শনিবার, ১৩ জুলাই ২০২৪, ০৫:৫৫ পূর্বাহ্ন

ঢাকার লক্কড়-ঝক্কড় গাড়ি আমাদের খুব লজ্জা দেয় : কাদের

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ২১ মার্চ, ২০২৪
ঢাকার লক্কড়-ঝক্কড় গাড়ি আমাদের খুব লজ্জা দেয় : কাদের

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

রাজধানী ঢাকায় চলাচল করা লক্কড়-ঝক্কড় গাড়িগুলো বাংলাদেশে উন্নয়নকে প্রশ্নবিদ্ধ করে বলে মন্তব্য করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

বৃহস্পতিবার (২১ মার্চ) রাজধানীর বনানীর বিআরটিএ’র সদর কার্যালয়ে আয়োজিত আসন্ন পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর ২০২৪ উদযাপন উপলক্ষে সড়কপথে যাত্রীসাধারণের যাতায়ত নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ করার লক্ষ্যে প্রস্তুতিমূলক সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, যখন বিদেশিরা বাংলাদেশে আসে এবং আমাদের লক্কর-ঝক্কর গাড়ি দেখে, তখন আমাদের খুব লজ্জা হয়। এগুলো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। পরিবহন মালিকদের এদিকে নজর দিতে হবে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, পরিবহন মালিক সমিতির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে, ঢাকার বাইরে থেকে ফিটনেস বিহীন গাড়ি ঢাকায় ঢোকে। আমি তো বলব বাইরে থেকে সিটিতে লক্কড়-ঝক্কড় গাড়ি কম আসে। বরং সিটিতেই অনেক লক্কড়-ঝক্কড় গাড়ির কারখানা আছে। আমি সেগুলো নিজের চোখে গিয়ে দেখেছি। ঈদের আগে সেগুলোতে রং লাগাতে দেখেছি, যে রং আবার ১০ দিনও থাকে না।

তিনি বলেন, আমি যখন রাস্তা দিয়ে চলি, তখন তিন চাকার গাড়ি রাস্তায় নেই। আমি যখন রাস্তা দিয়ে যাই না, তখন অহরহ চলতে থাকে। এখানে আমরা কতটা আন্তিরকভাবে চেষ্টা করছি? আমাদের হাইওয়ে পুলিশের পাশাপাশি বিআরটিএ এর সক্ষমতা যদি বাড়াতে না পারি, তাহলে আমরা যত ভালো সিদ্ধান্ত নেই, কার্যকর করা খুবই কঠিন। এটা হচ্ছে বাস্তবতা।

সেতুমন্ত্রী বলেন, অনেকদিন এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আছি। ঈদের প্রস্তুতিমূলক সভাও প্রতি বছরই আমরা করেছি। প্রস্তুতিমূলক সভায় যে সিদ্ধান্তগুলো হয়, সেগুলোর বাস্তবায়ন কতটা হয়েছে, পরবর্তীতে এর মূল্যায়নটা আমরা করি না। আমরা যে সিদ্ধান্ত নিলাম, সেটা বাস্তবে কতটা কার্যকর তা মূল্যায়ন করা উচিত।

তিনি আরো বলেন, দুর্ঘটনা নিয়ে আমাদের দুর্ভাবনা চলছে। এর দুর্ভাবনার শেষ নেই। দুর্ঘটনার জন্য কে দায়ী এটি নিয়ে নানা বিষয় আসে। এখানে থ্রি-হুইলার, মোটর সাইকেল, বেপোরোয়া চালনাও আছে। সবকিছু মিলিয়ে দুর্ঘটনা হচ্ছে। আমি সচিব সাহেবকে বার বার বলেছি, মূল বিষয়গুলোতে হাত দেওয়া দরকার। পদ্মা সেতু থেকে সরে যাওয়ার পর বিশ্বব্যাংকের কোনো প্রকল্প আমরা গ্রহণ করিনি। কিন্তু ইদানিং একটি প্রকল্প আমরা হাতে নিয়েছি। রোড সেইফটি প্রোগ্রাম। এই প্রোগ্রামটার বাস্তবায়ন দ্রুততার সঙ্গে করতে হবে। এই ব্যাপারে মনোযোগী হওয়ার জন্য আমি মন্ত্রণালয়কে বারবার বলেছি।

