বৃহস্পতিবার, ২৫ জুলাই ২০২৪, ০৪:১৩ পূর্বাহ্ন

টানা বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে রাজধানীর বেশিরভাগ এলাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট : শনিবার, ১ জুলাই, ২০২৩
টানা বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে রাজধানীর বেশিরভাগ এলাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

প্রায় এক ঘণ্টা ধরে রাজধানীতে মুষলধারে বৃষ্টি হয়েছে। এতে ঢাকার বিভিন্ন অঞ্চলের অলিগলিতে হাঁটু পানি জমে গেছে। এই বেরসিক বৃষ্টি বাগড়া ফেলেছে ঈদ আনন্দে। কারণ বাসার সামনে পানি জমে থাকায় অনেকের পক্ষে ঘর থেকে বের হওয়া কষ্টকর হয়ে পড়েছে। ফলে ঈদের ছুটিতে যারা পরিবার নিয়ে ঘুরতে বের হওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন, তাদের অনেককেই সেই পরিকল্পনা বাতিল করতে হয়েছে।

প্রায় দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা স্থায়ী ছিল। টানা বৃষ্টির কারণে তলিয়ে গেছে রাজধানীর অলিগলি থেকে শুরু করে প্রধান সড়কসহ বেশিরভাগ এলাকা। তবে সড়কে যানবাহনের সংখ্যা কম থাকায় জলাবদ্ধতার কারণে যানজট দেখা দেয়নি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, টানা বৃষ্টির কারণে পুরান ঢাকার বংশাল, নাজিমুদ্দিন রোড পানির নিচে তলিয়ে গেছে। জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে ধানমন্ডি, মিরপুর ১৩, হাতিরঝিলের কিছু অংশে। আগারগাঁও থেকে জাহাঙ্গীর গেট যেতে নতুন রাস্তায়, খামারবাড়ি থেকে ফার্মগেট, ফার্মগেট-তেজগাঁও ট্রাক স্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকা, মোহাম্মদপুরের কিছু অংশ, মেরুল বাড্ডা, ডিআইটি প্রজেক্ট এলাকা, গুলশান লেকপাড় এলাকার সংযোগ সড়কের কয়েকটি স্থানে বৃষ্টির পানি জমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।

রামপুরার বাসিন্দা মো. মামুন বলেন, ঈদের ছুটি শেষ হয়ে যাচ্ছে। আগামীকাল থেকে অফিস খুলবে। বৃষ্টির কারণে গত দুদিন বাচ্চাদের নিয়ে বের হতে পারিনি। আজ সকালে আকাশ ভালো ছিল, পরিকল্পনা করেছিলাম সবাই মিলে বিকেলে ঘুরতে যাবো। কিন্তু বৃষ্টির কারণে আজও ঘুরতে বের হওয়া সম্ভব হলো না। বৃষ্টিতে ছেলেমেয়েদের এবারের ঈদ আনন্দই মাটি হয়ে গেলো।

রামপুরা কমিশনার গলির একটি বাসার বাসিন্দা মো. ইমন বলেন, কিছুদিন আগেই এই অঞ্চলের ময়লা পানির লাইন পরিষ্কার করলো। অথচ আজকের এই বৃষ্টিতে রাস্তায় হাঁটুসমান পানি জমে গেছে। ঘর থেকে বের হওয়ার উপায় নেই। এবারের ঈদে পাঁচদিন ছুটি পেলাম। কিন্তু ছেলেমেয়ে নিয়ে একদিনও ঘুরতে যাওয়া হলো না।

তিনি বলেন, ঈদের ছুটিতে ছেলেমেয়েদের আনন্দই সবচেয়ে বড় বিষয়। এবার বৃষ্টির কারণে ছেলেমেয়েরা আনন্দ করার সুযোগ পেলো না। ঘরের মধ্যে বন্দি থেকেই তাদের সময় কাটছে।

