।

মো. মাহমুদুল হোসাইন খান বলেন, এটার নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, এখনো ফাইনাল করা হয়নি। আরও কিছু কারেকশন আছে। আরও কিছু মতামতসহ এটা আবার মন্ত্রিসভায় উপস্থাপিত হবে। তারপরে আরও কিছু যদি সংযোজন হয়, সেটাসহ পাস করা হবে।

আইনে ছোটখাটো অনেকগুলো বিষয় আছে জানিয়ে তিনি বলেন, যেমন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রিটার্নিং অফিসার নিয়োগের আগে শুধু ডিস্ট্রিক্ট (জেলা) উল্লেখ করা ছিল। এখন জেলার পরিবর্তে প্রতিটি আসনে হবে। অর্থাৎ ৩০০ আসনে ৩০০ জন রিটার্নিং অফিসার থাকবে- এমন আলোচনা হয়েছে।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বর্তমানে প্রতি জেলায় একজন করে রিটার্নিং কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করেন। তবে এখন থেকে প্রতি আসনে একজন করে রিটার্নিং অফিসার রাখার প্রস্তাব রয়েছে আরপিওতে।

সংশোধনী প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পাওয়ায় এবার সংসদের আসন্ন অধিবেশনে এটি বিল আকারে উঠতে পারে। বিল পাস হলে দলগুলো নারী কোটা পূরণে আরও সাত বছর সময় পাচ্ছে। আগামী ৬ এপ্রিল সংসদের ২২তম অধিবেশন বসবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ বিভাগের আরো সংবাদ

আবহাওয়া