বৃহস্পতিবার, ২৫ জুলাই ২০২৪, ০৩:৫২ পূর্বাহ্ন

তৃণমূল থেকে মত নিয়ে প্রার্থী দেবে আওয়ামী লীগ: শেখ হাসিনা

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট : শনিবার, ১৮ নভেম্বর, ২০২৩
তৃণমূল থেকে মত নিয়ে প্রার্থী দেবে আওয়ামী লীগ: শেখ হাসিনা

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের আওয়ামী লীগের প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে তৃণমূলের মতামত প্রার্থী নির্বাচিত করা হবে বলে জানিয়েছেন দলটির সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ তৃণমূল থেকে মত নিয়ে মনোনয়ন বোর্ড ও প্রার্থী নির্বাচিত করবে।

শনিবার (১৮ নভেম্বর) সকাল ১০টায় ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের মনোনয়নের জন্য আবেদনপত্র বিতরণ ও জমাদান কার্যক্রম উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, আওয়ামী লীগ দেশের সংবিধান মেনে চলে। আটটি বিভাগে দশটি নির্বাচনী ফরম সংরক্ষণের বুথ তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। ঢাকা আর চট্টগ্রামে দুটি বুথ থাকবে। আমরা বোর্ড আর তৃণমূলের মতামতের ভিত্তিতে প্রার্থী নির্বাচন করব।

শেখ হাসিনা বলেন, দেশবাসীর কাছে দোয়া চাই যেন সুষ্ঠুভাবে নির্বাচনটা হয়। অনেক আন্দোলন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে জনগণের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছি। আমরা চাই জনগণের এই ভোটের অধিকার অব্যাহত থাকবে এবং ভোটের মধ্যে দিয়ে সরকার পরিবর্তন হবে।

দেশবাসীকে উদ্দেশ্য করে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, আজকের দিনে আমাদের আহ্বান অনেক কষ্টে অর্জিত এই গণতান্ত্রিক ধারা যেন কেউ ব্যাহত করতে না পারে। ভোটের অধিকার, দেশবাসীর অধিকার। ভোট দিয়ে তারা তাদের পছন্দমতো নেতা নির্বাচন করবে, যারা সংসদে বসবে, আইন পাস করবে, রাষ্ট্র পরিচালনা করবে। এটা জনগণের অধিকার। জনগণের অধিকার যারা কেড়ে নিতে অগ্নিসন্ত্রাস করবে, জনগণই তাদের প্রতিরোধ করবে। আমি জনগণের কাছে সেই আহ্বান জানাই।

নির্বাচন বানচালের চেষ্টা প্রতিহত করার আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, নির্বাচন বানচাল করার যদি কেউ চেষ্টা করে, অগ্নিসন্ত্রাস অব্যাহত রাখে এর পরিণতি ভালো হবে না। যারা (নির্বাচন বানচালের চেষ্টা) করবে দেশের মানুষই তাদের শাস্তি দেবে। দেশের মানুষকে আমি সেই আহ্বান জানাচ্ছি।

বিএনপির প্রতি ইঙ্গিত করে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, যাদের মানুষের ওপর আস্থা নেই, বিশ্বাস নেই, দল হিসেবে সুসংগঠিত না, তারাই নির্বাচন বানচালের একটা চেষ্টা করে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, যারা নির্বাচন বানচাল করতে চায়, অগ্নিসন্ত্রাস করে, মানুষকে পুড়িয়ে মারে… এত সুন্দর রাস্তাঘাট, মেট্রো রেল থেকে শুরু করে থার্ড টার্মিনাল সবকিছু করে দিয়েছি; এগুলো যারা ধ্বংস করতে যাবে আমি জনগণকে আহ্বান করব তাদের প্রতিরোধ করতে।

নির্বাচনে আসার সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী দলগুলোকে সাধুবাদ জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, যে সমস্ত দল নির্বাচনে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তাদের সাধুবাদ জানাই, ধন্যবাদ জানাই। কষ্টের অর্জিত গণতান্ত্রিক ধারা কেউ যাতে ব্যাহত করতে না পারে, সেই আহ্বান জানাচ্ছি।

