মঙ্গলবার, ০৪ অক্টোবর ২০২২, ০৪:১৪ পূর্বাহ্ন

ত্রিশালে ব্রিজের পটাতন ভেঙে আটকে গেছে ট্রাক

ত্রিশাল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
আপডেট : বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২০
ত্রিশালে ব্রিজের পটাতন ভেঙে আটকে গেছে ট্রাক
ব্রিজের পটাতন ভেঙে আটকে গেছে ট্রাক

ময়মনসিংহের ত্রিশালে ব্রিজের পটাতন ভেঙে আটকে গেছে একটি পণ্যবাহী ট্রাক। এতে করে ত্রিশাল-ফুলবাড়ীয়া সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

বুধবার সন্ধ্যায় ত্রিশাল পোড়াবাড়ী বাজারে খিরু নদীর উপরের স্টিল ব্রিজটির পাটাতন ভেঙে যায়। এসময় ব্রিজটি ভেঙে পণ্যবাহী একটি ট্রাক আটকে যায়।

জানা যায়, খিরু নদীর উপর ১৯৮২ সালে ২৪২ ফুট দৈঘ্য ও ১৪ ফুট প্রস্থ এই স্টিল ব্রিজ নির্মাণ করা হয়। নির্মাণের ১০-১২ বছর যেতে না যেতেই ব্রিজের অনেকগুলো পাটাতনে মরিচা পড়ে ভাঙতে শুরু করে। ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজটির ভেঙে যাওয়া পাটাতন দীর্ঘদিন ধরে জোড়াতালি দিয়ে চালানোর ফলে প্রায় প্রতিদিন দুর্ঘটনা ঘটে আহত হচ্ছেন অনেকেই।

বুধবার সন্ধ্যায় ত্রিশাল উপজেলা থেকে একটি পণ্যবাহী ট্রাক ব্রিজ পারাপারের সময় পাটাতন ভেঙে ব্রিজের মাঝখানে আটক যায়। এরপর থেকে সব ধরনের যান চলাচলসহ বন্ধ হয়ে গেছে মানুষের পায়ে হেটে চলার পথ। দুর্ভোগে পড়েছে ফুলবাড়িয়া ও ত্রিশাল উপজেলাসহ দুই পারের মানুষ।

স্থানীয়রা জানায়, ব্রিজের বিভিন্ন স্থানে ভাঙা থাকার কারণে গত কয়েক বছরে ঘটে যাওয়া ছোট বড় দুর্ঘটনায় এ পর্যন্ত কয়েকশ মানুষ আহত হয়েছেন। অনেকেই পঙ্গুত্ব বরণ করে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। তারপরও জীবনের ঝুঁকি নিয়েই আমরা চলাচল করে করছে স্থানীয়রা। এখন ব্রিজটি ছাড়া দুইপারের কয়েক হাজার মানুষের জীবন যাত্রা স্থবির হয়ে যাবে। দ্রুত ব্রিজটি নির্মাণের দাবিও জানান স্থানীয় এলাকাবাসী।

আরও পড়ুন : সিলেট-তামাবিল মহাসড়ক : ৬৪ কোটি টাকা খরচ প্রতি কিলোতে!

এ ব্যাপারে ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল কদ্দুছ মন্ডল জানান, একটি নতুন ব্রিজের আবেদন নিয়ে বিভিন্ন দপ্তরে দৌঁড়ঝাপ করছি যেন এই এলাকার জনদুর্ভোগ দূর হয়। তবে এই মুহুর্তে ব্রিজটি সংস্কার না করলে যে কোন সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

দুর্ঘটনার ঘটনার পরপরই উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন সরকার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান, উপজেলা প্রকৌশলীসহ কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে গিয়ে মানুষ চলাচলের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহন করছেন।

উপজেলা প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান জানান, গতবছর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা সাময়িকভাবে মেরামত করেছিলেন। ইতিমধ্যে এই ব্রিজটি ভালোভাবে মেরামতের জন্য ২৫ লাখ টাকা বরাদ্ধ দিয়ে টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। আশাকরি, আগামী মাসের শুরুর দিকে কাজ শুরু করা যাবে।

ত্রিশাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, উপজেলা প্রকৌশলীর সাথে কথা বলে মেরামতের বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছি। তবে সাময়িকভাবে মানুষ চলাচলের উপযোগী করার জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ বিভাগের আরো সংবাদ

আবহাওয়া

%d bloggers like this:
%d bloggers like this: