রবিবার, ১৪ জুলাই ২০২৪, ১১:৩০ অপরাহ্ন

ঢাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা : মেয়র তাপস

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট : বুধবার, ৫ জুলাই, ২০২৩
ঢাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা : মেয়র তাপস

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

রাজধানীর জলাবদ্ধতা নিরসনে মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস।

বুধবার (৫ জুলাই) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে হোটেল সোনারগাঁওয়ের পেছনে হাতিরঝিলের পানি নিষ্কাশন যন্ত্র পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন, ঢাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে যেতে হবে। তা না হলে আমরা সাময়িক সময়ের জন্য এলাকাবাসীকে সুফল দিতে পারলেও, দীর্ঘমেয়াদি সুফল দিতে পারব না।

মেয়র বলেন, আমরা ঢাকাবাসীকে জলাবদ্ধতা থেকে মুক্ত রাখতে চাই। এজন্য ঢাকা ওয়াসা থেকে খাল এবং নর্দমা সিটি করপোরেশনকে হস্তান্তর করার পর ব্যাপক কার্যক্রম হাতে নিয়েছি। আমরা যেমন নিয়মিত বার্ষিকভিত্তিতে সেগুলো পরিষ্কার করছি, তেমনি নিজস্ব অর্থায়নে ১৩৬টি স্থানে অবকাঠামো নির্মাণ করেছি, জলাধারের আয়তন বৃদ্ধি করেছি। তারপরও আমরা লক্ষ্য করেছি, গত ঈদুল আজহার সময় যে বিপুল পরিমাণ বৃষ্টি হয়েছে, তাতে ঢাকার কিছু কিছু জায়গায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। যা দীর্ঘক্ষণ ছিল। এ সমস্যাকে সমাধান করার জন্য আমরা কয়েকটি জায়গা পরিদর্শন করব। তার মধ্যে প্রথম আমরা আজকে সোনারগাঁও হোটেলের পেছনে যে জলাধার রয়েছে সেটি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য রাজউক এবং ওয়াসা কর্তৃক নির্মিত ‘স্ট্রং সুয়ারেজ ডাইভার্সন স্ট্যাকচার’ (এসএসডিএস) পরিদর্শনে এসেছি।

তিনি বলেন, এই এসএসডিএসের কারণে পান্থপথ বক্স কালভার্ট দিয়ে পানি নিষ্কাশনের বা প্রবাহের যে গতিধারা, সেটি রোধ হয়ে গতি কমে যাচ্ছে বলে আমাদের কাছে মনে হয়েছে। এজন্য আমরা সরেজমিনে এটি পরিদর্শনে এসেছি। কারণ পান্থপথ বক্স কালভার্ট দিয়ে একটি বৃহৎ অঞ্চলের পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

মেয়র তাপস বলেন, এখানে তিনটি স্লুইস গেটের মতো রয়েছে। এর একটিও যদি বন্ধ থাকে, বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে, তাহলে পানিপ্রবাহের গতি হারায়। ফলে কাঁঠালবাগান, গ্রিন রোড এবং ধানমন্ডি ২৭ পর্যন্ত জলাবদ্ধতা বিস্তৃত হয়। এজন্য আমাদের সুদূরপ্রসারী এবং দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থাপনায় আসতে হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে শেখ ফজলে নূর তাপস আরো বলেন, আমরা দায়িত্ব নিয়েছি মাত্র দুই বছর হয়েছে। এর মধ্যে আমরা ঢাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে স্বল্প মেয়াদি কার্যক্রম নিয়েছি। এখন আমরা মধ্যম মেয়াদি এবং দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনায় যাবো। এর জন্য এসব অবকাঠাগুলোর সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা এবং পরিকল্পনার প্রয়োজন রয়েছে। যাতে এর কোনো ক্ষতি না হয় এবং সুষ্ঠুভাবে কার্যকর হয় সেটি আমাদের নিশ্চিত করতে হবে।

এডিস মশার প্রজননস্থল কিংবা লার্ভা পাওয়া যেতে পারে এমন স্থান ও স্থাপনার তথ্য দিয়ে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ঢাকাবাসীর দায়িত্বশীল সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি বলেন, তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করলে ১৫ মিনিটেই কর্পোরেশনের মশককর্মী সংশ্লিষ্ট স্থানে পৌঁছে মশার লার্ভা ধ্বংসের উদ্যোগ গ্রহণ করবেন।

মেয়র বলেন, আমি বারবার বলেছি, আবারও ঢাকাবাসীকে বিনীত অনুরোধ করছি, আপনারা যেখানে মনে করবেন যে লার্ভা পাওয়া যেতে পারে বা আশঙ্কা করবেন পানি জমে আছে তাই লার্ভা হতে পারে। তাহলে তা আমাদের জানান। জানানোর ১৫ মিনিটের মধ্যে আমাদের মশককর্মী, মশক সুপারভাইজারসহ গিয়ে সেই লার্ভা ধ্বংস করে, পানির আধার নষ্ট করে সেই জায়গা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে দেবে। আমাদের তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করুন। দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে আমাদের সহযোগিতা করুন। পানি কোথাও জমতে দেবেন না। পানির উৎস ধ্বংস করতে পারলে ডেঙ্গু রোগ থেকে মুক্ত হতে পারব।

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের পরিধি বৃদ্ধি করা হয়েছে জানিয়ে মেয়র তাপস বলেন, এবার ডেঙ্গু আগেই চলে এসেছে। যে সময় তীব্র দাবদাহ ছিল সেই সময়েও ডেঙ্গু রোগী পেয়েছি। অথচ সেই সময় হওয়ার কথা নয়। সে বিষয়গুলো আমরা আমলে নিচ্ছি, আমাদের কার্যক্রম বিস্তৃত করছি। ২০২১ সালে আমরা দুই মাসের কার্যক্রম নিয়েছি। সেটাকে বৃদ্ধি করে এখন আমরা চার মাসের কার্যক্রম নিয়েছি। আমরা সক্ষমতা বৃদ্ধি করছি। কার্যক্রমও বৃদ্ধি করছি। এমন কেউ বলতে পারবে না, কোনো ঠিকানা, কোনো রোগী, কোনো স্থাপনায় লার্ভার তথ্য দেওয়া হয়েছে কিন্তু আমাদের মশককর্মী যায়নি।

ডেঙ্গু রোগ নির্মূল করা যায় না বরং নিয়ন্ত্রণ করা যায় জানিয়ে মেয়র বলেন, ডেঙ্গু রোগ নির্মূল করা যায় না। পৃথিবীর কোনো দেশ করতে পারেনি। কিন্তু আমরা অনেকটা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়েছি। আপনারা যদি উন্নত দেশের সাথে তথ্য ও পরিসংখ্যান মিলিয়ে দেখেন, তাহলে দেখবেন অন্যান্য দেশের তুলনায় এখনও আমরা ভালো অবস্থানে রয়েছি। যদিও আমাদের মৃত্যুর হার বৃদ্ধি পাচ্ছে। মৃত্যু হার হ্রাস করতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে আরও নজর দিতে হবে। চিকিৎসা সেবার মান ও পরিধি আরও বৃদ্ধি করতে হবে। একজন রোগীও যেন আশঙ্কাজনক অবস্থায় না যায়, এ জন্য প্রাক যে কার্যক্রম ও চিকিৎসাসেবা, সেটা নিশ্চিত করতে হবে। তাহলেই মৃত্যুর হার কমাতে পারব।

শেখ তাপস বলেন, এডিস মশার যে বিস্তৃতি তা অন্যান্য দেশের তুলনায় আমাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। যদিও আমাদের বৃষ্টির পরিমাণ অন্য দেশের তুলনায় বেশি হয়েছে। এটা সামগ্রিক জলবায়ু পরিবর্তন, আবহাওয়ার বিরূপ আচরণ ও ভৌগলিক পরিবেশের কারণে এডিস মশা আমাদের দেশে বিস্তৃত হয়েছে, প্রজনন হার বৃদ্ধি করে চলেছে। সেটাকে রোধ করতে হলে সকলকে মিলে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

শেখ তাপস আরো বলেন, ঢাকা উত্তর সিটির অঞ্চলটা পরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠেছে। সেখানকার বনানী-গুলশানের সঙ্গে আমাদের তারতম্য রয়েছে। ওদের সাথে আমাদের মেলালে হবে না। বারিধারার সঙ্গে যদি মেলান তাহলে হবে না। উত্তরা রয়েছে, মিরপুর রয়েছে, সেখানে পরিকল্পিত নগরায়ণ হয়েছে। আমাদের এখানে পরিকল্পিত নগরায়ণ কম হয়েছে। এখানে জনসংখ্যা বেশি, জনসংখ্যার ভার বেশি। আমাদের এখানে ছোটখাটো স্থাপনা বেশি। প্রতিকূলতা বেশি।

সেই প্রতিকূলতা নিয়েই আমরা ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে রাখতে অনেকটা সক্ষম হচ্ছি। আমরা এসব প্রতিকূলতাকে অগ্রাহ্য করিনি। এ সব প্রতিকূলতা নিয়েই সেভাবে কর্মপরিকল্পনা সাজিয়েছি। এ জন্য আমরা প্রতিটি ওয়ার্ডে সকালে সাতজন বিকেলে ছয়জন নিয়োজিত করেছি। এ জন্য যে পরিমাণ কীটনাশক প্রয়োজন সে পরিমাণ কীটনাশক তাদের দেওয়া হয়েছে। যে পরিমাণ যান-যন্ত্রপাতি দরকার সে পরিমাণ যন্ত্র তাদের দেওয়া হয়েছে। সে পরিমাণ নিবিড় তদারকি আমরা করছি।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মিজানুর রহমান, সচিব আকরামুজ্জামান, প্রধান প্রকৌশলী আশিকুর রহমান, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী খায়রুল বাকের, প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা রাসেল সারবীন, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী, নির্বাহী প্রকৌশলী সফিউল্লাহ সিদ্দিক ভূঁইয়া, মিঠুন চন্দ্র শীল, ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম প্রমুখ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ বিভাগের আরো সংবাদ

আবহাওয়া