Dhaka শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নয় বছরেও জোড়া লাগেনি ভাঙা ব্রিজ, জনদুর্ভোগে ২০ হাজার মানুষ

কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি : 

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার ভিতরবন্দ ইউনিয়নের মাদাইখাল গ্রামে কচুয়ার খালের ওপর দুমড়ে-মুচড়ে পড়ে আছে একটি কংক্রিটের ব্রিজ। নয় বছর আগে বন্যার পানির স্রোতে ভেঙে পড়া সেই ব্রিজ আজও যেন নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে অবহেলা আর প্রতিশ্রুতির গল্প নিয়ে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১২ সালে যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ করতে ৪০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৮ ফুট প্রস্থের ব্রিজটি নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু ২০১৭ সালের ভয়াবহ বন্যায় পানির তীব্র স্রোতে তা ভেঙে যায়। তারপর থেকে কাঠের পাটাতন বসিয়ে কোনোভাবে চলাচলের ব্যবস্থা করা হলেও সেটিও এখন প্রায় অনুপযোগী। তবুও জীবনের ঝুঁকি নিয়েই প্রতিদিন পারাপার করছেন শিশু, বৃদ্ধ, নারী-পুরুষসহ প্রায় ২০ হাজার মানুষ।

এই ব্রিজের ওপর নির্ভরশীল নাগেশ্বরী উপজেলার ভিতরবন্দ ইউনিয়নের মাদাইখাল, বড়ভিটা, জামতলা, বিলাতিরভিটা, কচুয়ারপাড়সহ অন্তত ১০টি গ্রামের বাসিন্দারা। পাশাপাশি কালিগঞ্জ ও কেদার ইউনিয়নের মানুষও প্রতিদিন এই ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো পেরিয়ে স্কুল, হাট-বাজার, হাসপাতাল ও কর্মস্থলে যাতায়াত করেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘ নয় বছরেও ভাঙা ব্রিজটির স্থলে নতুন ব্রিজ নির্মাণে কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি। জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আশ্বাস মিললেও বাস্তবায়নের দেখা নেই। ফলে প্রতিদিন আতঙ্ক নিয়েই চলতে হচ্ছে তাদের।

স্থানীয় আজাহার আলী বলেন, ৯ বছর ধরে ব্রিজটি ভেঙে পড়ে আছে। তার পরেও আমরা কাটের পাটাতন বানিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছি। যেকোনো নির্বাচন আসলে, সবাই ব্রিজটি করে দিতে চায়, কিন্তু নির্বাচন শেষ হলে আর কারও দেখা মেলে না।

কচুয়ার পাড় এলাকার রহিমা বেগম বলেন, ব্রিজটি দিয়ে যেতে খুব ভয় লাগে। যদি পা পিছলে নিচে পড়ে যাই। তার পরেও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হই। এখানে একটা নতুন ব্রিজ হলে ভালোভাবে আমাদের ছেলে মেয়েরা যাতায়াত করতে পারতো।

নাগেশ্বরী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোফাখ্খারুল ইসলাম বলেন, খালের গভীরতা ও দৈর্ঘ্য-প্রস্থের সঠিক পরিমাপ অনুযায়ী ব্রিজ নির্মাণ না হওয়ায় বন্যার পানির তোড়ে এটি ভেঙে পড়ে। এখন এখানে ভাঙা ব্রিজের স্থলে গার্ডার ব্রিজ নির্মাণের আশ্বাস এ কর্মকর্তার।

আবহাওয়া

এনসিপির ‘জাতীয় নারী শক্তির’ ৫৩ সদস্যের কমিটি ঘোষণা

নয় বছরেও জোড়া লাগেনি ভাঙা ব্রিজ, জনদুর্ভোগে ২০ হাজার মানুষ

প্রকাশের সময় : ০২:৫১:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬

কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি : 

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার ভিতরবন্দ ইউনিয়নের মাদাইখাল গ্রামে কচুয়ার খালের ওপর দুমড়ে-মুচড়ে পড়ে আছে একটি কংক্রিটের ব্রিজ। নয় বছর আগে বন্যার পানির স্রোতে ভেঙে পড়া সেই ব্রিজ আজও যেন নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে অবহেলা আর প্রতিশ্রুতির গল্প নিয়ে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১২ সালে যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ করতে ৪০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৮ ফুট প্রস্থের ব্রিজটি নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু ২০১৭ সালের ভয়াবহ বন্যায় পানির তীব্র স্রোতে তা ভেঙে যায়। তারপর থেকে কাঠের পাটাতন বসিয়ে কোনোভাবে চলাচলের ব্যবস্থা করা হলেও সেটিও এখন প্রায় অনুপযোগী। তবুও জীবনের ঝুঁকি নিয়েই প্রতিদিন পারাপার করছেন শিশু, বৃদ্ধ, নারী-পুরুষসহ প্রায় ২০ হাজার মানুষ।

এই ব্রিজের ওপর নির্ভরশীল নাগেশ্বরী উপজেলার ভিতরবন্দ ইউনিয়নের মাদাইখাল, বড়ভিটা, জামতলা, বিলাতিরভিটা, কচুয়ারপাড়সহ অন্তত ১০টি গ্রামের বাসিন্দারা। পাশাপাশি কালিগঞ্জ ও কেদার ইউনিয়নের মানুষও প্রতিদিন এই ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো পেরিয়ে স্কুল, হাট-বাজার, হাসপাতাল ও কর্মস্থলে যাতায়াত করেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘ নয় বছরেও ভাঙা ব্রিজটির স্থলে নতুন ব্রিজ নির্মাণে কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি। জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আশ্বাস মিললেও বাস্তবায়নের দেখা নেই। ফলে প্রতিদিন আতঙ্ক নিয়েই চলতে হচ্ছে তাদের।

স্থানীয় আজাহার আলী বলেন, ৯ বছর ধরে ব্রিজটি ভেঙে পড়ে আছে। তার পরেও আমরা কাটের পাটাতন বানিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছি। যেকোনো নির্বাচন আসলে, সবাই ব্রিজটি করে দিতে চায়, কিন্তু নির্বাচন শেষ হলে আর কারও দেখা মেলে না।

কচুয়ার পাড় এলাকার রহিমা বেগম বলেন, ব্রিজটি দিয়ে যেতে খুব ভয় লাগে। যদি পা পিছলে নিচে পড়ে যাই। তার পরেও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হই। এখানে একটা নতুন ব্রিজ হলে ভালোভাবে আমাদের ছেলে মেয়েরা যাতায়াত করতে পারতো।

নাগেশ্বরী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোফাখ্খারুল ইসলাম বলেন, খালের গভীরতা ও দৈর্ঘ্য-প্রস্থের সঠিক পরিমাপ অনুযায়ী ব্রিজ নির্মাণ না হওয়ায় বন্যার পানির তোড়ে এটি ভেঙে পড়ে। এখন এখানে ভাঙা ব্রিজের স্থলে গার্ডার ব্রিজ নির্মাণের আশ্বাস এ কর্মকর্তার।