বৃহস্পতিবার, ২৫ জুলাই ২০২৪, ০৩:৩৭ পূর্বাহ্ন

দেশে-বিদেশে নানা ষড়যন্ত্র ও অপচেষ্টা করেও বিএনপি কিছু করতে পারেনি : প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪
দেশে-বিদেশে নানা ষড়যন্ত্র ও অপচেষ্টা করেও বিএনপি কিছু করতে পারেনি : প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, দেশে-বিদেশে নানা ষড়যন্ত্র ও অপচেষ্টা করেও বিএনপি কিছু করতে পারেনি। ৭৫ পরবর্তী সময়ে দেশে সব থেকে সুষ্ঠু-গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হয়েছে ৭ জানুয়ারি।

বৃহস্পতিবার (২২ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, বিএনপি আবারও বড় বড় কথা শুরু করছে। তাদের সাথে জামায়াতের পাশাপাশি কিছু বাম দলও লাফালাফি করছে। এ সময়, ভোট চুরি করে ক্ষমতায় আসার জন্য খালেদা জিয়া পদত্যাগে বাধ্য হয়েছিলেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভাষা আন্দোলনে বঙ্গবন্ধুর অবদানকে মুছে ফেলতে একটি শ্রেণি চেষ্টা করেছিল। ইতিহাসে বঙ্গবন্ধুর অবদান ছোট করা তাদের মজ্জাগত। এ সময়, সকল অপচেষ্টা প্রতিহত করে আওয়ামী লীগ দেশের উন্নয়নে কাজ করে যাবে বলেও জানান তিনি।

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, আমাদের লাখো শহীদ জীবনের বিনিময়ে- ভোগে নয়, ত্যাগেই আনন্দ ও অর্জন; সেটা শিখিয়ে গেছেন। সেটা শিখিয়ে গেছেন আমাদের ভাষা শহীদেরা, সেটা শিখিয়ে দিয়ে গেছেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু। কাজেই এ আদর্শ ধারণ করে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে। বাংলাদেশকে আর কেউ পেছনে টানতে পারবে না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইতিহাস বিকৃত করা এক শ্রেণির মজ্জাগত সমস্যা। তারাই দেশের ক্ষতি করেছে। যারা ইতিহাস বিকৃত করেছে, তারা ইতিহাসের আঁস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হয়েছে। ২১ ফেব্রুয়ারিকে শহীদ দিবস করতে পারা আওয়ামী লীগের অবদান।

ভাষা নিয়ে অনেক ষড়যন্ত্র হয়েছে উল্লেখ করে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘বাংলা একটা জাতির ভাষা, এটা কেউ বিশ্বাস করতে চাইত না। ভাষা আন্দোলনের চেতনার হাত ধরেই স্বাধীনতা আসে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের গণতান্ত্রিক অধিকারসহ সবকিছু অর্জন করতে হয়েছে অনেক আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে। ৪৭ সালে করাচিতে একটা শিক্ষা সম্মেলন হয়, সেখানে বলা হয়- রাষ্ট্র ভাষা হবে উর্দু। সেদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্ররা এই প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতে গিয়ে প্রতিবাদ জানায়।’

শেখ হাসিনা বলেন, আজ আমরা এখানে সমবেত হয়েছি ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে। বিশ্বের বুকে যে পরিচয়টা পেয়েছি, সেটা দিয়ে গেছেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রহমান। আমরা যে মাতৃভাষায় কথা বলতে পারছি, আমরা যে স্বাধীন জাতি হিসেবে মর্যাদা পেয়েছি সেটা তার হাত ধরেই এসেছে। এ উপমহাদেশে একমাত্র ভাষাভিত্তিক রাষ্ট্র হচ্ছে বাংলাদেশ। সে জাতি রাষ্ট্র আমরাই পেয়েছি।

সরকারপ্রধান বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে ১৯৫৮ সাল থেকেই পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা রিপোর্ট করত। জানান, ৯৬ সালে সরকার গঠন করে এসবি অফিস থেকে সব ফাইল সংগ্রহ করেন। সঙ্গে ছিলেন বেবী মওদুদ। দুইজন মিলে ফাইলগুলো পড়েন। বলেন, ভাষা আন্দোলনে বঙ্গবন্ধু কী কাজ করেছেন, তা কিন্তু স্পষ্ট।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘এসব নিয়ে একবার বক্তব্য দিলে একজন লেখক বললেন, আমি নাকি সব বানিয়ে বলছি’। বক্তব্য দেয়ার সময় পাশের লোকজনকে তিনি বলেন, ওই লেখক বদরুদ্দিন ওমর। পরে বলেন, সব তথ্যপ্রমাণ নিয়ে যাওয়া হয় এম আর আক্তার মুকুলের কাছে। তাকে দিয়ে লেখানোর পর আর কোনো কথা নেই।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এক শ্রেণির মানুষ আছে, যা কিছু করেন তাদের কিছুই ভালো লাগে না। এই ভালো না লাগা গ্রুপই বাংলাদেশ নিয়ে বদনাম ছড়ায়।

ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ, বাঙালি– আজ আমরা বিশ্বের বুকে যে আত্ম-পরিচয় পেয়েছি, সেটা দিয়ে গেছেন মহান নেতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। আমরা মাতৃভাষায় কথা বলার অধিকার পেয়েছি, সেখানেও বঙ্গবন্ধুর অবদান রয়েছে। ১৯৪৮ সালের ২ মার্চ ভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠন করেন তমদ্দুন মজলিশ এবং আরও কয়েকটি সংগঠন নিয়ে। তার আগে ১৯৪৭ সালের ডিসেম্বরে করাচিতে শিক্ষা সম্মেলনে রাষ্ট্রভাষা উর্দু করার ঘোষণা দেওয়া হয়। তার প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা প্রতিবাদ জানান। এর মধ্য দিয়েই ৪ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব আইন বিভাগের ছাত্র থাকাকালে পূর্ব বাংলা ছাত্রলীগ গঠন করেন।

ছাত্র সংগঠন গঠন করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আন্দোলন-সংগ্রামের প্রস্তুতি নেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, তখন যেসব রাজনৈতিক দল ও ছাত্র সংগঠন ছিল, তাদের নিয়ে সংগ্রাম পরিষদ গঠন করা হয়। সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নেয় ১১ মার্চ ধর্মঘট ডাকা হবে। অর্থাৎ আমরা যে আজ মাতৃভাষায় কথা বলতে পারছি, আমরা যে স্বাধীন জাতি হিসেবে মর্যাদা পেয়েছি— উপমহাদেশে ভাষাভিত্তিক একমাত্র রাষ্ট্র বাংলাদেশ, সেই জাতি রাষ্ট্র আমরা পেয়েছি, তার সব কিছুতেই অবদান রয়েছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের। আমি তার প্রতি শ্রদ্ধা জানাই, ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাই।

আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, আব্দুর রাজ্জাক, উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য আতাউর রহমান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহমেদ মন্নাফী, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ বজলুর রহমান, বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক মো. নুরুল হুদা, ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বেনজীর আহমেদ প্রমুখ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ বিভাগের আরো সংবাদ

আবহাওয়া