রবিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২২, ১১:২২ পূর্বাহ্ন

ঢাকার খালগুলো দিয়ে নৌযান চলার সুযোগ আছে : নৌ প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২০

নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, সমন্বিতভাবে সকলে মিলে কাজ করলে ঢাকার চারপাশের নদীগুলো শুধু নয়, ঢাকার ভেতরের খালগুলোও দখল ও দূষণমুক্ত করা সম্ভব। তিনি বলেন, আমরা যদি এই শক্ত অবস্থানটা ধরে রাখতে পারি, তাহলে ঢাকার চারপাশের খালগুলো আমরা দখলমুক্ত করতে পারবো এবং ঢাকার নদীগুলোকেও দূষণমুক্ত করতে পারবো।

বৃহস্পতিবার নদীর দুই পাড়ে উচ্ছেদকৃত স্থান পরিদর্শন, তুরাগ, বালু ও শীতলক্ষা নদীর তীরবর্তী স্থানে নদীর সীমানা পিলার নির্মাণ ও তীররক্ষা কার্যক্রম নৌপথে পরিদর্শনকালে একথা বলেন নৌ প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ঢাকা শহরের চারপাশের নদীগুলোর অবৈধ দখল আমরা মুক্ত করতে পেরেছি, আশা করছি সামনে দূষণমুক্ত করতেও সক্ষম হব। দূষণমুক্ত করতে প্রধানমন্ত্রী মাস্টারপ্ল্যানের চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছেন। এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে আমরা সমন্বিতভাবে কাজ করবো।

ঢাকার নদী ও খাল নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর মাস্টারপ্ল্যানের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এবং অধীনস্ত সিটি করপোরেশনগুলো, নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়, পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় প্রধানমন্ত্রীর এই মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়নে কাজ করছে। ঢাকার ভেতরের খালগুলো যেহেতু নদীগুলোর সঙ্গে যুক্ত আছে সেক্ষেত্রে খালগুলোর মাস্টারপ্ল্যানের মধ্যে চলে আসে। আমরা মনে করি আমরা যেহেতু দখলমুক্ত করেছি এবং সীমানা চিহ্নিতও করেছি, আমরা মাস্টারপ্ল্যানটা বাস্তবায়ন করতে পারলে নদীর দূষণমুক্ত পানি ও পরিবেশও আমরা রক্ষা করতে পারবো।

তিনি বলেন, গত দেড় বছরে ওয়াসা এবং সিটি করপোরেশনের সাথে আমাদের যে টাস্কফোর্সটি আছে, তার সভা আমরা করেছি। কিন্তু আমরা সবসময় পূর্ণ সহযোগিতা পাইনি। তবে এখন নবনির্বচিত মেয়র ফজলে নূর তাপস ব্যাপক কার্যক্রম হাতে নিয়েছেন, তাতে আমরা আশাবাদী। এই কাজে বিআইডব্লিউটিএ বা নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের যেকোনো ধরণের সহযোগিতা প্রয়োজন হলে আমার তা করতে রাজি আছি।

ঢাকা দক্ষিণের মেয়র একটি শক্ত অবস্থান নিয়েছেন। আমরা যদি এই অবস্থানগুলো ধরে রাখতে পারি, তাহলে আমি মনে করি ঢাকার চারপাশের খালগুলো আমরা দখলমুক্ত করতে পারবো এবং ঢাকার নদীগুলোকেও দূষণমুক্ত করতে পারবো।

ঢাকার খাল উদ্ধার সংক্রান্ত অপর এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মাস্টারপ্ল্যানটা করে দিয়েছেন সমন্বিত কাজ করার জন্য। অতীতে ঢাকার খালগুলোকে বিভিন্ন সরকার বন্ধ করে দিয়ে কালভার্ট করে দিয়েছে। যেটা ঢাকার জন্য দূর্যোগের একটা কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আজকে যদি আমরা এই খালগুলোকে সংরক্ষণ করতে পারতাম, এবং খালগুলোতে প্রবাহ নিশ্চিত করতে পারতাম, তাহলে আমি যে কথাটি কয়েকদিন আগেই বলেছি, ঢাকার ভিতর দিয়েও নৌযান চলা সম্ভব ছিল। আমরা যদি মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়ন করতে পারি, তাহলে শুধু ঢাকার চারপাশে নয়, ঢাকার ভিতর দিয়েও ছোট ছোট নৌযান চলার সুযোগ আছে।

গাজীপুরের টঙ্গি নদী বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করে নারায়ণগঞ্জ বন্দর ঘুরে ঢাকা নদীবন্দরের পাগলা ঘাটে এসে পরিদর্শন সমাপ্ত করেন তিনি। এ সময় যাত্রাবিরতিতে পূর্বাচলের হরদি বাজার এলাকায় গাছের চারা রোপণ করেন এবং পথিমধ্যে নৌ যানেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন প্রতিমন্ত্রী।

এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান কমডোর গোলাম সাদেক, সদস্য (অপারেশন) নুরুল আলম এবং সদস্য (প্রকৌশল) ড. এ কে এম মতিউর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