তিনি আরো বলেন, থ্রি-হুইলার ও মোটরসাইকেল এখন সড়কের সবচেয়ে বড় উপদ্রপ। এই বিষয়ে একটি নীতিমালা করা দরকার। জাতীয় সড়কে আমরা মোটরসাইকেল নিষিদ্ধ করেছি। কিন্তু বাস্তবে এটি কার্যকর হচ্ছে না। আমাদের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে হাইওয়ে পুলিশের সক্ষমতা আরো বাড়াতে হবে। হাইওয়ে পুলিশের যা জনবল আছে, তা যথেষ্ট নয়। এ দিয়ে সমস্যার সমাধান হবে না।

তিনি বলেন, ঈদের সময় ফেনী থেকে হানিফ ফ্লাইওভার আসতে যে সময় লাগে তারচেয়ে বেশি সময় লাগে হানিফ ফ্লাওয়ার থেকে সিটিতে বাস আসতে। এখানে একটা সমস্যা আছে ভিতরে। এখানে মাঝে মধ্যে আড়াই ঘণ্টা পর্যন্ত যানজট থাকে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, আরেকটা বিষয় বলতে চাই, ঈদের আগে দেখি সড়কে মৃত্যু কম থাকে। ঈদের পর সড়ক দুর্ঘটনা ও মৃত্যুর হার বেড়ে যায়। তাই ঈদের পর সড়কে নজরদারি বাড়াতে হবে। দুর্ঘটনার জন্য কারো উপর দোষ না চাপিয়ে আপনাদের যার যার দায়িত্ব পালন করা উচিত।

চাঁদাবাজি আপনার বন্ধ করতে পারবেন উল্লেখ করে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী বলেন, হঠাৎ করে চাঁদাবাজি বন্ধ করা যাবে না। হয়তো নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন। এটা হচ্ছে অনেকটা দুর্নীতির মত। তাই আমি বলব নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসতে হবে। কারণ চাদাবাজির প্রভাব দ্রব্য মূল্যের উপরে পড়ে। আর অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধের বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিতে হবে।

সভার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ওবায়দুল কাদের বলেন, প্রতি বছরই প্রস্তুতিমূলক সভা হচ্ছে। প্রস্তুতিমূলক সভায় যে সিদ্ধান্তগুলো হয় সেগুলো কতটুকু বাস্তবায়িত হচ্ছে। এটা মূল্যায়ন করা হচ্ছে না। দুর্ঘটনা নিয়ে আমাদের দুর্ভাবনা চলছে। আমি সচিব সাহেবকে বারবার বলেছি মূল বিষয়গুলোতে হাত দেওয়া দরকার।

সড়ক দুর্ঘটনা ও সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পদ্মা সেতু থেকে সরে যাওয়ার পর বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়ন কোন প্রকল্প গ্রহণ করিনি। কিন্তু ইদানিং একটা প্রকল্পে গ্রহণ করেছি। এ প্রকল্পের বাস্তবায়ন দ্রুত করতে হবে। এ ব্যাপারে মনযোগী হতে সচিব সাহেবকে আমি বারবার বলেছি।

সড়কের সবচেয়ে বড় উৎপাত তিন চাকার গাড়ি উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এখানে একটা নীতিমালা করা দরকার। আই এম সরি টু সে, আমার মনে হয় আমাদের সীমাবদ্ধতার কারণে যে কোন সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন হয় না। হাইওয়ে পুলিশের ক্ষমতা আরো বাড়াতে হবে। ২২টি সড়কে তিন চাকার যান নিষিদ্ধ। কিন্তু এসব সড়কে তিন চাকার যান চলছে। হাইওয়ে পুলিশ ও বিআরটিএর সক্ষমতা বাড়াতে না পারলে আমরা যত সিদ্ধান্তই নিয়ে তা কার্যকর করা কঠিন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ বিভাগের আরো সংবাদ

আবহাওয়া