মিরপুর পাইকপাড়ার বাসিন্দা মো. মনির হোসেন বলেন, পরিকল্পনা ছিল আজ পরিবারসহ হাতিরঝিলে ঘুরতে যাবো। কিন্তু বৃষ্টির কারণে সেই পরিকল্পনা বাতিল করতে হয়েছে। বাসার সামনের রাস্তায় পানিতে টইটুম্বর। ঘর থেকে বের হওয়ার উপায় নেই।

খিলগাঁওয়ের বাসিন্দা মো. মিনহাজ বলেন, প্রতি বছর গাদা গাদা টাকা খরচ করে ঢাকার পানি নিষ্কাশন লাইন ঠিক করা হয়। কিন্তু একটু জোরে বৃষ্টি হলেই রাস্তায় পানি জমে যায়। তাহলে বারবার কী ঠিক করা হয়?

তিনি বলেন, বিয়ের পর এই প্রথম ঢাকায় ঈদ করছি। আমাদের চার বছরের একটা ছেলে আছে। কত পরিকল্পনা ছিল আজ ছেলেকে নিয়ে ঘুরতে বের হবো। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রমনা পার্ক, হাতিরঝিল যাওয়ার ইচ্ছা ছিল। ঘোরাঘুরি করে বাইরে খাবার খাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলাম। বাসা থেকে বের হবো, সেই সময় বৃষ্টি শুরু হলো। এখন বাসার সামনে হাঁটু পানি। ঘুরতে যাওয়া তো দূরের কথা, বাসা থেকে বের হওয়ার সুযোগ পেলাম না।

এদিকে হাতিরঝিলের রাস্তায় বিভিন্ন অংশে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় ফাঁকা সড়কে দুরন্ত কিশোররা জলকেলিতে মেতেছে। তাদের মধ্যে এক কিশোর জুবায়ের আহমেদ বলে, ফাঁকা রাস্তা তেমন গাড়ি চলছে না। এদিকে পানি জমে নদীর মতো হয়েছে তাই আমারা ফুটবল খেলছি। মাঝে মাঝে দুই একটা গাড়ি গেলে ঢেউয়ের মধ্যে লাফ দিচ্ছি আমরা।

পুলিশ প্লাজার সামনে থেকে লেকপাড় দিয়ে শাহজাদপুর যাচ্ছিলেন রিকশা চালক ইদ্রিস আলী। তিনি বলেন, হাতিরঝিলসহ গুলশান লেকপাড়ের রাস্তায় হাঁটু সমান পানি জমেছে। রিকশায় যাত্রী টানার সময় অন্য গাড়ি পাশ দিয়ে গেলে যাত্রীসহ আমি পুরোটাই ভিজে যাচ্ছি ঢেউয়ে।

কারওয়ান বাজারের পশ্চিম তেজতুরী বাজার এলাকায় জামে মসজিদের সামনে কোমর পানি হয়ে যায়। আশপাশের গলিগুলোও পানিতে তলিয়ে যায়। বেশিরভাগ বাসা-বাড়ির নিচতলায়ও পানি ঢুকে পড়ে।

যেসব এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা যাচ্ছে সেখানে ডিএনসিসির কুইক রেসপন্স টিম পাঠিয়ে সেসব এলাকায় ড্রেন পরিষ্কার করে পানি প্রবাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে। কোথাও পানি জমলে ‘সবার ঢাকা’ অ্যাপের মাধ্যমে ছবি তুলে লোকেশন উল্লেখ করে জানানোর জন্য নাগরিকদের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়।

এদিকে গত পাঁচদিন ধরে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চলছে টানা বৃষ্টি। এ সময়ে প্রতিদিনই সকালে যেন ‘নিয়ম করে’ শুরু হয় বৃষ্টি। বেলা বাড়ার সঙ্গে বাড়ে বৃষ্টির প্রবণতা। একপর্যায়ে তা রূপ নেয় মুষলধারে।

শনিবার (১ জুলাই) আবহাওয়ার অফিসের আবহাওয়াবিদ শাহীনুর রহমান জানিয়েছেন, সোমবার থেকে বৃষ্টিপাত কমতে পারে। সেই সঙ্গে বাড়তে পারে গরম।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ বিভাগের আরো সংবাদ

আবহাওয়া