জনগণের ওপর আস্থা না থাকা দলগুলো নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করছে মন্তব্য করে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, যাদের জনগণের ওপর আস্থা নাই, বিশ্বাস নাই, দল হিসেবে সুসংগঠিত না, তারাই নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করে যাচ্ছে।

শেখ হাসিনা বলেন, ২০১৩-১৪ সালে নির্বাচন ঠেকানোর নামে বহু মানুষকে অগ্নিসন্ত্রাস করে পুড়িয়ে মারা হয়েছে। এটা কোন ধরনের রাজনীতি? আমরা চাই, জনগণের ভোটের অধিকার অব্যাহত থাকবে। ভোটের মধ্য দিয়ে সরকার পরিবর্তন হবে।

তিনি বলেন, জাতির পিতাকে হত্যার পর রাতের অন্ধকারে বন্দুক নিয়ে ক্ষমতা দখলের পালা চলছিল। অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে, বৈধতা দেওয়ার জন্য জনগণের ভোট নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হয়েছে। এর বিরুদ্ধে আমরা আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি। আমাদের বহু নেতাকর্মী জীবন দিয়েছে, নির্যাতিত হয়েছে। কিন্তু আমরা জনগণের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছি। ২০০৯ থেকে এখন পর্যন্ত গণতন্ত্র অব্যাহত আছে বলে দেশের আর্থসামাজিক উন্নতি হয়েছে।

দলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রির বিষয়ে শেখ হাসিনা বলেন, যারা প্রার্থী হবেন তারা ফরম সংগ্রহ করবেন। আট বিভাগের জন্য দশটি বুথ তৈরি করে দিয়েছি। সংসদ সদস্যদের নম্বর বা সিরিয়াল অনুযায়ী ফরমগুলো সাজানো হবে। এভাবে প্রসেস করে মনোনয়ন বোর্ডে সেগুলো উপস্থাপন করা হবে। দলের সংসদীয় বোর্ডের মাধ্যমে প্রার্থীর যোগ্যতা, জনপ্রিয়তা দেখে, কার্যক্রম বিবেচনা করে মনোনয়ন দেওয়া হয়।

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, জন্মলগ্ন থেকেই আওয়ামী লীগ তার গঠনতন্ত্র মেনে চলে। দেশের সংবিধান মেনে চলে। আমাদের যারা প্রার্থী হবেন, তারা এখান থেকে ফরম সংগ্রহ করবেন। এছাড়া আট বিভাগে দশটা বুথ তৈরি করে দিয়েছি। এর মধ্যে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগে ২টি এবং বাকি বিভাগগুলোতে ১টি করে। মনোনয়ন ফরম সংগ্রহের পর সংসদীয় বোর্ড দারা প্রার্থীর যোগ্যতা যাছাই, জনপ্রিয়তা ও কার্যক্রম বিবেচনা করে মনোনয়ন দেওয়া হবে। গোটা বাংলাদেশে একটিই রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ সবসময় দলীয় কাজগুলো অত্যান্ত সুগঠিতভাবে সুন্দরভাবে করে থাকে। আমরা সবসময় আমাদের গঠনতন্ত্র মেনেই কাজ করি। যারাই প্রার্থী হোক সবাই যোগ্য, এতে কোনো সন্দেহ নেই, তবে সংসদীয় বোর্ড ও তৃণমূলের মতামতের ভিত্তিতে একজনকে নির্বাচিত করা হবে।

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এমন একটি সংগঠন, যে সংগঠনের জন্ম হয়েছিল দুঃখী মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়নের কথা চিন্তা করে। শোষিত-বঞ্চিত মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করার জন্য, ১৯৪৯ সালে এই সংগঠনের জন্ম। জন্মলগ্ন থেকে আওয়ামী লীগ তার গঠনতন্ত্র মেনে চলে, দেশের সংবিধান মেনে চলে, প্রতিটি কাজ অত্যন্ত সুচারুভাবে করে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ বিভাগের আরো সংবাদ

আবহাওয়া