রবিবার, ১৪ জুলাই ২০২৪, ১১:০৬ অপরাহ্ন

দেশবিরোধী চুক্তি থেকে দৃষ্টি সরাতে ইস্যু তৈরি করছে সরকার : রিজভী

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট : বুধবার, ১০ জুলাই, ২০২৪
দেশবিরোধী চুক্তি থেকে দৃষ্টি সরাতে ইস্যু তৈরি করছে সরকার : রিজভী

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, দেশবিরোধী চুক্তি থেকে জনগণের দৃষ্টি সরাতেই পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন ইস্যু তৈরি করছে সরকার।

বুধবার (১০ জুলাই) বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দল কর্তৃক আয়োজিত দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, প্রতি মুহূর্তেই বিএনপির ওপর আক্রমণ চালাচ্ছে ক্ষমতাসীনরা। ভারতের সঙ্গে রেল করিডোর-সমঝোতা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি। ট্রেনে করে সামরিক সরঞ্জাম বহন করবে ভারত সরকার। পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোকে মোকাবিলা করতে ভারত বাংলাদেশকে ব্যবহার করবে।

তিনি বলেন, প্রতিবেশী দেশ তাদের রাজনৈতিক সংকট মোকাবিলা করার জন্য বাংলাদেশের জমিনকে ব্যবহার করতে চাচ্ছে। বাংলাদেশকে একটি চিরস্থায়ী আন্তর্জাতিক চক্রান্তে ফেলে দেওয়ার প্রচেষ্টা তারা হাতে নিয়েছে। এ কারণে আমরা দেখতে পাচ্ছি সরকার জনগণের দৃষ্টি অন্যদিকে সরিয়ে দিচ্ছে, নিজেদের অপকর্ম ঢাকার জন্য, দেশবিরোধী চুক্তি করার জন্য। তাই কখনো আমরা দেখছি আজিজকাণ্ড, কখনো দেখছি বেনজীরকাণ্ড, কখনো দেখছি পিএসসির ড্রাইভারকাণ্ড, কখনো দেখছি মতিউরকাণ্ড- একের পর এক কাণ্ড আমরা দেখতে পাচ্ছি।

প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে রিজভী বলেন, বেনজীর-আজিজসহ অন্যান্য উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা যে হাজার হাজার কোটি টাকা দুর্নীতি করেছেন, সেগুলো আপনি দেখেন না? একজন পিয়ন কী করে ৬০ কোটি টাকার মালিক হন? একজন ড্রাইভার যদি ১০০ কোটি টাকার মালিক হন সেটা কি আপনার সরকার জানবে না?

তিনি বলেন, সরকার বিএনপি চেয়ারপারসনকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়ার নানা ধরনের ষড়যন্ত্র করছে। খালেদা জিয়া কখনো কোনো স্বৈরাচারের কাছে আপস করেননি। তার জনপ্রিয়তাই একজনের হিংসার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রিজভী বলেন, অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে ডামি সরকার গোটা জাতিকে একটা ইস্যুপ্রেমী বানানোর চেষ্টা করছে। যার কারণে একেক সময় একেক ঘটনা ঘটাচ্ছে। বেনজীররা যে দুর্নীতি করেছে আজিজরা যে দুর্নীতি করেছে অন্যান্য উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা যে হাজার হাজার কোটি টাকা দুর্নীতি করেছে সরকার এগুলো দেখেও না দেখার ভান করছে। আসলে সরকারি এজেন্সিগুলো কী করে? তারা কি দেখে না? তাদের কি শুধু বিএনপির নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করার জন্যই তৈরি করা হয়েছে?

তিনি বলেন, যখন বিসিএসের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয় তখন কি সরকারের গোয়েন্দা বিভাগ ঘুমিয়ে থাকে? মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র যখন ফাঁস হয় তখন তারা কী করে? তারা কি দিনের বেলায় ঘুমান? তা না হলে এত দুর্নীতি হয় কী করে?

তিনি আরও বলেন, আজকে বাংলাদেশের বুক চিরে পার্শ্ববর্তী দেশের রেললাইন নিয়ে যাবে আমাদের সার্বভৌমত্বকে দুর্বল করার জন্য এই কাজগুলো করা হচ্ছে। অথচ আমাদের সীমান্তে যখন এদেশের নাগরিকদেরকে হত্যা করা হয় রক্তাক্ত করা হয় তখন এই সরকার কোনো প্রতিবাদ করে না, তারা নিশ্চুপ হয়ে যায়।
রিজভী বলেন, প্রতিবেশী দেশ তাদের রাজনৈতিক সংকট মোকাবিলা করার জন্য বাংলাদেশের জমিনকে তারা ব্যবহার করতে চাচ্ছে অর্থাৎ বাংলাদেশকে একটা চিরস্থায়ী আন্তর্জাতিক চক্রান্ত আন্তর্জাতিক খেলাধুলার মধ্যে ফেলে দেওয়ার একটা প্রচেষ্টা তারা হাতে নিয়েছে। যার কারণে আমরা দেখতে পাচ্ছি সরকার জনগণের দৃষ্টিকে অন্যদিকে সরিয়ে দিচ্ছেন নিজেদের অপকর্ম ঢাকার জন্য, দেশবিরোধী সব চুক্তি করার জন্য। তাই কখনো আমরা দেখছি আজিজকাণ্ড, কখনো দেখছি বেনজীরকাণ্ড, কখনো দেখছি পিএসসির ড্রাইভারকাণ্ড, একের পর এক কাণ্ড আমরা দেখতে পাচ্ছি।

তিনি বলেন, ডামি সরকার বিভিন্ন কলাকৌশলে জিয়া পরিবার এবং বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে বিভিন্নভাবে হেয় করেও যখন জনগণের মন থেকে মুছে ফেলতে পারেনি এখন নতুন করে তাকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়ার নানা ধরনের ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। যে নেত্রী কখনো কোনো স্বৈরাচারের কাছে আপোস করেননি। তার জনপ্রিয়তাই একজন ব্যক্তির হিংসার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে রিজভী আরও বলেন, তারা আক্রমণ করবে তারা বন্দি করবে, তারা মামলা দিবে, তারা ক্রসফায়ার দিবে, তারা গুম করবে, এ সমস্ত নির্যাতনের পরেও আমরা সত্যের জন্য মানুষের মুক্তির জন্য এবং মানুষের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের জন্য সামনের দিকে এগিয়ে যাব।

মৎস্যজীবী দলের সদস্য সচিব আব্দুর রহিমের পরিচালনায় আয়োজিত দোয়া অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সহ-অর্থনৈতিক সম্পাদক মাহমুদুর রহমান সুমন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সহসভাপতি ডা. জাহেদুল কবির জাহিদ, বিএনপি নেতা অধ্যাপক ওয়াহিদ বিন ইমতিয়াজ বকুল, সিরাজ হোসেন, ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি তারেক উজ জামান তারেক, মৎস্যজীবী দলের যুগ্ম আহ্বায়ক জাকির হোসেন খান, ওমর ফারুক পাটোয়ারী, জাহাঙ্গীর আলম সনি, ছাত্রদলের সহসভাপতি ডা. তৌহিদুর রহমান আউয়াল, সাহাবুদ্দিন ইমন, মো. সাব্বির, ডা. পিয়াস, শাহ পরান, মিরাজ হোসেন, আশরাফুল আসাদ প্রমুখ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ বিভাগের আরো সংবাদ

আবহাওয়া