বুধবার, ২৪ জুলাই ২০২৪, ০৬:৩২ পূর্বাহ্ন

ঢাকার খালগুলো স্থায়ীভাবে দখলমুক্ত হবে : মেয়র তাপস

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট : বুধবার, ২০ ডিসেম্বর, ২০২৩
ঢাকার খালগুলো স্থায়ীভাবে দখলমুক্ত হবে : মেয়র তাপস

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস বলেছেন, খালের পাশে যেন জনগণ একটি উপভোগ্য নান্দনিক পরিবেশ পায় সে অনুযায়ী আমারা কাজ করছি। আগামী ২ বছর মেয়াদে প্রকল্পের কাজ শেষ হবে। আমরা আশাবাদী, এতে করে স্থায়ীভাবে খালগুলো দখলমুক্ত হবে।

বুধবার (২০ ডিসেম্বর) বংশালের নয়াবাজার এলাকায় ‘নয়াবাজার গণ-শৌচাগার’ উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

মেয়র তাপস বলেন, ওয়াসার কাছ থেকে হস্তান্তরের পর বাৎসরিক সূচি অনুযায়ী জানুয়ারি মাস হতে আমরা খাল এবং নর্দমা থেকে বর্জ্য ও পলি অপসারণ করে চলেছি। যাতে করে বর্ষা মৌসুমের আগেই সেগুলো পরিষ্কার হয় এবং জলাবদ্ধতা সৃষ্টি না হয়। এছাড়াও জিরানি, মান্ডা, শ্যামপুর ও কালুনগর খাল নিয়ে প্রধানমন্ত্রী আমাদের যে প্রকল্প পাস করে দিয়েছেন, সে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। জিরানি খালের ত্রিমোহনী হতে আমাদের কাজ শুরু হয়েছে।

তিনি বলেন, আমরা এখন পূর্ণরূপে খনন, বর্জ্য অপসারণ এবং সীমানা চিহ্নিতকরণ করছি। সীমানা নিশ্চিত করে আমরা সেখানে বেষ্টনী দিব। এ নিয়ে আমাদের পরামর্শকরা কাজ করেছেন। সেখানে হাঁটার পথ, সাইকেল চালানোর পথ, গণপরিসর সৃষ্টি, সবুজায়ন করা হবে। যাতে করে এলাকার জনগণ একটি উপভোগ্য নান্দনিক পরিবেশ পায়।

তাপস বলেন, প্রত্যেকটি ওয়ার্ডে যাতে একটি শৌচাগার নির্মাণ করা যায় সেটির ব্যবস্থা আমরা করছি। পরবর্তীতে তা আরও বাড়ানো হবে।

মেয়র তাপস বলেন, সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন কার্যক্রমে শৌচাগার অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। আমরা এলাকার মানুষ এবং যারা দূরদূরান্ত থেকে এখানে আসেন তাদের কথা চিন্তা করে এই শৌচাগারটি নির্মাণ করেছি। দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের জনবহুল এলাকাগুলো চিহ্নিত করেছি এবং সেখানে আমরা শৌচাগার নির্মাণ করার প্রকল্প হাতে নিয়েছি। ইতোমধ্যে আমরা এটাসহ নতুন করে ছয়টি ওয়ার্ডে শৌচাগার নির্মাণ করেছি এবং অন্যান্য ওয়ার্ডগুলোতে আমাদের কার্যক্রম চলছে।

নতুন ছয়টি শৌচাগার কোথায় কোথায় নির্মাণ করা হয়েছে গণমাধ্যমকর্মীদের এমন প্রশ্নের জবাবে মেয়র বলেন, ৫০ নাম্বার ওয়ার্ড যাত্রাবাড়ি, মগবাজার উড়াল সেতুর নিচে, ১৯ নাম্বার ওয়ার্ডসহ ছয়টি শৌচাগার উদ্বোধন করেছি এবং আরও পাঁচটি চলমান আছে। অন্যান্য ওয়ার্ডগুলোতে শৌচাগার নির্মাণ করার জন্য আমরা জায়গা খুঁজছি। দক্ষিণে আসার পর থেকে মোট ৩৬টি শৌচাগার চালু করেছি। অনেকগুলো দখল অবস্থায় ছিল, সেগুলো দখলমুক্ত করেছি। যেগুলো যত্রতত্রভাবে পড়ে ছিল সেগুলোকে নতুন করে চালু করেছি।

নগরের ভ্রাম্রমাণ শৌচাগারগুলো সরিয়ে ফেলার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে মেয়র বলেন, ভ্রাম্যমাণ শৌচাগার তেমন ভালোভাবে সেবা নিশ্চিত করতে পারেনি। এ জন্য আমরা ভ্রাম্যমাণ শৌচাগার বাদ দিয়ে নির্দিষ্ট স্থায়ীভাবে শৌচাগার নির্মাণ করার কার্যক্রম চালু রেখেছি।

ফুটওভার ব্রিজগুলোর ওপরের অংশে সাইনবোর্ডে ঢেকে থাকায় তৈরি হচ্ছে ভুতুড়ে পরিবেশ। এছাড়া এমন অবস্থায় বাড়ছে ছিনতাইকারীদের দৌরাত্ম্য। এ বিষয়ে মেয়র বলেন, আমাদের সবচেয়ে বড় অবকাঠামো হলো হানিফ উড়াল সেতু। সেটার দৈর্ঘ্য প্রায় ১১ কিলোমিটার। এই সেতু নির্মাণ করার পর থেকেই বিভিন্ন মহল সেটা দখল করে ফেলেছে।

আমরা সেটাকে আট ভাগে ভাগ করেছি এবং আমাদের পরামর্শকরা কাজ করছেন। সেখানে পথচারীর পারাপারসহ পারিপার্শ্বিক এলাকাবাসীর কি প্রয়োজন আছে এগুলো বিবেচনা করে আমরা সে জায়গায় চাহিদা পূরণ করবো ও সৌন্দর্য বর্ধন করবো। সেই সঙ্গে সাইনবোর্ড, পোস্টারগুলো স্থায়ীভাবে অপসারণ করা হবে।

খাল পরিষ্কার করার বিষয়ে মেয়র বলেন, যে-সব খালগুলো অপরিষ্কার আছে বর্ষা মৌসুমের আগেই সেগুলোকে স্থায়ীভাবে পরিষ্কার করে ফেলা হবে।

পরে মেয়র ব্যারিস্টার শেখ তাপস হাজারিবাগ এলাকার ১৪ ও ২২ নম্বর ওয়ার্ডে গরীব-দুস্থ জনগোষ্ঠীর মাঝে কম্বল বিতরণ করেন।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান, সচিব আকরামুজ্জামান, প্রধান প্রকৌশলী আশিকুর রহমান, ৪ নম্বর অঞ্চলের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আতাহার মিয়া, ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের মো. আব্দুল মান্নান, ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইলিয়াছুর রহমান, ২২ নম্বর ওয়ার্ডের আয়শা মোকাররম প্রমুখ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ বিভাগের আরো সংবাদ

আবহাওয়া