বর্ষামৌসুমে ঈদযাত্রার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নিরাপদ যাত্রীসেবা নিশ্চিত করতে আমরা নৌযান মালিক ও শ্রমিকদের সঙ্গে বৈঠক করেছি। বলেছি, কারো অব্যবস্থপনার জন্য কোনো ধরণের দুর্ঘটনার সৃষ্টি না হয়।

নদীর পাশে ডকইয়ার্ড সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে নৌ প্রতিমন্ত্রী বলেন, সীমানা আমরা নির্ধারণ করে ফেলেছি। ডকইয়ার্ড সরাতে সরকারের কাছে তারা কি ধরণের সুবিধা চায়, সে বিষয়ে প্রস্তাবনা আমরা চেয়েছি। সেই প্রস্তাবনার ভিত্তিতে আমরা কতোটুকু সহযোগিতা করতে পারবো সে বিষয়ে আমরা পরে আলোচনা করবো। তবে ডকইয়ার্ড এখান থেকে স্থানান্তর হবেই।

তিনি বলেন, নদীর চারপাশে ওয়াকওয়ে নির্মাণ, সার্কুলার যাত্রী পরিবহনসহ নদীকে নদীর রূপে ফিরিয়ে দিতে একটি সংশোধিত প্রকল্প হাতে নিয়েছি আমরা। প্রকল্পটি অনুমোদন পেলেই এই কাজগুলো পুরোদমে শুরু হবে।

বালু নদীর তীরে সরকারি স্থাপনার সরানো সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা সীমানা নির্ধারণ করে দিয়েছি। কে এখানে ঢুকলো না ঢুকলো এটা বিষয় নয়। সীমানার মধ্যে যখন আমাদের পরবর্তী কার্যক্রম শুরু হবে তখন আপনারা দেখবেন এটা সরকারের দখলে না দখলদারদের দখলে।

তিনি বলেন, বালু নদী সৌন্দর্যটা সবচে সুন্দর মনে হয়েছে আমার কাছে। দুই পাশে সবুজ একটা আবহ রয়েছে। আমরা ঠিক এই ধরণের একটা আবহ ঢাকার চারপাশে তৈরি করতে চাই। সেজন্য নদীর দুই পাড়ে আমরা হাজার হাজার বৃক্ষরোপন করছি। শুধু বৃক্ষরোপন নয়, সংরক্ষণও করছি যেন ভবিষ্যতে নদীর পাড়ে সবুজ একটা আবহ তৈরি হয়।
ঢাকার খালগুলো দিয়ে নৌযান চলার সুযোগ আছে : নৌ প্রতিমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক

নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, সমন্বিতভাবে সকলে মিলে কাজ করলে ঢাকার চারপাশের নদীগুলো শুধু নয়, ঢাকার ভেতরের খালগুলোও দখল ও দূষণমুক্ত করা সম্ভব। তিনি বলেন, আমরা যদি এই শক্ত অবস্থানটা ধরে রাখতে পারি, তাহলে ঢাকার চারপাশের খালগুলো আমরা দখলমুক্ত করতে পারবো এবং ঢাকার নদীগুলোকেও দূষণমুক্ত করতে পারবো।

বৃহস্পতিবার নদীর দুই পাড়ে উচ্ছেদকৃত স্থান পরিদর্শন, তুরাগ, বালু ও শীতলক্ষা নদীর তীরবর্তী স্থানে নদীর সীমানা পিলার নির্মাণ ও তীররক্ষা কার্যক্রম নৌপথে পরিদর্শনকালে একথা বলেন নৌ প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ঢাকা শহরের চারপাশের নদীগুলোর অবৈধ দখল আমরা মুক্ত করতে পেরেছি, আশা করছি সামনে দূষণমুক্ত করতেও সক্ষম হব। দূষণমুক্ত করতে প্রধানমন্ত্রী মাস্টারপ্ল্যানের চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছেন। এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে আমরা সমন্বিতভাবে কাজ করবো।

ঢাকার নদী ও খাল নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর মাস্টারপ্ল্যানের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এবং অধীনস্ত সিটি করপোরেশনগুলো, নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়, পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় প্রধানমন্ত্রীর এই মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়নে কাজ করছে। ঢাকার ভেতরের খালগুলো যেহেতু নদীগুলোর সঙ্গে যুক্ত আছে সেক্ষেত্রে খালগুলোর মাস্টারপ্ল্যানের মধ্যে চলে আসে। আমরা মনে করি আমরা যেহেতু দখলমুক্ত করেছি এবং সীমানা চিহ্নিতও করেছি, আমরা মাস্টারপ্ল্যানটা বাস্তবায়ন করতে পারলে নদীর দূষণমুক্ত পানি ও পরিবেশও আমরা রক্ষা করতে পারবো।

