রবিবার, ১৪ জুলাই ২০২৪, ১১:১১ অপরাহ্ন

দুইবারের বেশি চাল ছাঁটাই করা যাবে না : খাদ্যমন্ত্রী

সিদ্ধিরগঞ্জ উপজেলা প্রতিনিধি
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন, ২০২৪
দুইবারের বেশি চাল ছাঁটাই করা যাবে না : খাদ্যমন্ত্রী

সিদ্ধিরগঞ্জ উপজেলা প্রতিনিধি : 

খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেছেন, চাল দুইবারের বেশি ছাঁটাই করা যাবে না। প্রাকৃতিক রং ও ঘ্রাণের চাল গ্রাহকের কাছে পৌঁছাতে ঈদের পর মিল মালিকদের সঙ্গে আলোচনায় বসে এটা বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা হবে।

বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ সাইলো প্রাঙ্গণে সরকারি প্রিমিক্স কার্নেল ফ্যাক্টরি উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আগে চালে পুষ্টি মেশাতে হতো না। প্রাকৃতিকভাবেই চালে পুষ্টি থাকতো। চাল চকচকে করতে বর্তমানে চার-পাঁচবার ছাঁটাই করে পুষ্টি ফেলে দেয়া হচ্ছে। এতে চালে কার্বোহাইড্রেট ছাড়া কিছুই অবশিষ্ট থাকে না। সেই চালে আবার পুষ্টি মিশিয়ে বিতরণ করা হচ্ছে। এটা অপচয়। অপচয় বন্ধ করতে সরকার কাজ করছে।

খাদ্যমন্ত্রী বলেন, যখন দেশে খাদ্যের অভাব ছিল তখন অনেকেই ভাতের মাড় খেতো। অনেকেই আবার রুটি খেতো। কেউ আটা কিনলে মনে করতো সে মনে হয় সবচেয়ে গরিব মানুষ। কিন্তু এখন গরিবেরা তিনবেলা ভাত খায় এবং ধনীরা আটা খায়। সেটা ওজন বাড়ার ভয়েই হোক কিংবা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করার জন্যই হোক।

তিনি বলেন, একসময় আমাদের খাদ্যের অভাব ছিল। অনেকেই তখন একবেলা ভাত খেতো। বিদেশ থেকে চাল আমদানি করে তখন খেতে হতো। তখন ধারণা ছিল গোডাউনের চাল মানেই গন্ধ চাল। আর এখন গোডাউনের চালের জন্য মানুষ লাইন ধরে। বর্তমানে চালের মান অনেক ভালো বলে আমি মনে করি। তবে তখন খাদ্যে পুষ্টি মিশ্রণ করতে হতো না। এখন আমরা খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছি। বর্তমানে খাদ্যের অভাবে কোনো মানুষ মারা গেছে এমন ইতিহাস বাংলাদেশে নেই। শেখ হাসিনার বাংলাদেশ ক্ষুধামুক্ত বাংলাদেশ। পাশাপাশি তিনি কৃষিকে বেশি প্রাধান্য দিয়েছেন। অর্থাৎ কৃষি যতো এগিয়ে যাবে আমাদের খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা আরও বৃদ্ধি পাবে।

সারা বছরে দেশে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে যে পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ চাল বিতরণ করা হয় তার এক তৃতীয়াংশ নারায়ণগঞ্জ প্রিমিক্স কার্নেল ফ্যাক্টরি হতে জোগান দেয়া সম্ভব হবে জানিয়ে তিনি বলেন, সারা দেশে খাদ্য গুদামগুলো ডিজিটালাইজড করা হচ্ছে। ফলে খুব সহজেই কোন গুদামে কতটুকু স্টক আছে, কোথায় পণ্য ঢুকছে এবং বের হচ্ছে তা জানা সম্ভব হবে। এছাড়াও সারা দেশে ২০০ খাদ্য গুদাম নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। খাদ্য গুদামগুলো নির্মাণ হলে সংরক্ষণ সক্ষমতা আরও বাড়বে।

নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক (ডিসি) মাহমুদুল হকের সভাপতিত্বে এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব ইসমাইল হোসেন, খাদ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন, র্যাব-১১ এর অধিনায়ক (সিও) তানভীর মাহমুদ পাশা, নারায়ণগঞ্জ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপারেশন) আমির খসরু, নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দেদারুল ইসলাম ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু বকর সিদ্দিক প্রমুখ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ বিভাগের আরো সংবাদ

আবহাওয়া