শুক্রবার, ১৪ জুন ২০২৪, ০৫:১৭ পূর্বাহ্ন

দুর্নীতিবাজদের মোটাতাজাকরণের বাজেট দিয়েছে সরকার : গয়েশ্বর

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট : শনিবার, ৮ জুন, ২০২৪
দুর্নীতিবাজদের মোটাতাজাকরণের বাজেট দিয়েছে সরকার : গয়েশ্বর

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, দুর্নীতিবাজদের মোটাতাজাকরণের বাজেট দিয়েছে সরকার, এছাড়াও বাজেটের কোথাও অসহায় মানুষের জন্য কোনো সুযোগ সুবিধা নেই।

শনিবার (৮ মে) বিকেলে বিএনপির নয়াপল্টন কার্যালয়ের সামনে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি আয়োজিত বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াসহ কারাবন্দি নেতাদের মুক্তির দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, প্রস্তাবিত বাজেট চার লাখ কোটি টাকার রাজস্ব আয়ের কথা বলা হয়েছে। এ টাকায় রাষ্ট্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন হবে। জনগণের টাকায় বেতন হবে, জনগণের টাকায় খাবেন আর জনগণের ওপর লাঠি চালাবেন, এটি একটি সীমাহীন বেয়াদবি। গরু মোটাতাজা করার মতো চোর-ডাকাত এবং লুটতরাজদের মোটাতাজা করার জন্য এ বাজেট। এ রাজস্ব আদায় হবে কীভাবে? উৎপাদন হ্রাস পেয়েছে। কর্মহীন যুবকের জন্য কিছু নেই। তারপরও যদি রাজস্ব দিতে হয় তাহলে জনগণের না খেয়ে মরা ছাড়া উপায় নেই।

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, দেশে এমন কোনো কারাগার নেই, যেখানে বিএনপির কর্মীরা বন্দি নেই। এই আটকও একটি বাণিজ্য। আত্মীয় স্বজনরা দেখা করতে গেলে টাকা, খাবার দিতে গেলে টাকা, আদালতে এনে রিমান্ড না নেওয়া জন্য টাকা। এ রকম অনেক খাত আছে। প্রশাসন এখন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।

তিনি বলেন, যারা দুর্নীতি, ডাকাতি, সন্ত্রাসী করে তাদের রক্ষা করাই পুলিশের কাজ। সাবেক পুলিশ প্রধান বেনজির আহমেদের ব্যাংক একাউন্ট ফ্রিজ করার পরও সরকারের সহায়তায় ৮০ কোটি টাকা তুলে নিতে পেরেছেন।

গয়েশ্বর বলেন, বর্তমান প্রশাসন জনগণের নিরাপত্তার জন্য নয়। খুনি, দুর্নীতিবাজ ও লুটেরাদের রক্ষা করাই যেন প্রশাসনের কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আজ বিচারের আগেই পুলিশ মানুষের হাত-পা ভেঙে বিচার করছে। পুলিশের সামনে ছাত্রলীগের কর্মীরা থানায় ঢুকে বিএনপি নেতাকর্মীদের পেটাচ্ছে। কোনো বিচার নেই।

তিনি বলেন, যে দেশে আইনের শাসন নেই সেই দেশে জনগণ বিচার চাইবে কার কাছে। বিচারপতিই স্বাধীন নন। সরকারের বিরুদ্ধে রায় দিলে দেশ ত্যাগ করতে হয়। একজন জোর গলায় বললেন, এসকে সিনহাকে কীভাবে দেশ ত্যাগ করিয়েছিলাম। তারপর থেকে বিচারপতিরা তাকে সালাম দিচ্ছেন।

নব নিযুক্ত প্রধানমন্ত্রীর প্রেস-সচিবের প্রসঙ্গ টেনে গয়েশ্বর বলেন, যাকে প্রেসসচিব করা হয়েছে তিনি একজন রাজাকারের ছেলে। যা তিনি নিজেই স্বীকার করেছেন। এখন এসব প্রশ্নের জবাব কে দেবে? এরা তো নির্বাচিত সরকার নয়। তাই তারা জনগণের কাছে জবাব দিতে বাধ্য নয়।

আমেরিকা বা কোনো রাষ্ট্র দেশের কারও বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিলে তা জাতীর জন্য লজ্জার উল্লেখ করে বিএনপি এই নেতা বলেন, কিন্তু সরকার লজ্জা পায় না। বেনজীর র‌্যাব ডিজি থাকা অবস্থায় বিএনপি নেতা সালাউদ্দিনকে উত্তরা থেকে আটক করল। তার তিনমাস পর ভারতে তাকে পাওয়া গেলো। এটি কীভাবে সম্ভব হলো? কেন তদন্ত করা হলো না। সরকার কি বিষয়টি জানত না?

এমপি আনার হত্যা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আনার একসময় সর্বহারা পার্টি করতেন। আওয়ামী লীগে যোগদান করে মুক্তিযোদ্ধা হয়ে গেলেন। আনার যে খুন হয়েছেন তা এখনও প্রমাণ করতে পারেনি। তার শরীরের টুকরো এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। আর যদি খুন হয়েই থাকে তাহলে তাকে খুনের দায়ে যাদের আটক করা হয়েছে খুনিরা কেন তাকে খুন করল তা কেন প্রকাশ করছেন না?

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক আবদুস সালামের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব রফিকুল আলম মজনুর সঞ্চালনায় এতে আরও বক্তব্য দেন- স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এস এম জিলানী, ওলামা দলের আহ্বায়ক মাওলানা সেলিম রেজা, মৎস্যজীবী দলের সদস্য সচিব আব্দুর রহিম, বিএনপির তথ্যবিষয়ক সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন নসু, স্বেচ্ছাসেবক দলের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সদস্য সচিব পাপ্পা সিকদার, ছাত্রদলের পাভেল সিকদার, খালিদ হাসান জ্যাকী, মহানগর দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ইউনুস মৃধা, মোহাম্মদ মোহন, মোশাররফ হোসেন খোকন, আবদুস সাত্তার, হাজী মনির হোসেন (চেয়ারম্যান), সাইদুর রহমান মিন্টু প্রমুখ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ বিভাগের আরো সংবাদ

আবহাওয়া