তিনি বলেন, গত দেড় বছরে ওয়াসা এবং সিটি করপোরেশনের সাথে আমাদের যে টাস্কফোর্সটি আছে, তার সভা আমরা করেছি। কিন্তু আমরা সবসময় পূর্ণ সহযোগিতা পাইনি। তবে এখন নবনির্বচিত মেয়র ফজলে নূর তাপস ব্যাপক কার্যক্রম হাতে নিয়েছেন, তাতে আমরা আশাবাদী। এই কাজে বিআইডব্লিউটিএ বা নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের যেকোনো ধরণের সহযোগিতা প্রয়োজন হলে আমার তা করতে রাজি আছি।
ঢাকা দক্ষিণের মেয়র একটি শক্ত অবস্থান নিয়েছেন। আমরা যদি এই অবস্থানগুলো ধরে রাখতে পারি, তাহলে আমি মনে করি ঢাকার চারপাশের খালগুলো আমরা দখলমুক্ত করতে পারবো এবং ঢাকার নদীগুলোকেও দূষণমুক্ত করতে পারবো।

ঢাকার খাল উদ্ধার সংক্রান্ত অপর এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মাস্টারপ্ল্যানটা করে দিয়েছেন সমন্বিত কাজ করার জন্য। অতীতে ঢাকার খালগুলোকে বিভিন্ন সরকার বন্ধ করে দিয়ে কালভার্ট করে দিয়েছে। যেটা ঢাকার জন্য দূর্যোগের একটা কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আজকে যদি আমরা এই খালগুলোকে সংরক্ষণ করতে পারতাম, এবং খালগুলোতে প্রবাহ নিশ্চিত করতে পারতাম, তাহলে আমি যে কথাটি কয়েকদিন আগেই বলেছি, ঢাকার ভিতর দিয়েও নৌযান চলা সম্ভব ছিল। আমরা যদি মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়ন করতে পারি, তাহলে শুধু ঢাকার চারপাশে নয়, ঢাকার ভিতর দিয়েও ছোট ছোট নৌযান চলার সুযোগ আছে।

গাজীপুরের টঙ্গি নদী বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করে নারায়ণগঞ্জ বন্দর ঘুরে ঢাকা নদীবন্দরের পাগলা ঘাটে এসে পরিদর্শন সমাপ্ত করেন তিনি। এ সময় যাত্রাবিরতিতে পূর্বাচলের হরদি বাজার এলাকায় গাছের চারা রোপণ করেন এবং পথিমধ্যে নৌ যানেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন প্রতিমন্ত্রী।

এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান কমডোর গোলাম সাদেক, সদস্য (অপারেশন) নুরুল আলম এবং সদস্য (প্রকৌশল) ড. এ কে এম মতিউর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

বর্ষামৌসুমে ঈদযাত্রার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নিরাপদ যাত্রীসেবা নিশ্চিত করতে আমরা নৌযান মালিক ও শ্রমিকদের সঙ্গে বৈঠক করেছি। বলেছি, কারো অব্যবস্থপনার জন্য কোনো ধরণের দুর্ঘটনার সৃষ্টি না হয়।

নদীর পাশে ডকইয়ার্ড সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে নৌ প্রতিমন্ত্রী বলেন, সীমানা আমরা নির্ধারণ করে ফেলেছি। ডকইয়ার্ড সরাতে সরকারের কাছে তারা কি ধরণের সুবিধা চায়, সে বিষয়ে প্রস্তাবনা আমরা চেয়েছি। সেই প্রস্তাবনার ভিত্তিতে আমরা কতোটুকু সহযোগিতা করতে পারবো সে বিষয়ে আমরা পরে আলোচনা করবো। তবে ডকইয়ার্ড এখান থেকে স্থানান্তর হবেই।

তিনি বলেন, নদীর চারপাশে ওয়াকওয়ে নির্মাণ, সার্কুলার যাত্রী পরিবহনসহ নদীকে নদীর রূপে ফিরিয়ে দিতে একটি সংশোধিত প্রকল্প হাতে নিয়েছি আমরা। প্রকল্পটি অনুমোদন পেলেই এই কাজগুলো পুরোদমে শুরু হবে।

বালু নদীর তীরে সরকারি স্থাপনার সরানো সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা সীমানা নির্ধারণ করে দিয়েছি। কে এখানে ঢুকলো না ঢুকলো এটা বিষয় নয়। সীমানার মধ্যে যখন আমাদের পরবর্তী কার্যক্রম শুরু হবে তখন আপনারা দেখবেন এটা সরকারের দখলে না দখলদারদের দখলে।

তিনি বলেন, বালু নদী সৌন্দর্যটা সবচে সুন্দর মনে হয়েছে আমার কাছে। দুই পাশে সবুজ একটা আবহ রয়েছে। আমরা ঠিক এই ধরণের একটা আবহ ঢাকার চারপাশে তৈরি করতে চাই। সেজন্য নদীর দুই পাড়ে আমরা হাজার হাজার বৃক্ষরোপন করছি। শুধু বৃক্ষরোপন নয়, সংরক্ষণও করছি যেন ভবিষ্যতে নদীর পাড়ে সবুজ একটা আবহ তৈরি হয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ বিভাগের আরো সংবাদ

আবহাওয়া

%d bloggers like this:
%d bloggers like this: